নদী, জঙ্গলের মাঝে বাঘদর্শনের সাধ থাকে বহু পর্যটকের। তাই দু-একদিনের ছুটি পেলে বাক্সপ্যাঁটরা গুছিয়ে বহু পর্যটকই পাড়ি জমান সুন্দরবনে। লঞ্চে চড়ে নদী পরিদর্শনের সময় ভাগ্য সদয় হলে বাঘদর্শনের সুযোগ হয়। তবে এবার আর শুধু লঞ্চ নয়। হেলিকপ্টার থেকে দেখা যেতে পারে বাঘ। এমনই ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে বলেই জানালেন ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী। তাঁর এই কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজিত পর্যটকরা।
বর্তমান রাজ্য সরকার পর্যটনের উন্নয়নে জোর দিয়েছে। তাই নদী, জঙ্গলে ঘেরা সুন্দরবনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বিজেপি সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেটে সে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রবিবার সুন্দরবন পরিদর্শনে যান মিঠুন চক্রবর্তী। এদিন তিনি বলেন, “অনেক জায়গায় জু অর্থাৎ চিড়িয়াখানা থাকে। কিন্তু আমাদের এটা সুন্দরবন। এত সুন্দর একটা জায়গা। এখানে পর্যটকদের দেখার মতো চিড়িয়াখানা নেই। কারণ, এখানে সব থেকে বড় আকর্ষণ হল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। তার দর্শন হয়ে গেলেই তো সব দর্শন হয়ে গেল।” তিনি জানান, “সুন্দরবনে কৃত্রিম চিড়িয়াখানা করলে তার গুরুত্ব নষ্ট হবে। বাঘকে তার নিজের জঙ্গলেই দেখতে হবে।” এদিন মিঠুন চক্রবর্তী নতুন সরকারের নতুন ভাবনার কথা জানান। মিঠুন বলেন, “আমরা ভেবেছি আকাশপথে বাঘদর্শনের বন্দোবস্ত করা হবে। নীরবে উড়তে পারে এমন ছোট এয়ারক্রাফট বা ড্রোন-বেসড সিস্টেম বা কম শব্দের হেলিকপ্টার দিয়ে বাঘ দেখানোর পরিকল্পনা চলছে। যাতে বাঘের কোনও ক্ষতি না হয়।”
আরও পড়ুন:
পর্যটন শিল্পের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তাই ক্যানিং থেকে গদখালি পর্যন্ত রেললাইন তৈরি করারও কথা বলা হয়েছে। বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর বলেন, “পর্যটন শিল্প তৈরি করতে গেলে তার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব গুরুত্বপূর্ণ।” মিঠুনের সংযোজন, “গদখালি হচ্ছে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। গদখালি পর্যন্ত রেলের অনুমোদনও আছে। সেটা যদি হয়, তাহলে পর্যটকরা একটা নির্দিষ্ট জায়গায় এসে সেখান থেকে জলপথে সুন্দরবন টুর করবে। তাহলে পর্যটন শিল্পে বিপ্লব আসবে।” আইল্যান্ড থেকে টাইগার সাফারি করার পর মিঠুন আরও বলেন, “আইল্যান্ডে যাওয়ার পর যে আনন্দ পাবেন, সে আনন্দ অন্য জায়গায় পাবেন না। কেউ আপনাকে বিরক্ত করার নেই। দুই রাত ওখানে থাকলেন, প্রত্যেক সকাল-সন্ধ্যায় টাইগার সাফারি করলেন, ডলফিন সাফারি করলেন। তারপর হাট বসাব। সেখানেও গেলেন। রিলিজিয়াস টুর করে ফিরে গেলেন। ৩ দিনের একটা প্যাকেজ।” অর্থাৎ সুন্দরবনে থাকা-খাওয়া, জঙ্গল সাফারি, ডলফিন দেখা এবং ধর্মীয় স্থান ভ্রমণ নিয়ে একটা ৩ দিনের পূর্ণাঙ্গ টুরের কথা ভাবা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দু’দিনের চিরুনি তল্লাশির পরও অধরা আকাশ, রোলাহাটুর আগ্নেয়াস্ত্রই এখন গোয়েন্দাদের ‘ক্লু’
-
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যে দু’নম্বরে উঠে এল আমেরিকা, শীর্ষে চিন, ‘সম্পর্কের শৈত্যে’ কোথায় ভারত?
-
‘যতদিন সনাতনী পতাকা উড়বে, কেউ ভারতের ক্ষতি করতে পারবে না’, হুঙ্কার যোগীর
-
রাতে রাস্তায় বাস থাকলেই জরিমানা! তবে বাসমালিকদের স্বস্তি দিতে নয়া সিদ্ধান্ত অর্জুনের
-
পরপর বোমা ফেলল রাশিয়া, এবার যুদ্ধের আগুন ন্যাটোভুক্ত দেশে! জবাব দেবে সামরিক জোট?