একই ছাদের তলায় থাকছেন স্বামী-স্ত্রী, কিন্তু আলাদা করে নিচ্ছেন বিছানা। বাকি সারাদিন তাদের দেখা হচ্ছে, কথা হচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই। স্ত্রী যেমন রান্না করতেন দু’জনের জন্য, তাই করছেন। অন্যদিকে বাজার থেকে কিছু কিনে আনার থাকলে, স্বামী পালন করছেন সেই ভূমিকা। কেবল এক বিছানায় পাশাপাশি শুচ্ছেন না তাঁরা। সোশাল মিডিয়া একে এর অর্থে বিচ্ছেদের তকমাই দিচ্ছে। আর বিচ্ছেদের এই নয়া ধরন পশ্চিমের দেশগুলিতে ইতিমধ্যেই ট্রেন্ডিং।

আরও পড়ুন:
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাড়ছে ‘স্লিপ ডিভোর্স’-এর (Sleep Divorce) প্রবণতা। আজ্ঞে হ্যাঁ, সাধারণ বিরোধ নয়, সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এই প্রবণতার সোজাসুজি তুলনা করছেন ডিভোর্সের সঙ্গে। তবে বাস্তবিক বিবাহবিচ্ছেদ যেমন এক সম্পর্কের অন্তিম পরিণতিকে বোঝায়, স্লিপ ডিভোর্স তা নয়। বরং প্রায় ধসে পড়ে দাম্পত্যকে নতুন সুযোগ দেওয়ার জন্যই এই প্রয়াস।
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীয়ের মধ্যে যৌনতার অবকাশ কমে যায়। তাছাড়া একজনকে হয়তো সকালে উঠতে হয়, অন্যজন বিছানায় বসে রাত জেগেই অফিসের কাজ করে যান। অথবা ঘুমানোর সময় একজন হয়তো জোরে নাক ডাকে, অন্যজন দীর্ঘ সময় ফোন স্ক্রোল করে যায়। ফলে প্রতি পদে একজনের সঙ্গে অন্যজনের ছোট ছোট বিষয়ে মতপার্থক্য হয়। তাছাড়া ঘুমের ব্যাঘাতও ঘটে। ফলে মানুষ ধৈর্যহীন, চিড়বিড়ে মেজাজের হয়ে ওঠে। আর এতেই দ্রুত চিড় ধরতে থাকে সম্পর্কের দেওয়ালে।
আলাদা বিছানায় শোয়া সত্যিই সমাধান করতে পারে এমন সমস্যার। এতে দুই পক্ষই সারাদিনের ক্লান্তির পর শান্তির ঘুম ঘুমাতে পারে। মন শান্ত হয় তাতে। ঝগড়া থামিয়ে অন্যকে ক্ষমা করার জন্য মানসিক শান্তি অত্যন্ত জরুরি, জানাচ্ছেন মনোবিদরা। ফলে এই সামান্য দূরত্বে সঙ্গীর প্রতি টান বাড়ে বই কমে না। তাছাড়া যৌনতায় একেবারে দাঁড়ি পড়ে গেলে, একটা সময়ের পর হয়তো সম্পর্কে থাকা দু’জন মানুষই শারীরিক আকর্ষণ অনুভব করবেন নতুনভাবে।

স্লিপ ডিভোর্সের সুযোগ নিয়ে আরও একবার উদ্বেল করে তোলা যায় দু’জনের মাঝে থিতিয়ে পড়া আগুন, বলছেন সম্পর্ক বিশারদরা। সঙ্গী রাতে অন্য ঘরে থাকাকালীন, সন্তানদের থেকে লুকিয়ে নতুন করে তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া যেন মনে করিয়ে দেবে সম্পর্কের প্রথমদিকের দিনগুলি।
তবে স্লিপ ডিভোর্স যে ক্ষেত্রবিশেষে বিবাহবিচ্ছেদ উসকে দেয়, সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেন না মনোবিদরা। কিছু সময় আলাদা থাকাকালীন দুই পক্ষই অনুভব করে, যে এমন জীবনই চাইছেন তাঁরা যেখানে অন্যদিকের মানুষটির হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে কোনও সম্পর্ক যদি ‘ওয়ার্ক আউট’ না করে, তাহলে বচসাবিহীন বিচ্ছেদের পথও মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে নেহাত মন্দ হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ব্রাজিল ম্যাচের আগেই পানামার বিরুদ্ধে নামবে ভারত, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল ফেডারেশন
-
ঠিকভাবে উল্লেখ নেই রাস্তার নাম! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে ৭ দফা আপত্তি সিপিএমের
-
হাসপাতালে থাকতে নারাজ বিমান বসু, ফিরতে চাইছেন কলকাতায়! কবে ছুটি?
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?