Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
করোনা ভাইরাস

সামুদ্রিক মাছ নয়, করোনা ভাইরাসে সর্পযোগ প্রকাশ্যে আসতেই কেউটে-কালাচে আতঙ্ক

বাংলার সর্পকূল কী কী ভাইরাস বহন করছে, তা জানতে বিশদে পরীক্ষা প্রয়োজন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১২, ২০২০, ১৩:০৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১২, ২০২০, ১৩:০৮

options
link
সামুদ্রিক মাছ নয়, করোনা ভাইরাসে সর্পযোগ প্রকাশ্যে আসতেই কেউটে-কালাচে আতঙ্ক zoom

গৌতম ব্রহ্ম: হিমাচল, সিকিম, মিজোরাম, তামিলনাড়ু। এসব রাজ্যের দুর্গম অঞ্চলে সাপের বিষ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষার সুযোগ পেলেও নিজের রাজ্য বাংলায় তাঁরা অনুমতি পাননি। কিন্তু এটা যে কত জরুরি, করোনা ভাইরাসের চোখরাঙানি তা চোখে আঙুল দেখিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন এ রাজ্যের সরীসৃপ বিশেষজ্ঞরা। করোনার সঙ্গে সাপের কী সম্পর্ক?

সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের প্রধান উৎস হল চিনা কালাচ ও কেউটে সাপ। চিনারা এই দুই বিষধরকে খাবার হিসাবে গ্রহণ করে। চিনের ইউহান বাজারে এই দুই প্রজাতির সাপ বিক্রি হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৯এ ছড়িয়ে পরা করোনা ভাইরাসের ‘জেনেটিক স্টাডি’ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ভাইরাসের ‘ক্রাউন’ (যা দেখে ভাইরাসের পোষক বা ‘হোস্ট’ চেনা যায়) বলছে, করোনা ভাইরাসের ২০১৯এর অবতারটি সাপের থেকে এসেছে। প্রথমে বাদুর এবং সামুদ্রিক মাছকেই উৎস ভাবা হয়েছিল। কিন্তু, ভাইরাসের ‘ক্রাউন’ হিসাব পাল্টে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে দিয়েছে, সাপই এখন সম্ভাব্য প্রধান উৎস।

Advertisement

[আজও পড়ুন: দেশে করোনা ভাইরাস নির্ণয়ের পরিকাঠামোই নেই, চরম উদ্বেগে স্বাস্থ‌্যকর্তারা]

এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই কালাচ ও কেউটে সাপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আতঙ্কের ঢেউ এসে লেগেছে এই রাজ্যের। কারণ এ রাজ্যেও এই দুই প্রজাতির সাপ প্রচুর রয়েছে। আতঙ্ক বেড়েছে এক ভারতীয় নার্সের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরে। জানা গিয়েছে, ওই ভারতীয় নার্সের বাড়ি কেরলের কোয়াট্টামের এট্টুম্যানুরে। সৌদি আরবের ‘এআই হায়াত ন্যাশনাল হসপিটাল’-এ কর্মরত ছিলেন তিনি। করোনা আক্রান্ত ফিলিপাইন সহকর্মীর সেবার ভার ছিল তাঁর উপর। ভাইরাস তাঁর শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে। সেবিকার আরও চার সহকর্মীকে আলাদা করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁরাও কেরলের বাসিন্দা।

এই পরিস্থিতিতে করোনার সর্পযোগ নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে পশ্চিমবঙ্গে। সরীসৃপ বিশেষজ্ঞ বিশাল সাঁতরা জানিয়েছেন, এ রাজ্যে কালাচ ও কেউটে, গোখরো প্রচুর সংখ্যায় রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে কালাচ ও কেউটে এবং উত্তরবঙ্গে রয়েছে কৃষ্ণ কালাচ ও গোখরো। এরা কী কী ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস বহন করছে তা জানতে গেলে গবেষণা প্রয়োজন। এই সরীসৃপদের রক্ত ও ‘বাকল সোয়াব’ বা মুখের লালা সংগ্রহ করে ‘কালচার’ করা প্রয়োজন। হিমাচল প্রদেশ, সিকিম, মিজোরাম ও তামিলনাড়ুতে ইতিমধ্যেই এই নমুনাগুলি সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন বিশালরা। সঙ্গী হয়েছেন ব্রিটেনের ব্যাঙর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অনীতা মালহোত্রা।

[আজও পড়ুন: চিনা ভাইরাসের মোকাবিলায় প্রস্তুত কলকাতা, বেলেঘাটা আইডিতে খুলল বিশেষ ওয়ার্ড]

এ রাজ্যেও নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চেয়েছিলেন অনীতা-বিশাল। কিন্তু রাজ্যের বনদপ্তর রাজি হয়নি। বিশালের মত, দু’বছর আগে রাজ্যের পনেরোটা জেলা থেকে সাপের বিষ ও নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়েছিলাম। অনুমতি পেলে আজ সেই নমুনাগুলি চিনে পাঠিয়ে জেনে নিতে পারতাম আমাদের এখানকার কালাচ-কেউটেরাও এই মারণ ভাইরাস বহন করছে কি না। আর এক সর্পবিশারদ শিবাজি মিত্রও মনে করছেন, অবিলম্বে এই অনুমতি দেওয়া উচিত। বনদপ্তর কেন দরজা বন্ধ করে রেখেছে বুঝতে পারছি না। বিশালদের হয়ে আগে অনেকবার সওয়াল করেছেন সাপে কাটা চিকিৎসার প্রোটোকল প্রণয়নকারী ডা. দয়ালবন্ধু মজুমদার। তিনি জানিয়েছেন, “আমি বহু বছর ধরে বনদপ্তরকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বাঁকুড়া মেডিক্যালে একটি রিজিওনাল পয়জন সেন্টার খোলার অনুমতিও আদায় করেছি। কিন্তু সাপের বিষ, রক্ত, লালা সংগ্রহের জন্য তো সরীসৃপ বিশেষজ্ঞ চাই। বিশালরা যদি অনুমতি না পান তাহলে কাজ এগোব করে?

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.