ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া থেকে পর্দার ভূত! দর্শক-মনে ভয় ধরিয়ে কোথায় উধাও হলেন বলিউডের ‘প্রেতাত্মা’?
মেকআপ ছাড়াই ভয়ংকর হয়ে উঠতেন র্যামসে ব্রাদার্সের এই তারকা ‘ভূত’!
দীর্ঘাকায় মানুষটির মুখাবয়ব ছিল এমনই ভয়াবহ, মেকআপ ছাড়াই সেই মুখের দিকে তাকালে মানুষ শিউরে উঠত। ওই মুখই যেন আটের দশকে সেক্স ও ভায়োলেন্সের সঙ্গে হরর মিশিয়ে তৈরি হওয়া দ্বিতীয় শ্রেণির বলিউড ছবিগুলির অন্যতম ইউএসপি। আইআইটি রুরকি থেকে স্নাতক হন অনিরুদ্ধ। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পড়তে তিনিই হয়ে উঠলেন ডাকসাইটে 'পর্দার ভূত'?
আরও পড়ুন:
আদপে যিনি চেয়েছিলেন হিরো হতে। বাবার অমতে পুণের ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পড়া হয়নি। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে ভালো চাকরি পেয়েও মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল ছবিতে নামার অদম্য ইচ্ছে। আচমকাই সুযোগ পেয়ে যান। আসলে তাঁর একটা অসুখ হয়েছিল। পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে ধরা পড়েছিল টিউমার। সেই চিকিৎসার জন্যই মুম্বইয়ে (তৎকালীন বম্বে) হাজির হওয়া। কে জানত টিনসেল টাউনের হরর ইন্ডাস্ট্রি তাঁরই অপেক্ষায়?
আসলে হরমোন গ্রন্থির অসুখে বেয়াড়া সব উপসর্গ দেখা যাচ্ছিল অনিরুদ্ধর শরীরে! গোড়ালি ক্রমশ বাড়ছে, বদলে যাচ্ছে কণ্ঠস্বর! এমন আশ্চর্য ভয়াল হয়ে উঠছে মুখ, দেখলে দিনের বেলাতেও লোকজন আঁতকে উঠছে। এদিকে সেই সময় ‘পুরানা মন্দির’-এর কাজ চলছে। কিন্তু ভালো 'ভূত' পাওয়া যাচ্ছে না। অনিরুদ্ধ এমন খবর পেয়ে লাফিয়ে উঠলেন।
তাঁকে দেখে লাফিয়ে উঠলেন নির্মাতারা। ''আরে! এমন একজনকেই তো খুঁজছি।'' এমন ‘ভূতূড়ে মুখ’ পাওয়া যে মেঘ না চাইতে জল! অনিরুদ্ধ জানিয়েছিলেন, ''আমার মুখটাই এমন ছিল ওদের খুব একটা মেকআপ করারও প্রয়োজন পড়ত না।'' সত্যিই তাঁকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন ইউনিটের সবাই। বাকিটা ইতিহাস। আজ 'কাল্ট' হয়ে যাওয়া ভূতুড়ে ছবিগুলিতে তিনিই নিউক্লিয়াস।
আরও পড়ুন:
নয়ের দশকের শুরুর সময়টা পেরিয়ে যাওয়ার পরে র্যামসে ব্রাদার্সের জনপ্রিয়তা ঝপ করে পড়ে যায়। যদিও সেই সময় অনিরুদ্ধ ছোটপর্দায় ভয় দেখিয়ে চলেছেন। ‘জি হরর শো’-তে তাঁর মুখের ক্লোজআপ অনেকেরই রাতের ঘুম কেড়ে নিত। শেষবার পর্দায় অনিরুদ্ধকে দেখা গিয়েছিল 'মল্লিকা' (২০১০) ছবিতে। অর্থাৎ একযুগেরও বেশি সময় আগে। এরপর তাঁকে দেখতে পাননি ইন্ডাস্ট্রির কেউই। প্রশ্ন ওঠে, কোথায় 'গায়েব' হলেন 'পর্দার ভূত'?
জানা যাচ্ছে, তিনি রয়েছেন মুম্বইয়েই। ছেলেমেয়ে অবশ্য বিদেশে থাকে। পর্দায় থরহরি কম্প বাঁধিয়ে দেওয়া মানুষটি আজ নির্মাণ ব্যবসায়ী। ইন্ডাস্ট্রি থেকে বহু দূরে। যেন এক জীবনেই আরেক জীবন কাটাচ্ছেন ‘সামরি’। তবে ডিজিটাল পৃথিবীতে পুরনো দুনিয়ার 'ভয়ের মুখ' আজও তিনিই। তিনি ইন্ডাস্ট্রি ছাড়লেও বিনোদুনিয়া তাঁকে মনে রেখেছে।