কান কার্পেটে প্রথমবার মায়ের হাত ধরে আরাধ্যা, ‘নীলপরী’ ঐশ্বর্যর পোশাকে লুকিয়ে কোন চমক?
একেবারে ছায়াসঙ্গীর মতো মায়ের হাত ধরে লাল গালিচায় অভিষেক। প্রথমবারেই বাজিমাত ঐশ্বর্যকন্যার।
সিল্ক শিফনের গাউনে মোহময়ী ঐশ্বর্য। সুইটহার্ট নেকলাইন। গাউনের উপরে ফুলেল ছোঁয়া। স্লিভলেস ওই গাউনের গলা থেকে পিছনের দিকে ঝোলানো উড়নি। যা একেবারে পিঠ ঢাকা। দাম মাত্র সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। সেলিব্রিটি স্টাইলিশ মোহিত রাই অতিরিক্ত সাজগোজে বিশ্বাসী নন। হালকা মেকআপ। খোলা চুল। ঐশ্বর্যের গাউনের সঙ্গে গয়নার আধিক্য নেই। কানে শুধু ঝোলা দুল। হাতে মানানসই হিরের আংটি।
আরও পড়ুন:
কানের মঞ্চে মায়ের সঙ্গে মেরুন গাউনে দেখা যায় আরাধ্যাকে। তার গাউনের সঙ্গে রয়েছে উড়নি। যা পিঠ ছুঁয়ে পিছনদিক দিয়ে নেমে মাটি স্পর্শ করেছে। মায়ের মতো হালকা মেকআপে নজর কেড়েছে আরাধ্যা। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক। খোলা চুল। মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে যেন সকলকে অবাক করে দেয় সে। নেটদুনিয়া আপাতত মা ও মেয়ের রূপের ছটায় ঘায়েল। তাঁদের দু'জনের সাজসজ্জা নিয়ে নানামহলে চলছে জোর চর্চা।
সবসময় মা ঐশ্বর্যর সঙ্গেই দেখা যায় আরাধ্যাকে। তা নিয়ে নানামহলে কাটাছেঁড়াও কম হয়নি। ঐশ্বর্যের বিরুদ্ধে মেয়েকে অতিরিক্ত আগলে রাখার কটাক্ষও শোনা যায়। ঠিক তেমনই বহু বছর ধরেই মায়ের সঙ্গে কানে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে আরাধ্যাকে। তবে একেবারে আত্মবিশ্বাসী তারকাকন্যা। ক্যামেরার সামনে যেন কিছুটা লাজুক। মায়ের সঙ্গে একেবারে জুড়ে জুড়ে ছিলেন মেয়ে। ‘লাইটস অন উইমেন’স ওয়ার্থ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন তাঁরা।
কানের আরও একটি লুকও ভাইরাল হয়েছে ঐশ্বর্যর। কাস্টমমেড রয়্যাল ব্লু বা স্যাফায়ার স্টোনের স্ট্রাইকিং গাউনে যেন মোহময়ী অভিনেত্রী। তাঁর 'রয়্যাল স্যাফায়ার গ্ল্যাম' লুকটি ইতিমধ্যে বেশ চর্চায়। ডিজাইনার অমিত আগরওয়াল আধুনিকতা এবং আভিজাত্যের ছোঁয়ায় গাউনটি তৈরি করেছেন। অনেকেই বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই সাজটি নাকি সেরা। একেবারে রাজকীয়। যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পেয়েছে।
আরও পড়ুন:
অমিত আগরওয়ালের তৈরি এই পোশাকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ক্রিস্টাল ভেইন এমব্রয়ডারি। প্রায় ১ হাজার ৫০০ ঘণ্টা ধরে গাউনের উপরের কাজটি করা হয়েছে। গাউনের কাঁধে ডানার মতো স্ট্রাকচার। যা লুক যেন আরও নাটকীয় করে তুলেছে। এই সাজে যেন ঐশ্বর্য নিজেই হয়ে উঠেছিলেন আলো, গতি আর রূপান্তরের প্রতীক। মেকআপেও রয়েছে বিশেষ ছোঁয়া। চোখে মায়াবী মেকআপ। গলায় নীল এবং সাদা পাথরের হার।
প্রতি বছর কানের মঞ্চেই নিজের ছাপ রেখে যান ঐশ্বর্য। এবার একটি প্রসাধনী সংস্থার গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে কানের লাল গালিচায় পা রাখেন ঐশ্বর্য। অমিত আগরওয়ালের দাবি, এবারেও যেন ঐশ্বর্য সাজ সকলের নজর কাড়ে, তাই লক্ষ্য ছিল। এই পোশাকই আত্মবিশ্বাসী ঐশ্বর্যকে করে তোলে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী। কানের লাল গালিচায় নীলচে ঐশ্বর্য। দু'য়ের সঙ্গত অন্য জাদু তৈরি করে। যা মুগ্ধ করেছে সকলকে।
অবশ্য এই প্রথমবার নয়। কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রত্য়েকবারই চমক দেন ঐশ্বর্য। কখনও বার্বি গাউনে, তো কখনও বেগুনি লিপস্টিক পরে নজর কেড়েছেন। বিতর্কের মুখেও পড়েন। ২০০২ সালে প্রথমবার কানের মঞ্চে পা রাখেন ঐশ্বর্য। সে বছরেই মুক্তি পায় সঞ্জয়লীলা বনশালির 'দেবদাস'। ব্লকবাস্টার ওই ছবির প্রিমিয়ার হয়। তারপর থেকেই বিখ্যাত প্রসাধনী সংস্থার গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে একাধিকবার কানের লাল গালিচায় পা রাখেন।