মালদহ-মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নদী ভাঙন রোধ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। যা নিয়ে বারবার কেন্দ্রকে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যথাযথ সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁর। এবার বর্ষায় আলিপুরদুয়ারের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে ভাঙন। তাও আবার ভুটান থেকে ধেয়ে আসা নদীর জলে। ভাঙনের কবলে পড়েছে কুমারগ্রামের সঙ্কোশ চা বাগান, কালচিনির মেচপাড়া চাবাগান-সহ একাধিক বাগান।
২৮
এমনকী নদীর ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর-সহ ফসলি জমি। যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। যদিও ঘটনার খবর পেয়েই এদিন এলাকায় ছুটে যান তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। গোটা এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষজনকেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে বোল্ডার ফেলে পাকাপাকিভাবে বাঁধের দাবি স্থানীয় মানুষজনের। গত কয়েকদিনে লাগাতার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাত হয়েছে। পরিস্থিতি যদিও এখন স্বাভাবিক। উত্তরের নদীগুলিতে জম কমতেও শুরু করেছে। এর মধ্যেই নয়া বিপদ উত্তরে! ভুটান থেকে ধেয়ে আসা নদীর জলে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভুটান থেকে আসা বাসরা নদীতে ক্ষতিগ্রস্ত সেন্ট্রাল ডুয়ার্স চা বাগান এলাকা। কার্যত একই অবস্থা বাসরা সঙ্কোশ, রায়ডাক, তোর্সা-সহ বিভিন্ন নদী। এই সমস্ত নদীর পাড়েও ভাঙন অব্যাহত।
৪৮
ফলে আলিপুরদুয়ারের সব ব্লকেই কম বেশি নদী ভাঙনের সমস্যা শুরু হয়েছে। নদী ভাঙনে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বাড়ছে ক্ষোভ। ভাঙন রোধে সেচ দপ্তরের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় মানুষজনের। পরিস্থিতির খবর পেয়েই রবিবার সকালে কুমারগ্রামের সঙ্কোশ চা বাগান এলাকায় সঙ্কোশ নদীর ভাঙন দেখতে যান রাজ্য সভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন।
৫৮
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ আরও জানিয়েছেন, ''শনিবার রাত থেকেই আমি এখানে আছি। আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এই এলাকায় ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ করা হবে।'' খুব শীঘ্রই বাজেট তৈরি করে তা করা হবে বলেও আশ্বাস। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে জানিয়েছেন, ''ভাঙ্গন রোধে বিভিন্ন এলাকায় কাজ চলছে। বেশ কিছু প্রক্রিয়া আছে। খুব শীঘ্রই আরও কাজ করা হবে।'' মনোরঞ্জন দে'র কথায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলানোটা...
যদিও স্থানীয় বাসিন্দা তথা পরিবেশপ্রেমী ল্যারি বোসের অভিযোগ, ''ভাঙনের ব্যাপক ক্ষতির মুখ পড়তে হয় মানুষকে। পাকাপাকিভাবে বোল্ডার ফেলে কাজ করলে ভাঙ্গন ঠেকানো সম্ভব হবে।'' তাঁর অভিযোগ, মাটি-বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু তা ফের ভেঙে যায়। এই অবস্থায় পাকাপাকি সমাধানে দাবি জানিয়েছেন।
৭৮
বলে রাখা প্রয়োজন, মালদহ, মুর্শিদাবাদ-সহ দক্ষিণবঙ্গের একটা বড় অংশ জুড়ে ভাঙন অব্যাহত। একের পর এক বাড়ি জমি চলে যাচ্ছে গঙ্গার গ্রাসে। এরপরেও ভাঙন রোধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। করা হয়েছে বিপুল বরাদ্দ। ভাঙন রোধে চলছে কাজও।
৮৮
কিন্তু কেন্দ্রের যথাযথ সাহায্য পাচ্ছে না বলে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী পর্যাপ্ত আর্থিক সাহায্য মিলছে বলেও অভিযোগ জানান।
অপেক্ষার টেস্টে ব্যর্থ হলেন চেতেশ্বর পূজারা। দীর্ঘদিন জাতীয় দলে ব্রাত্য থাকার পর শেষমেশ অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন টেস্টের অন্যতম সেরা ব্যাটার। ভারতীয় ক্রিকেটে এক যুগের অবসান হল।
২৯
জাতীয় দলের জার্সিতে ১০৩ টেস্ট খেলে ৪৩.৬০ গড়ে ৭১৯৫ রান করেছেন। লাল বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ২০৬। ১৯টা শতরান এবং ৩৫টা অর্ধশতরান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে।
টেস্ট অভিষেকের মাত্র বছরদুয়েকের মধ্যেই জীবনে প্রথমবার ডবল সেঞ্চুরি হাঁকান পূজারা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের প্রথম টেস্টে ২০৬ রানে অপরাজিত থাকেন পূজারা। সেটাই তাঁর ক্রিকেট জীবনের সর্বোচ্চ স্কোর।
৪৯
মাস পাঁচেকের মধ্যেই আবারও ডবল সেঞ্চুরি আসে পূজারার ব্যাট থেকে। এবার প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। হোম সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ২০৪ রান করেন তিনি।
৫৯
আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের তৃতীয় ডবল সেঞ্চুরিটি পূজারা করেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই। ২০১৭ সালে ২০২ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ভর করেই ম্যাচ ড্র করে ভারত।
পূজারার অবিস্মরণীয় ইনিংসগুলির মধ্যে অন্য়তম ২০১৮ সালে অ্যাডিলেডে সেঞ্চুরি। মাত্র ৮৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ভারতীয় ইনিংসকে বাঁচিয়ে তোলে পূজারার শতরান। সেই ইনিংসে ভর করেই শেষ পর্যন্ত অ্যাডিলেড টেস্ট জেতে ভারত। সিরিজও জিতে ফেরে টিম ইন্ডিয়া।
৭৯
ভারতীয় হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সর্বোচ্চ রানের নজির রয়েছে পূজারার ঝুলিতে। ২০১৩ সালে জোহানেসবার্গে ১৫৩ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে পূজারার লড়াকু দেড়শোয় ভর করে ম্যাচ ড্র করে ভারত।
৮৯
২০১৫ সালে কলম্বোয় আহত মুরলী বিজয়ের পরিবর্তে ওপেন করতে নামেন পূজারা। ১৮০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চাপে থাকা ভারতীয় ইনিংসের হাল ধরেন, ১৪৫ রানে অপরাজিত থেকে। সেই ম্যাচ জিতে নেয় ভারত।
৯৯
২০২০-২১ বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি জয় ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ওই সিরিজের সিডনি টেস্টে সেঞ্চুরি না করলেও দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৫০ এবং ৭৭ রান করেন পূজারা। কেবল রান করাই নয়, তাঁর সারা দেহে আছড়ে পড়েছিল অজি পেসারদের বিষাক্ত ডেলিভারি। যন্ত্রণা সহ্য করেও ভারতকে পৌঁছে দিয়েছিলেন জয়ের লক্ষ্যে।