‘কৃষ্ণপ্রেমে মাতোয়ারা ভুবন’! ভারতের এই ৫ কৃষ্ণমন্দিরে এলে আকুল হয় ভক্তের হৃদয়
বেড়ানোর উদ্দেশ্য যদি হয় কেবলমাত্র ভক্তি, তবে অবশ্যই তালিকায় থাকুক ভারতের এই সকল কৃষ্ণ মন্দির। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে শ্রীকৃষ্ণের ভক্তরা।
গুজরাটের দ্বারকায় দ্বারকাধীশ মন্দির – ‘মহারাজ’ কৃষ্ণের আদিতম রাজত্ব মনে করা হয় দ্বারকাকে। তাই কৃষ্ণপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই মন্দির। আরব সাগরের তটে অবস্থিত দ্বারকাধীশ মন্দির অসামান্য স্থাপত্য কীর্তির উদাহরণ স্বরূপ মাথা তুলে রয়েছে। কাছেই রয়েছে গোমতী নদীও। চার ধাম যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এই মন্দির। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটক এখানে দর্শনের উদ্দেশে আসেন।
আরও পড়ুন:
উত্তর প্রদেশের বৃন্দাবনে বাঁকে বিহারী মন্দির – শ্রীকৃষ্ণের লীলাভূমি বৃন্দাবন, ভগবান বাঁকে বিহারী সেখানে যেন এক দুরন্ত কিশোর। মন্দিরটি ১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মন্দিরের স্থাপত্যে রাজস্থানি ও উত্তর ভারতীয় শৈলীর প্রভাব স্পষ্ট। এ মন্দিরের বিশেষত্ব হল, কৃষ্ণমূর্তির সামনে টাঙানো পর্দা কিছুক্ষণ অন্তর টেনে দেওয়া হয়। কারণ বিশ্বাস করা হয়, কৃষ্ণের স্বর্গীয় রূপের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব।
পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরে ইস্কন মন্দির – পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস’-এর অনুগামীরা। এই সংস্থার প্রধান শাখাটি মায়াপুরে অবস্থিত। মন্দিরে পূজিত হন শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। মনে করা হয়, এখানেই জন্ম হয়েছিল শ্রীচৈতন্যের। এখানে প্রতিদিন কীর্তন, ভজন ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গৌর পূর্ণিমা, জন্মাষ্টমী ও অন্যান্য কৃষ্ণভক্তি উৎসবে মন্দিরে ভিড় হয় পর্যটকদের।
কেরালার গুরুভায়ুরে গুরুভায়ুর মন্দির – এই মন্দির ‘দক্ষিণের দ্বারকা’ নামে পরিচিত। এখানে শ্রীকৃষ্ণের নাম গুরুভায়ুরাপ্পান। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত সমাগম ঘটে এখানে। ‘গুরুভায়ুর একাদশী উৎসব’ মন্দিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। হাতিদের নিয়ে বিশেষ মিছিলের আয়োজন করা হয় সেই সময়। শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরের বেশ কিছু কঠোর নিয়ম রয়েছে, যা মেনে চলতে বাধ্য প্রত্যেক দর্শনার্থী।
আরও পড়ুন:
উদুপি কৃষ্ণ মন্দির – কর্ণাটকের উদুপি রাজ্যে অবস্থিত এই মন্দিরটির সঙ্গে জুড়ে রয়েছে এক বিশেষ কাহিনী। ১৩০০ শতকে জনৈক মাধবাচার্য নির্মাণ করেছিলেন মন্দিরটি। সেখানে নিয়মিত শ্রীকৃষ্ণের পূজায় মেতে থাকতেন তাঁর একনিষ্ঠ ভক্ত কনকদাস। অবশেষে ভক্তের প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছিলেন ভগবান, কাছের এক জানলার কাছে দাঁড়িয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন। কানকানা কিন্দি অর্থাৎ এই বিশেষ রুপার জানলা দিয়েই তাই আজও ভক্তদের দর্শন করতে হয় শ্রীকৃষ্ণকে।