উপদ্রবমুক্ত, নিশ্চিন্ত, নির্ঝঞ্ঝাট জীবন কারওরই নয়। বিপদ জীবনে যখন-তখন দেখা দিতে পারে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা করে এগোলে, সেই অযাচিত বিভ্রাট সামাল দেওয়া সম্ভব। আর এমার্জেন্সি ফান্ড সেই কাজটাই করে। সুতরাং এই ধরনের ফান্ডের উপযোগিতা প্রশ্নাতীত। বিশ্লেষণে সুব্রত পাল
এই লেখার শিরোনাম যদি সংক্ষেপে দিতে বলেন, তাহলে আমি নির্দ্বিধায় বলব ‘এমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করুন’। শুধুমাত্র এই চারটি কথায় যে ভাবনা ধরা পড়ছে, তা নিয়েই আজকের আলোচনা।
আরও পড়ুন:
এমার্জেন্সি বা বিপদের মুহূর্ত বলে কয়ে আসে না, তাই এর জন্য বছরের তিনশো পঁয়ষট্টি দিন ‘রেডি’ থাকতে হবে। আর্থিক আঙ্গিক থেকে দেখলে কখন আর কোন পরিস্থিতিতে হঠাৎ টাকা লাগবে, তা আগে থেকে বোঝা যায় না।
একটু অন্য দিক থেকে বিষয়টি দেখা যাক। দেখুন, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে প্রায় প্রতিটি ঘরে এখন বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা হয়ে থাকে। তথাকথিত পুরোনো জমানার সঞ্চয় ছেড়ে সাধারণ মানুষ এখন অ্যাক্টিভ বিনিয়োগের পথ বেছে নিয়েছেন। কারণটি সহজেই অনুমেয়। মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি, এডুকেশন ও হেলথকেয়ারের খরচ, এ সবের সঙ্গে লড়তে গেলে এমনই করতে হবে।
কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে আমরা সাধারণ ভাবে অসতর্ক, আর তা নিয়ে আলোচনা (আমার অভিজ্ঞতা বলছে) মানুষ এড়িয়ে যেতে চান। হঠাৎ যদি চাকরি চলে যায় কিংবা ব্যবসায় মন্দা দেখা যায়) অথবা আচমকা শারীরিক ভাবে যদি অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন কী হবে? আমাদের নিয়মিত আয় ব্যাহত হবে তো বটেই। কিন্তু খরচ তো চলতেই থাকবে। এই চ্যালেঞ্জের সামনে দঁাড়িয়ে আপনাকে আগেভাগে নেওয়া কিছু কৌশল ঢাল হিসেবে তৈরি করে রাখতে হবে। উদ্দেশ্য, আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ঠিকঠাক রাখা।
এই জন্য প্রতিটি পরিবারের মূল উপার্জনকারীর উচিত তাঁর আয় বা ইনকামের একটি অংশ সরিয়ে রাখা। ন্যূনতম ছ’মাস থেকে এক বছরের সংস্থান করে রাখতে হবে। বিগত দিনে কোভিডের সময় এর প্রয়োজনীয়তা আমরা প্রত্যেকে অনুভব করেছি। কিন্ত এত দিন পরেও মূল প্রশ্নটি থেকেই গিয়েছে–আমরা কত জন এর থেকে শিক্ষা নিয়েছি? কতজন এমার্জেন্সি ফান্ডের ব্যবস্থা করে রাখতে পেরেছি? অথচ আমাদের ফিনান্সিয়াল প্ল্যানের প্রধান ভিত্তি এই ধরনের সঞ্চয়। এর মাধ্যমে যে মানসিক শক্তি বৃদ্ধি হয়, তা অস্বীকার করা যায় না।
আধুনিক চিকিৎসার খরচ
