বয়স মাত্র ৩৪। একজন ফুটবলারের কাছে যা এখনও সেরা সময়ের অংশ হতে পারত। অথচ সেই সময়েই বুট তুলে রাখতে হল ব্রাজিলের তারকা মিডফিল্ডার অস্কার দোস সান্তোস এম্বোয়াবা জুনিয়রকে (Oscar dos Santos Emboaba Júnior)। কারণ, ভ্যাসোভেগাল সিনকোপ (Vasovagal syncope)। মাঠের বাস্তবতায় যা ভয়ংকর ঝুঁকিপূর্ণ।

আরও পড়ুন:
ভ্যাসোভেগাল সিনকোপ: আসলে কী ঘটে শরীরে?
ভ্যাসোভেগাল সিনকোপ এমন এক অবস্থা, যেখানে শরীর হঠাৎই ‘ওভার-রিঅ্যাক্ট’ করে। কোনও ট্রিগারের প্রভাবে রক্তচাপ দ্রুত নেমে যায়, হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে পড়ে। ফলে মস্তিষ্কে রক্ত পৌঁছানো কমে যায়, আর মানুষ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ট্রিগারগুলো হল-
আরও পড়ুন:
- অতিরিক্ত শারীরিক চাপ
- দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা
- ডিহাইড্রেশন
- মানসিক চাপ বা উদ্বেগ
- সব থেকে বড় সমস্যা হল- এটা কখন হবে, তা আগে থেকে সবসময় বোঝা যায় না।
মাঠেই বিপদ
গত নভেম্বরে সাও পাওলো এফসি-র ট্রেনিংয়ের সময় ফিজিক্যাল টেস্ট দিতে গিয়ে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন অস্কার। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ধরা পড়ে তাঁর এই সমস্যা। একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য বিষয়টা শুধু অসুস্থতা নয়, কারণ ম্যাচ বা ট্রেনিংয়ের মাঝে যদি হঠাৎ জ্ঞান হারান, তা হলে গুরুতর আঘাত বা তার চেয়েও খারাপ কিছু ঘটতে পারে।

কেন এই রোগে খেলা চালিয়ে যাওয়া কঠিন?
ফুটবল মানেই দৌড়, গতি, শরীরের উপর লাগাতার চাপ। এই অবস্থায় ভ্যাসোভেগাল সিনকোপ থাকলে-
- যে কোনও মুহূর্তে ব্ল্যাকআউট হতে পারে
- মাথায় বা শরীরে গুরুতর চোট লাগার ঝুঁকি থাকে
- হার্টের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে
এই কারণেই চিকিৎসকরা সাধারণত এমন ক্ষেত্রে পেশাদার খেলা চালিয়ে যেতে নিষেধ করেন।
উজ্জ্বল কেরিয়ার, হঠাৎ থামা
অস্কারের ফুটবল যাত্রা শুরু সাও পাওলো এফসি থেকে। পরে চেলসির মাঝমাঠে তাঁর সৃজনশীলতা নজর কাড়ে বিশ্বজুড়ে। প্রিমিয়ার লিগ, ইউরোপা লিগ- সবই জিতেছেন। ২০১৪ সালের ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের সেই দুঃস্বপ্নের ম্যাচ, ব্রাজিল বনাম জার্মানি, ৭ – ১ হারের রাতে একমাত্র গোলটি এসেছিল তাঁর পা থেকেই। চিনে সাংহাই পোর্টের হয়েও সাফল্যের ঝুলি ভরিয়েছেন তিনি।

শরীরের কথাই শেষ কথা
অস্কার নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর মধ্যে এখনও খেলার ইচ্ছা এবং সামর্থ্য ছিল। এমনকী সাও পাওলো এফসি-এর সঙ্গে চুক্তির আরও দু’বছর বাকি ছিল। তবুও ঝুঁকি নেননি। কারণ স্পষ্ট, একটা ম্যাচ, একটা ট্রফির চেয়ে জীবন অনেক বড়।
ভ্যাসোভেগাল সিনকোপ অনেক সময় সাধারণ অজ্ঞান হওয়া বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে কঠোর শারীরিক পরিশ্রমে, এটি মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অস্কারের অবসর সেই সত্যিটাই মনে করিয়ে দিল- শরীর যখন সতর্কবার্তা দেয়, সেটাকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বজয়ের ৩ মাসের মধ্যে অধিনায়কত্ব যাচ্ছে সূর্যকুমারের, নেতৃত্বের দৌড়ে আপাতত ৩
-
দিল্লির পর বিহার, বিধ্বংসী আগুন হাসপাতালে, ঝলসে মৃত অন্তত ৪
-
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার হুমায়ুনের, অধীর, নওশাদের উদাহরণ তুলে আদালতে যাচ্ছেন এজেইউপি নেতা
-
সাতসকালে শওকত মোল্লার বাড়িতে এনআইএ হানা, তল্লাশির আগেই ‘পলাতক’ তৃণমূল নেতা
-
৪ জুন ২০২৬: মীন রাশির আজকের দিন