৪ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

স্টাফ রিপোর্টার: ধর্মে ও জিরাফে থাকা বাঙালি স্মার্টফোনের যুগেও ভাইফোঁটা পালন করে রীতি-রেওয়াজ মেনেই। পাশাপাশি আবার রয়েছে আধুনিকতার ফিউশন। তাই বাড়িতে পাত পেড়ে খাওয়ার বদলে এখন রেস্তরাঁ কালচারের চলই বেশি। ফলে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার একদিন আগেই মহানগরের অধিকাংশ নামী-দামি রেস্তরাঁর টেবিল ‘বুকড’। ভাই-বোনের বাৎসরিক ‘খাই-খাই’ মনকে উসকে দিতে তারাও হাজির নানা রসনা নিয়ে।

[বাড়িতে বসেই দেখে নিন শহর ও শহরতলির বিখ্যাত কালীপুজো]

কাঁসার থালায় ধান, দূর্বা সাজিয়ে সাবেক মতে ভাইফোঁটা সারলেও ১২ পদের বাটি সাজিয়ে খাওয়াদাওয়ার চল এখন প্রায় নেই বললেই। ডাল, তরকারি, শাক, পাঁচ রকম ভাজা, নানা পদের আমিষ, চাটনি দিয়ে ভাইয়ের উদরপূর্তি এখন অতীত। বাঙালি এখন কর্পোরেট। কেতাদুরস্ত পাঞ্জাবি, কুর্তা বা ফ্যাশনেবল শাড়িতে অভ্যস্ত হলেও ভাইফোঁটা মানেই আর শুধু পোলাও, কোর্মা, পায়েসে আটকে থাকতে নারাজ ‘কসমোপলিটন’ কলকাতা। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই সাবেকিয়ানার পাট চুকেছে ভাইফোঁটার খাওয়াদাওয়ায়। আটপৌরে বাঙালি রান্নার বদলে ভাইদের এখন পছন্দ হরেক রকমের কুইজিন। চাইনিজ, কন্টিনেন্টাল, থাই ফুডের চাহিদা রয়েছে তুঙ্গে। পিছিয়ে নেই মোগলাই খানাও। ঘরোয়া রান্নার বদলে দেশ-বিদেশের নানা স্বাদকে চেখে দেখার উদযাপনে মাততেই পছন্দ এ প্রজন্মের ভাইদের। আর তাই গত কয়েকদিন ধরেই বোনেরা দেদার অনলাইনে দেখে নিয়েছেন ভাইফোঁটা উপলক্ষে শহরের কোন রেস্তরাঁয় কী বিশেষ মেনুর ব্যবস্থা রয়েছে। শুক্রবার সকালের মধ্যেই শহরের অধিকাংশ রেস্তরাঁয় সব টেবিল বুকড হয়ে গিয়েছে।

Chainese

শহরের পাঁচতারা হোটেলগুলিতেও শনিবারের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সমস্ত টেবিল বুক করে ফেলেছেন বোনেরা। স্মার্টফোনের প্লে স্টোরে নানা ধরনের অ্যাপ মারফতই দেখে নেওয়া যাচ্ছে কোন রেস্তরাঁয় কী মিলছে। ওই অ্যাপের মাধ্যমেই বাড়িতে বসেই নানা মুখরোচক খাবার অর্ডার করবেন বলেও প্ল্যান সাজিয়ে ফেলেছেন অনেকেই। ঠিক হয়ে গিয়েছে মেনুও। অনেকে আবার ভাইয়ের পছন্দের খাবার অর্ডার করে বাড়িতেও আনিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আমবাঙালির প্রথম পছন্দ চিনা খাবার তৈরিতে শহরের রেস্তরাঁগুলিতে ব্যবস্থা তুঙ্গে। শহরের বিভিন্ন চাইনিজ আউটলেট বিশেষ বুফে সাজিয়ে তৈরি থাকছে। চিকেন, ল্যাম্ব, ফিশ, প্রন, স্কুইড, কী নেই সেই তালিকায়। সঙ্গে কটেজ চিজ, বেবি কর্ন, ব্রকোলি, নানা ধরনের ফ্রায়েড রাইস, নুডলস-সহ বিবিধ নিরামিষ খাদ্যের রকমারি রেসিপির আয়োজন থাকছে।