বুঝতেই পারছেন, হেলথকেয়ার এক্সপেন্সের কথা বলছি। আমরা অনেকেই দেখেছি, কীভাবে সাধারণ মিডলক্লাস ফ্যামিলি আর্থিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে শুধুমাত্র চিকিৎসা খরচের ভারে। যদি প্রথম থেকে নিজের পরিবারের কথা মাথায় রেখে একটি ভাল মেডিক্লেম করে রাখেন, তাহলে চিকিৎসাজনিত খরচে আর্থিক অনটনে পড়বেন না। এর পাশাপাশি অসুস্থ ফ্যামিলি মেম্বারের ভাল চিকিৎসা হবে। এবং, আশা করা যায়, তিল তিল করে জমিয়ে রাখা অর্থ সুরক্ষিত থাকবে।
তবে এর সঙ্গে মনে রাখবেন, যদি অসুস্থ ব্যক্তি সাময়িক বা স্থায়ীভাবে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন, তখন পরিবার আবার নতুন করে আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত হবে। এখানে পার্সোনাল এক্সিডেন্টাল পলিসির কথা উল্লেখ করতে চাই। কিছু বিশেষ পলিসি আছে যা পরিবারকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
সব শেষে আসি উপার্জনকারী মানুষটির অকালমৃত্যুর সম্ভাবনায়। নিজের পরিবার আর্থিকভাবে স্তব্ধ হয়ে যাক, এমন কেউ চায় না। সেই জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে (অর্থাৎ আয়ের ২০ থেকে ২৫ গুণ) জীবন বিমা রাখা প্রয়োজন। একটি চেয়ারের সব কটি পা না থাকলে তা উল্টে পড়বে। সেই রকমই আর্থিক পরিকল্পনায়, সব এলিমেন্টগুলি একত্রিত থাকা দরকার। কোনও একটির অভাবে যেন পুরো প্ল্যান ভেস্তে না যায়।
কীভাবে করবেন?
আমি কয়েকটি বিশেষ পয়েন্ট বলছি:
১. শর্ট টার্ম ডেট ফান্ডস নিয়ে আপনারা জানেন, ‘সঞ্চয়’ এই নিয়ে নানা সময় আলোচনা করেছে। এগুলি আপনার অস্ত্র হতে পারে।
২. নিজের টাইম হোরাইজন বুঝে লিকুইড ফান্ড, আল্ট্রা শর্ট ডিউরেশন ফান্ড, মানি মার্কেট ফান্ড ইত্যাদি ব্যবহার করুন। স্বল্প সময়ের জন্য কাজে লাগবে, এই সবই ওপেন-এন্ড ডেট প্রকল্প।
৩. একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা এখানে রাখুন, এমার্জেন্সিতে কাজে লাগবে। সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে যা পান, তার তুলনায় রিটার্ন বেশি। লিকুইডিটির শর্ত খুব সহজ। তবে দীর্ঘ মেয়াদী টাকা এমন স্বল্প মেয়াদী ফান্ডে কখনও ফেলে রাখবেন না।
৪. বয়স, স্বাস্থ্য, খরচ ইত্যাদি বুঝে এমার্জেন্সি ফান্ডের পরিমাণ বা চরিত্র বদলাতে পারে। সর্বশেষ পরিস্থিতি কেমন, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। এই জাতীয় শর্তগুলি নিয়ে নিজের উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলুন।
সর্বশেষ খবর
-
সুদিন ফেরাতে আস্থা ‘দ্য নর্মাল ওয়ানে’, জার্মানির কোচ হিসাবে দায়িত্ব নিলেন ক্লপ
-
‘এবার কোর্টে দেখা হবে…’, নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়াতেই কাকে নোটিস পাঠালেন সায়নী?
-
‘সাবধান! ভুলেও অপরিচিতের সঙ্গে যাবে না’, বারুইপুর থেকে শিক্ষা নিয়ে সচেতনতার পাঠ হাওড়ার স্কুলে
-
৬০০-র বেশি ক্ষুব্ধ জনতার হামলা, একের পর এক বাড়িতে আগুন! ফের রণক্ষেত্র মণিপুর
-
বেঙ্গালুরু থেকে রাতে ফিরেছিল, সকালে বাড়ির কাছেই আমবাগানে পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ!