৩১ ভাদ্র  ১৪২৬  বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

ব্রতদীপ ভট্টাচার্য: একটা ভুল প্রচার। যা কিনা ডেঙ্গু রোগীদের আরও মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, পেঁপে পাতায় প্যাপাইন নামক একটি পদার্থ থাকে, যা মানবদেহের রক্তে প্লেটলেট বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ায় খুবই উপকারী হতে পারে। সে বার্তাই সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে অপভ্রংশ হয়ে এখন হাতে হাতে ঘুরছে। আর তাতেই বাড়ছে বিপদ। প্যাপাইনের চক্করে ডেঙ্গু ধরা পড়তেই অনেক রোগী কাঁচা পেঁপে পাতা কচকচিয়ে খেয়ে ফেলছেন। এতে আরোগ্যের বদলে বিপর্যয় ঘটে যাচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ডেঙ্গু রোগীর পাকস্থলীতে গুরুতর গোলযোগ শুরু হয়ে যাচ্ছে। গ্যাসট্রাইটিস এমনকী আলসারও তৈরি হচ্ছে। রোগীর অবস্থা আরও করুণ হয়ে উঠছে।

বস্তুত এডিস মশার চেয়ে পেঁপে পাতাই এখন ডাক্তারবাবুদের কাছে বড় মাথা ব্যথার কারণ। গত কয়েক মাসে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে ডেঙ্গু। এবছরও ডেঙ্গুতে বেশ কিছু প্রাণহানি ঘটেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা জানিয়েছিলেন, সরকারি হিসেব অনুযায়ী জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত তিন হাজার। বর্ষা এখন চালিয়ে ব্যাট করছে, ফলে আগামী কয়েক দিনে সংখ্যাটা বাড়বে বই কমবে না। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে বোঝার উপর শাকের আঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইন্টারনেট লব্ধ পেঁপেপাতা সংক্রান্ত জ্ঞান।

[আরও পড়ুন: ‘গাফিলতি’তে রোগীমৃত্যু, প্রতিবাদে গড়িয়ার নার্সিংহোমে ভাঙচুর আত্মীয়দের]

হাবড়া ও বারাসত হাসপাতাল সূত্রের খবর, গত দু’মাসে এমন বহু রোগী মিলেছে যারা স্রেফ পেঁপেপাতা চিবিয়ে বিপদ বাড়িয়ে ফেলেছেন বহু গুণ। বৃহস্পতিবার হাবড়া হাসপাতালের সুপার শংকরলাল ঘোষ বলেন, “বুধবারই বছর পনেরোর একটি মেয়ে জ্বর নিয়ে ভরতি হল। রক্তপরীক্ষায় এনএসওয়ান ধরা পড়ল। কিন্তু চিকিৎসা শুরু হলেও অবস্থা খারাপ হতে থাকে। বমি আর বমি। শেষে বাড়ির লোকের মুখে জানা গেল, মেয়েটিকে গুচ্ছের কাঁচা পেঁপেপাতা খাওয়ানো হয়েছিল। ফলে আলসার হয়ে গিয়েছে। অনেক চেষ্টায় এখন বিপদ কেটেছে।” বারাসত হাসপাতালের সুপার সুব্রত বিশ্বাসের বক্তব্য, “অনেকে খামোকা পেঁপেপাতা খেয়ে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ডেঙ্গুর সঙ্গে গ্যাসট্রাইটিস কিংবা আলসার। এসব রোগীকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে যায়।”

এমতাবস্থায় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে রোগীর পরিজনদের বোঝানোর রাস্তায় নামা হয়েছে বলে সুব্রতবাবু জানান। আমজনতার মাথায় ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে যে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এধরনের কাজ করলে হিতে বিপরীত হবে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, একদিকে যখন ডেঙ্গু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে, তখন পেঁপেপাতা খেয়ে পেটে আলসার বা গ্যাসট্রাইটিস বাধালে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। বমি হতে থাকে। শরীর থেকে দ্রুত প্রচুর জলীয় পদার্থ বেরিয়ে মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে। কিন্তু পেঁপে পাতায় কি সত্যি কোনও উপকার হয় না?

[আরও পড়ুন: প্রকাশিত এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা, নাম বাদ গেল ১৯ লক্ষ মানুষের]

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা, ইন্টারনেটে ছড়ানো বার্তাটি আংশিক সত্য। একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছিল, প্যাপাইন প্লেটলেট বাড়াতে সাহায্য করে। এটাও সত্যি যে পেঁপেপাতায় প্যাপাইন মজুত। তাই বলে কাঁচা পেঁপেপাতা খাওয়াটা কোনও মতেই উপকারী নয়। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস বলেন, “গবেষণাটি আন্তর্জাতিকস্তরে এখনও স্বীকৃতি পায়নি। গবেষণা পর্যায়েই রয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে গণ্য হতে পারে না। আর কাঁচা পেঁপেপাতা ডেঙ্গুতে কোনওভাবেই খাওয়া উচিত নয়। মারাত্মক সমস্যা তৈরি হতে পারে।” চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তার সঙ্গে এ ধরনের ভুল তথ্য থেকে দূরে থাকার জন্য প্রচারও করা উচিত। না হলে এধরনের ভুল তথ্য ক্রমশ থাবা বসাতে থাকবে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং