‘আয়ারাম-গয়ারামে’ই ভরাডুবি, দলের মালিকানা বাঁচাতে মমতার শেষ সম্বল রাজীব গান্ধীর ‘অস্ত্র’
জানেন ভারতীয় রাজনীতিতে ‘আয়ারাম-গয়ারাম’ এই শব্ধবন্ধের শুরুটা কোথায় থেকে?
আরও পড়ুন:
ঠিক ৫৯ বছর আগে হরিয়ানায় গয়া লাল নামের এক নেতার দলবদলের গল্প ভারতীয় রাজনীতিতে মিথ হয়ে রয়েছে। ১৫ দিনে তিন বার দল বদল করেছিলেন তিনি। কংগ্রেস থেকে জনতা পার্টি, ফের কংগ্রেস, আবার ৯ ঘণ্টার মধ্যে জনতা পার্টিতে। মাঝে কংগ্রেসে ফিরে আসার সময়ে দলের নেতা রাও বীরেন্দ্র সিংহ সাংবাদিক বৈঠকে গয়া লালকে স্বাগত জানাতে গিয়ে বলেন, “গয়া রাম এখন আয়া রাম।”
জেতার মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যে যোগ দেন জাতীয় কংগ্রেসে। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেন কংগ্রেস। এবার নাম লেখান, সংযুক্ত মোর্চায়। এখানেই শেষ নয়, সংযুক্ত মোর্চাও ত্যাগ করেন তিনি। ফিরে আসেন কংগ্রেসে। অর্থাৎ মাত্র ৯ ঘণ্টার মধ্যে ৩ বার দলবদল করেন গয়া লাল। এরপর গয়া লালকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস। দলের নেতা রাও বিজেন্দর সিং রসিকতা করে বলেন, 'গয়া রাম আব আয়া রাম হ্যায়।'
আরও পড়ুন:
এই আয়ারাম-গয়ারাম রাজনীতি রুখতেই ১৯৮৫ সালে দলত্যাগ বিরোধী আইন আনেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। তাতে স্পষ্ট বলা হয়, কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি দলত্যাগ করেন, তা স্বেচ্ছায় কোনও রাজনৈতিক দলের পদ ত্যাগ করেন, তাহলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হবে। যদি তিনি তাঁর রাজনৈতিক দলের জারি করা হুইপের বিপরীতে সদনে ভোট দেন বা ভোটদান থেকে বিরত থাকেন, তাহলেও সদস্যপদ বাতিল হতে পারে।
রাজীব গান্ধীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রাজনৈতিক অভিভাবক হিসাবে দেখেন। সেই রাজীবের আনা দলত্যাগ বিরোধী আইনই আজ মমতার দল বাঁচিয়ে দিতে পারে। অন্তত এখন যা পরিস্থিতি তাতে দলের নাম ও প্রতীক মমতার হাতে থেকে যেতে পারে। সেটা শুধু ওই রাজীবের দলত্যাগ বিরোধী আইনের সুবাদেই। কারণ ওই আইনেই বলা আছে, কোনও দলের জনপ্রতিনিধিরা দলত্যাগ করতেই পারেন। কিন্তু দলের মালিকানা ঠিক করবে দলের সংগঠনই।