১২ আষাঢ়  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

শিশুর ঘনঘন বমি হলে অভ্যাস ভেবে অবহেলা করবেন না। এই লক্ষণের পিছনে লুকিয়ে শারীরিক সমস্যার নানা দিক তুলে ধরলেন আর এন টেগোর হসপিটালের বিশিষ্ট পেডিয়াট্রিশিয়ান্ট ডা. ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরি। শুনলেন সোমা মজুমদার।

সদ্যোজাত থেকে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের অন্যতম সমস্যা ঘনঘন বমি। বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার কারণও বটে। সমস্যা আরও গুরুতর যখন শিশু তার শরীরের সমস্যার কথা বুঝিয়ে বলতে পারে না। আবার অনেক সময় শিশু এক নাগাড়ে বমি করলেও অভিভাবকরা তেমন গুরুত্ব দেন না। এতে কিন্তু শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ সবসময় যে শুধুমাত্র খাওয়ার কোনও সমস্যার জন্যই বমি হতে পারে তা নয়। কোনও জটিল রোগের প্রকাশও হতে পারে। তাই খুদের এক নাগাড়ে বা মাঝে মাঝে বমির সমস্যা হলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

[ আরও পড়ুন: ব্যস্তজীবনে ফিট অ্যান্ড ফাইন থাকতে চান? রইল টিপস ]

বয়স ভেদে কারণ

সদ্যোজাত থেকে এক বছর বয়সে-শিশুর এক বছর বয়স পর্যন্ত সাধারণত খাওয়ার পর ঢেকুর না তোলার কারণে বমি হয়। এছাড়া বেশি খাওয়ার জন্য, দুধে এলার্জি থাকলে, বাচ্চার কানে ও ইউরিনারি ট্র্যাকে ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, জন্মগত হজমের সমস্যা থাকলে বমি হতে পারে। আবার কোনও সার্জিক্যাল কারণ থাকলে যেমন ইনটেসটিনাল অবস্ট্রাকশন, ম্যাল রোটেশন ইত্যাদির কারণেও বমি হয়। এছাড়া ব্রেনের সমস্যা যেমন, হাইড্রোক্যাফালাস, মেনিনজাইটিস, সেপটিসেমিয়া থেকেও শিশুদের বমি হতে পারে।

দুই থেকে ১০ বছর বয়সে- পেট খারাপ, গ্যাসট্রোএনটেরাইটিস, ফ্যারিংজাইটিস, কাশতে কাশতে বমি, অ্যাজমা, পেপটিক আলসার, ফাংশনাল ডিসলেপসিয়া বা অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে খাওয়ানো, কিডনির রোগ, কানে ইনফেকশন, প্যানক্রিয়াটাইটিস, লিভারের রোগ, অ্যাপেনডিসাইটিস সহ বিভিন্ন কারণে এই বয়সের বাচ্চাদের বমি হতে দেখা যায়। আবার শরীরে হরমোনের অভাবেও কিছু কিছু বাচ্চার বমি হয়। যে কোনও বয়সেই বাচ্চাকে বকলে বা কোনও মানসিক কারণ থেকেও অনেক সময় এমন সমস্যা হতে পারে।

সতর্ক হোন

এক মাসের শিশু বারো ঘণ্টার বেশি বমি করলে, দু বছরের কম বয়সি কোনও বাচ্চা একদিনের বেশি বমি করলে ও দু’দিনের বেশি সময় ধরে দু’বছরের বেশি বয়সের শিশুর বমি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

[ আরও পড়ুন: আচমকাই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ছেন যুবক-যুবতীরা, কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞের? ]

কী করবেন

  • বমি করতে করতে যাতে ডিহাইড্রেশন না হয়, সেজন্য অল্প অল্প করে ওআরএসের জল খাওয়াতে হবে।
  • বমি করার সময় বাচ্চার ঠিক মতো মূত্রত্যাগ হচ্ছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়াও বমির সঙ্গে মূত্রের বা ত্বকের রং, কিংবা শরীরে কোনও বিশেষ লক্ষণ দেখা দিয়েছে কি না সে বিষয়ে নজর দিতে হবে।
  • বার বার বমি করলে শিশুকে শক্ত কোনও খাবার না দেওয়াই উচিত। ওআরএস ছাড়া ফলের রস দিতে পারেন। তবে অবশ্যই তা কেনা ফলের রস নয়।
  • শিশুকে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘন ঘন বা অনেক দেরিতে খাবার খাওয়ানো অভ্যাস বন্ধ করতে হবে।
  • নবজাতকের ক্ষেত্রে খাওয়ার পর শিশুকে ঢেকুর তোলাতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, মাতৃদুগ্ধ পান করার পর বাড়ির অন্য লোকজন শিশুকে আদর করছে। এর ফলে বেশি ঝাঁকাঝাঁকির কারণে শিশু বমি করে দেয়। এ জন্য শিশুর মাতৃদুগ্ধ খাওয়া শেষ হলে তাকে সোজা করে বেশ কিছুক্ষণ কোলে রেখে পেটের বাতাস বের করার সুবিধা করে দিতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে বিছানায় শুইয়ে দিলে বমির সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।
  • একটানা দীর্ঘ সময় ধরে বমি হলে শিশুকে সবসময় বিশ্রামে রাখুন।
  • সর্দির সমস্যা থাকলে তা নিরাময় জরুরি।
  • শিশুর অবস্থা বুঝে অবশ্যই ডাক্তারেরর পরামর্শ নিন।

পরামর্শে ৯০৫১৯৩৯৩৯৩

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং