খুনই হয়েছিলেন মাইকেল থেকে মেরিলিন! ৫ বিশ্বখ্যাত তারকার রহস্যমৃত্যু ধামাচাপা দিয়েছে সরকার?
যুক্তি ও প্রমাণের অভাবে ইতিহাসবিদ, গবেষক ও বিশ্লেষকদের কাছে বহু স্বনামধন্য ব্যক্তিদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অন্ধকারেই রয়ে গিয়েছে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, এমন ঘটনার শিকার এমন পাঁচ কিংবদন্তি তারকাকে।
প্রথমে আসা যাক প্রয়াত কিংবদন্তি পপস্টার মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ঘটনায়। ২০০৯ সালে মাইকেলের মৃত্যুর খবরে তোলপাড় হয়েছিল গোটা বিশ্ব। তাঁর মৃত্যুর ঘিরে ঘনীভীত হয়েছিল রহস্য। শোনা গিয়েছিল, মাইকেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী তাঁর নিজস্ব চিকিৎসক। মোটা টাকার বিনিময়ে মাইকেলকে বিষ খাইয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন! যদিও উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের অভাবে দোষী সাব্যস্ত হননি মাইকেলের চিকিৎসক। বরং চিকিৎসাগত অবহেলার যুক্তি খাড়া করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
বব মার্লির মৃত্যুর নেপথ্যেও রয়েছে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। শোনা গিয়েছিল, 'সিআইএ' তাঁর বুটের ভিতর ক্যানসার সৃষ্টিকারী এমন কিছু রেখেছিল যার দরুণ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে মারণরোগ । প্রথমে বব মার্লির পায়ের আঙুলে ক্যানসারের প্রমাণ মেলে। আদালতের রেকর্ড বা বিশ্বাসযোগ্য ঐতিহাসিক গবেষণার কোনও তথ্য নেই। কিছু মানুষ মনে করেন তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে জনপ্রিয়তার কারণে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
মার্লিনের মৃত্যুতেও শোনা যায়, তাঁর কাছে গোপন সরকারি তথ্য থাকায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর টার্গেটে ছিলেন। ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেমন অ্যাম্বুলেন্সের আগেই পৌঁছেছিল 'সিআইএ'। এরপরই সব প্রমাণ গায়েব হয়ে যায়। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পরও মার্লিনের মৃত্যুর তদন্ত ফাইলে এখন ধুলোর আস্তরণ! 'এফবিআই' কিছু ফাইল পরে প্রকাশিত হলেও মার্লিনের ওপর নজরদারির তথ্য থাকলেও হত্যাকাণ্ড বা 'সিআইএ'-এর জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। সরকারি দাবি 'আত্মহত্যা'!
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বিশ্বব্যাপী শান্তি ও যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন সঙ্গীতশিল্পী জন লেনন। তাঁর তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন নজরদারি চালায় 'এফবিআই'। একশো পাতার একটি ফাইল সংরক্ষণ করেছিল। সেখানে নজরদারি রেকর্ডের উল্লেখ পাওয়া যায়। হত্যাকারী হিসেবে মার্ক ডেভিডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু, 'এফবিআই'-এর নির্দেশে হত্যা কিনা সেটা আজও বিচারাধীন!
আরও পড়ুন:
প্রিন্সেস ডায়না ছিলেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য। রাজপরিবার ও নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে সেই সময় ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। ১৯৯৭ সালে প্যারিসে এক গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়ে বহু বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বলা হয় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হয়েছে। বহু তদন্ত হলেও হত্যাকাণ্ড বা রাজপরিবারের ষড়যন্ত্রের দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি।