মডেল থেকে কাউন্সিলর, অরূপ-ঘনিষ্ঠ হতেই সম্পত্তি বেড়ে ১০ গুণ! বিতর্কের আরেক নাম অনন্যা
অরূপের সান্নিধ্য পাওয়ার পরই রকেটের গতিতে উত্থান হয়েছে অনন্যার।
অনন্যার পড়াশোনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতক পাশ করার পর বেশ কিছুদিন বিমান সেবিকা হিসেবে কাজ করেন তিনি। একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় জেতার পর মডেলিংয়ে হাতেখড়ি। অভিনেত্রী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সে অর্থে কাজ পাননি। এরপর অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিয়ে-সংসার। ২০১০ সালে স্বামীর হাত ধরেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন অনন্যা। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ব্যক্তিগত জীবনে ঝড় উঠলেও কেরিয়ার এগিয়েছে রকেটের গতিতে।
আরও পড়ুন:
২০১৯ সালে ডিভোর্স হয় অনন্যার। তখন তিনি কাউন্সিলর। ২০১৫ সালে প্রথমবার পুরভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। হলফনামা অনুযায়ী সেই সময় তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৫১ লক্ষ টাকা। এরপরই ঘনিষ্ঠতা বাড়ে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে। বিভিন্ন জায়গায় অরূপের সঙ্গে দেখা যায় অনন্যাকে। এদিকে উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে সম্পত্তি। অরূপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ার পরই সন্তোষপুরে তৈরি করেন হাতিবাড়ি। যা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই।
শোনা যায়, বাড়িটির তিনতলা পর্যন্ত বৈধ অনুমতি ছিল। বাকি দুটি ফ্লোর নির্মাণ করা হয়েছে বেআইনিভাবে, প্রভাব খাটিয়ে। তবে একে কাউন্সিলর, তার উপর মন্ত্রীর 'বান্ধবী', তাই গোপনে আলোচনা করলেও প্রকাশ্যে এতদিন কেউ কোনও প্রশ্ন তোলেননি। যদিও পালাবদলের পর পুরসভার তরফে নোটিস পাঠানো হয়েছে। তবে শুধু হাতিবাড়িই নয়। টলিপাড়ায় কান পাতলে শোনা যায়, অরূপের হাত মাথায় থাকায় গত কয়েকবছরে বেশ কয়েকটি ছবিতে সুযোগ পেয়েছেন অনন্যা।
২০১৫ সালে ৫১ লক্ষ টাকার মালিক ছিলেন অনন্যা। ২০২১-এ তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪ কোটি। নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে হয়েছে তাঁর। সবটাই অরূপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির পর। শোনা যায়, কিছুদিন আগে প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে অনন্যার। ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় অন্য এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তবে তাতেও কাজের জগতে সমস্যায় পড়তে হয়নি। চলতি বছরেও সিনেমা করেছেন অনন্যা।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি মুকুন্দপুরে অনন্যার ওয়ার্ড অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে বাক্স ভর্তি টাকা, কন্ডোম। এছাড়া প্রোমোটারদের তোলাবাজির রেটচার্টও পাওয়া গিয়েছে। বিলাসবহুল এই ওয়ার্ড অফিসটিতে একটি মেকআপ রুমও রয়েছে বলে খবর। যা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি আমজনতার প্রশ্ন একটাই, মাথার উপর যার হাতই থাকুক না কেন, কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় কয়েকবছরে সম্পত্তি বাড়ল এত গুণ?