[দিওয়ালিতে এই ৬ সংকেতই আপনার জীবনে আনবে সৌভাগ্যের বার্তা]

তবে এই দিনটায় যাঁরা ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বস্ত থাকেন, তাঁদের জন্যও রসনাবিলাসের আয়োজন করেছে বিভিন্ন বাঙালি খাবারের রেস্তরাঁ। মোহনপুরী থেকে শুরু করে হিং, আলু, ফুলকপির মালাইকারি, সরষে ইলিশ, দই ইলিশ, প্রন কাটলেট, মটন ডাকবাংলো, লেবু-ধনেপাতা চিকেন, আম, আনারস, আমসত্ত্বের বাহারি চাটনির রসনা সন্ধানে বাঙালি রেস্তরাঁগুলিতে ভাইকে নিয়ে যাওয়া যেতেই পারে। মোগলাই খাবারের বিখ্যাত রেস্তরাঁগুলির মেনু কার্ডে বিশেষ রদবদল না হলেও পুরনো মেনুগুলিই গ্রাহক টানবে আশা প্রকাশ করছে কর্তৃপক্ষ।

e5a2345568a71afaaed4daf5aef6cede_featured_v2

মিষ্টিমুখ করাতে প্রস্তুত শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণের মিষ্টি প্রস্তুতকারকরাও। তৈরি হচ্ছে হরেক রকমের রকমারি মিষ্টি। দেওয়ালি, ভাইফোঁটার আবহে লাড্ডু, বরফির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে আইসক্রিম, কুকিজ, মাফিনের নানা ধরনের উপহার। সেই আদ্দিকালের স্ট্রবেরি, ভ্যানিলা, চকোলেট এমনকী বাটার স্কচ, কেশর পেস্তার ঘেরাটোপ কাটিয়ে বাঙালির আইসক্রিমেও বৈচিত্র এসেছে। জেন ওয়াই-এর এখন পছন্দ ফ্যাট ফ্রি আইসক্রিম। সুইস বা বেলজিয়াম চকোলেটের পাশাপাশি ব্লু বেরি, ক্র‌্যানবেরি, রোজমেরি, নলেন গুড়, রাবড়ি মালাই, কটন ক্যান্ডি, ব্ল্যাক কারেন্ট-সহ নানা এসেন্সের আইসক্রিম এখন বাজার মাতাচ্ছে।

ভাইফোঁটার উপহার হিসাবে নানান খাবার থেকে শুরু করে মিষ্টি, আইসক্রিমের সম্ভার নিয়ে আপাতত প্রস্তুত রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান আর আইসক্রিম পার্লারগুলি। এখনই শুধুই আজ রাত পোহানোর অপেক্ষা।

p533-14967358215936604d0e24d

রসনাতৃপ্তির কয়েকটি ঠিকানা –

  • আমি বাঙালি – বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট (ফোন – ০৩৩ ৪০৬২৫০৫০)
  • ভজহরি মান্না – ধর্মতলা (ফোন – ০৩৩ ২২৩১২৯৬৫), গড়িয়াহাট (ফোন – ০৩৩ ২৪৪০১৯৩৩), হাতিবাগান (ফোন – ০৩৩ ২৫৩৩৮৫১৯) সহ একাধিক স্থানে
  • মেনল্যান্ড চায়না – বাইপাস (ফোন – ০৩৩ ২২৫১৭০৩৪), বালিগঞ্জ (ফোন – ০৩৩ ২২৮৩৭৯৬৪)
  • বারবিকিউ নেশন – সল্টলেক (ফোন – ১৮০০১০৮৬০৬০)
  • পিটার ক্যাট – পার্কস্ট্রিট (ফোন – ০৩৩ ২২২৯৮৮৪১)
  • আউধ – দেশপ্রিয় পার্ক (ফোন – ০৩৩ ৩০৯৯০৪০৪)

[যে রূপে বাংলায় পূজিতা কালী তা কার ভাবনায় তৈরি জানেন?]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং