বয়স ৯৫ ছুঁইছুঁই! তিনি এখনও সুস্থ। পরিবারের আপনজন। এরমধ্যেই এই বয়সে এসে নতুন করে গজিয়েছে দাঁত। আর তা দেখা মাত্রই দাদুর অন্নপ্রাশনের আয়োজন করে বসলেন নাতি-নাতনিরা। একেবারে ঘটা করে চলল আয়োজন। শুধু তাই নয়, মাছ , ডাল , ভাত , লাবরা , পটলের তরকারি আর পাঁপড় ভাঁজা দিয়ে পাত পেরে খেলেন অন্তত ১৫০ মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ার ২ ব্লকের টটপাড়া ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের খাতোপাড়া গ্রামের রায় পরিবারে। পরিবারের বিপুল আয়োজনে একেবারে খুশিতে ডগমগ নবীন চন্দ্র রায়।
নমিতা বর্মন বলেন, ”নাতি নাতনিরা অন্নপ্রাশন করতে চাইলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমাদের মধ্যে বুড়ো বয়সে দাঁত গজালে অন্নপ্রাশন দেওয়ার রীতি রয়েছে। সেই কারণে ছেলে মেয়েদের এই অন্নপ্রাশন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুন:
তবে তিনি একা নয়, দাঁত গজানোর ভাগিদারী পেয়েছেন ঠাকুমা ফুলকুমারি রায়ও । ঠাকুমাকেও এই উপলক্ষে টোপর পড়িয়ে মুখে ভাত দেওয়া হয়েছে। ব্যান্ডপার্টি, নতুন পোশাক, গলায় মালা, মাথায় মুকুট একেবারে অন্নপ্রাশনে যা যা আয়োজন হয় তার সবটাই করা হয়। যা দেখেশুনে তো রীতিমতো অবাক স্থানীয় মানুষজন। নরেন্দ্রবাবুর নাতি রাজীব রায় বলেন, ”আসলে ঠাকুরদার এই বয়সে নতুন দাঁত গজাবে তা আমরা কেউ ভাবতেই পারিনি। দাঁত গজানোর আনন্দে আমরা এই অন্নপ্রাশনের আয়োজন করেছি। ঠাকুরদার সঙ্গে ঠাকুমাকেও মুখে ভাত দেওয়া হয়েছে। একেবারে পুরোহিত ডেকে যেভাবে রীতি মেনে অন্নপ্রাশন হয় , সেভাবেই সবটা করা হয়েছে।” রাজীববাবু আরও বলেন, এই আয়োজনে পরিবারের সদস্যরা যেমন ছিলেন, তেমনই পাড়ার ১৫০ লোককে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, খাতোপাড়া গ্রামের নবীন চন্দ্র রায়ের দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে। ছেলে মেয়েদের ঘরে আবার রয়েছে নয়জন নাতি নাতনি। রেলের অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ডি কর্মী নবীন বাবু নিজেও খুব আমুদে ছিলেন। ১০/১২ দিন থেকে নাতি নাতনিদের নবীন বাবু বাম পাটিতে নীচের চাপায় একটি দাঁত গজিয়েছে বলছেন। কিন্তু প্রথম প্রথম কেউ বিষয়টিতে পাত্তা না দিলেও পরে এক নাতি দেখেন সত্যি তার চাপায় নতুন দাঁত গজিয়েছে! আর নতুন দাঁত গজানোর সত্যতা খুঁজে পাওয়ার পরেই বাড়ি শুদ্ধ লোকেরা হুলুস্থুল বাঁধিয়ে দেয়। নাতিরা আবদার করতে থাকে ঠাকুরদার অন্নপ্রাশন করতে হবে। অবশেষে দিন তারিখ দেখে সোমবার সেই অন্নপ্রাশন সম্পন্ন হয়।

নবীন বাবুর বড় মেয়ে নমিতা বর্মন এই উপলক্ষে বারোবিশা শালবাড়ি থেকে খাতোপাড়া গ্রামে পরিবার নিয়ে বাপের বাড়ি এসেছেন। তিনি বলেন, ”নাতি নাতনিরা অন্নপ্রাশন করতে চাইলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমাদের মধ্যে বুড়ো বয়সে দাঁত গজালে অন্নপ্রাশন দেওয়ার রীতি রয়েছে। সেই কারণে ছেলে মেয়েদের এই অন্নপ্রাশন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই উপলক্ষে সকলে খুব আনন্দ মজা করেছে। দারুণ খাওয়া দাওয়া হয়েছে।” তবে যাদের অন্নপ্রাশন তারা আর এখন তেমন কথা বলতে পারেন না। অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখে শুধু একজন অপর জনের দিকে মাথায় মুকুট নিয়ে তাকিয়ে দেখে আর মিটি মিটি হাসে। দুজনেই যে এই আয়োজনে খুব খুশি তা মিষ্টি হাসিতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন নবীন চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী ফুলকুমারি রায়।
সর্বশেষ খবর
-
ফের ভারতীয় নকশা চুরি! প্রাদার পর এবার অভিযুক্ত ‘রালফ লরেন’ ফ্যাশন ব্র্যান্ড
-
নেবে না ভারত, জেনেশুনেই ট্রফি দিতে আসেন নকভি! বিকল্প চেয়ে হরমনদের আবেদন খারিজ
-
সৌদি লিগের ভক্তদের নিষিদ্ধ করার ডাক রোনাল্ডোর, বিশ্ব রেকর্ড গড়েও কেন ক্ষুব্ধ আল নাসর তারকা?
-
চাঁদের কপালে ‘টিপ’! গণেশ চতুর্থীর রাতে আকাশে বিরল দৃশ্য আসলে কী?
-
নেপালের ধ্বংসস্তূপে কমপক্ষে ২০ দেহের হদিশ দিয়েছে ভারতের ‘সাম্বা’, কীভাবে কাজ করেছে চারপেয়ে?