BREAKING NEWS

৭ বৈশাখ  ১৪২৮  বুধবার ২১ এপ্রিল ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

অলীক সুখের খোঁজে পাড়ি জমান লেপচাখা ও বক্সা দুর্গে

Published by: Sayani Sen |    Posted: August 26, 2018 1:42 pm|    Updated: August 26, 2018 1:42 pm

An Images

তিলক পুরকায়স্থ: আধুনিক জীবন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে প্রকৃতি ও পাহাড়ের টানে পাড়ি দিলাম লেপচাখা ও বক্সা দুর্গ দেখতে। কলকাতা থেকে ট্রেনে নিউ আলিপুরদুয়ার বা আলিপুরদুয়ার জংশন। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে রাজাভাতখাওয়া। এখান থেকে গাড়িতে। চেকপোস্ট থেকে অনুমতিপত্র জোগাড় করে চলুন জয়ন্তী পেরিয়ে সান্ত্রাবাড়ি। এরপর থেকে পদযুগলের ভরসায় চড়তে হবে ৬ কিলোমিটার সিনচুলা পাহাড়। নিজের ব্যাগ নিজেকেই বইতে হবে, তাই অপ্রয়োজনীয় জিনিস গাড়িতে বা জয়ন্তীর হোটেলে রেখে যান। পায়ে যেন অবশ্যই স্নিকার থাকে। জঙ্গলের গাছের ডাল কেটে চারটে ওয়াকিং স্টিক বানিয়ে ফেলা হল। শরীরের কষ্টকে পাত্তা না দিয়ে মনের আনন্দে পথ চলুন। পথ শোভা অতুলনীয়। কত গাছ, নাম না জানা ফুল, পাখি, ফল। পথে দেখলাম অপূর্ব সুন্দর ভ্রমরের বাসা। এক রেফাস-নেকড হর্নবিল দম্পতি চুপচাপ বসে,  আমাদের উপস্থিতি গ্রাহ্য করল না।

[জলের তলায় সিনেমার নিমোকে দেখতে চান? পাড়ি জমান এই দ্বীপে]

প্রায় ৪ কিমি চড়াই ভেঙে পড়ল ব্রিটিশের তৈরি ব্রিটিশ শাসিত বক্সা ফোর্ট, বক্সা ঝোরায় নিমজ্জমান। দুই-একটা ভাঙাচোরা সেল এখনও মাটির ওপরে আছে। বাকি সব ভ্যানিশ। অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের স্মৃতিচিহ্ন কেবল একটা মার্বেল ফলক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বক্সা দুর্গের পাশেই একটি হোমস্টে আছে। ঠান্ডা জলে স্নান করে, গরম গরম ডাল, ভাত, ডিমভাজা খেয়ে এক ঘণ্টা বিশ্রাম। তারপর আবার শুরু পাহাড় চড়া। যখনই হাঁপিয়ে উঠছি তখনই লজ্জা লাগছে দেখে যে, ছেলে-বুড়ো সবাই তো চলেছে, একজন তো ভারী গ্যাস সিলিন্ডার পিঠে বেঁধে আমাদের টপকে চলে গেল। আর কিলোমিটার দুই চলার পরে হঠাৎ করে এক অসাধারণ সবুজ ঘাসের বুগিয়ালে এসে রাস্তা শেষ হয়ে গেল।

[মুক্তির স্বাদ পেতে এবার পুজোয় আপনার গন্তব্য হোক মুক্তেশ্বর]

চতুর্দিকে বিশাল এক অ্যাম্ফিথিয়েটার, যার নীচে ৩,৫০০ ফিটের বিশাল এক খাদ। খাদের অন্য পাশে ভুটান পাহাড়। ডানে বিশাল বিশাল মহীরুহ, জঙ্গল ও নদীবেষ্টিত বক্সা টাইগার রিজার্ভ। থাকার মধ্যে গুটিকয়েক ঘর, দু’টি হোমস্টে- পেমা দ্রুকপা ও টেন্ডু দ্রুকপা-র। একটা ছোট মনাস্ট্রি, একটা ছোট্ট দোকান৷ পাওয়া যায় নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই। এরকম একটা জায়গাই কল্পনা করেছিলাম যেখানে বিদ্যুৎ নেই, আলো জ্বলে না, ফ্যান ঘোরে না ও মোবাইলের টাওয়ার নেই। জলের জন্য ঝরনা ও বৃষ্টির জল ভরসা। কিচ্ছু করার নেই,  এই অসম্ভব অনুভূতিটাই এক অলীক সুখের জগতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও পৌঁছে দেবে। মনে হবে স্বর্গ যদি কোথাও থাকে তবে তা এখানেই।

[পাঁচ-ছয় হাজার টাকা পকেটে থাকলেই ঘুরে আসতে পারেন এই জায়গাগুলি]

সন্ধ্যাবেলা আগুন ঘিরে গল্প জমল। রাতের মেনু খিচুড়ি, বাগানের স্কোয়াশ ভাজা ও ডিমভাজা। সবাই মিলে রান্নায় হাত লাগিয়েছি। বেশ বোঝা গেল তিব্বতিদের মধ্যে মাতৃতান্ত্রিক সমাজ বিদ্যমান। রাত্রিবেলা খাওয়াদাওয়া করে বুগিয়ালের ধারে কাঠের বেঞ্চিতে বসা। মে মাসে কী ঠান্ডা! টিমটিমে ভূতুড়ে আলোতে এক অপার্থিব পরিবেশ। একটাই শব্দ পাচ্ছি, সেটি নিরবচ্ছিন্ন ঝিঁঝির ডাক। মাথার ওপর এক স্বর্গীয় চাঁদোয়া। মনে হচ্ছে বিভূতিভূষণের শংকরের মতো যেন চাঁদের পাহাড়ে পৌঁছে গিয়েছি। লুব্ধক, কালপুরুষ, সপ্তর্ষিমণ্ডলকে নতুন করে চিনলাম। ধ্রুবতারা ছাড়া তো শহরে আর কিছুই চোখে পড়ে না।

[নিঝুম গঙ্গার পাড়ে সময় কাটাতে চাইলে ঘুরে আসুন ‘সিটি অফ লাইট’-এ]

সকালে উঠে মন ভাল হল উদিত সূর্য দেখে। বক্সা টাইগার রিজার্ভ তখন লালে লাল। হাতে সময় ছিল খানিকক্ষণ, বেরিয়ে পড়লাম পাহাড়ি পথে। ফিরে এসে আবার দুপুরবেলা খেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়া গেল। এবার আমাদের একজন সঙ্গী বাড়ল। মালকিনের চমৎকার ভুটিয়া কুকুরটি আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চলল। একরাশ স্মৃতি নিয়ে গাড়িতে বসে চললাম স্টেশনের উদ্দেশে।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement