কিঁউকি তুম হি হো… অরিজিতের বিদায়ে গরিব হল প্লে-ব্যাক, গানের বাদশার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ডিজিটাল বিশ্বে গায়ক দেখা দেবেন কোন নয়া অবতারে? সোশাল মিডিয়ায় এই নিয়েই চর্চা তুঙ্গে।
কিছু দিন আগেই বাংলা ছবি ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে অরিজিতের কণ্ঠে ‘ক্ষণে গোরাচাঁদ’ গানটিতে সকলে বুঁদ হয়েছিলেন। তার ঠিক আগেই ‘ধুরন্ধর’-এ ‘গেহরা হুয়া’ গানটিও প্রবল জনপ্রিয় হয়েছিল। অবশ্য জনপ্রিয়তা অরিজিতের কাছে নতুন কিছু নয়। যে সাফল্য তিনি গত দুই দশক ধরে পেয়েছেন তা অবিশ্বাস্য। এমন এক সফল কেরিয়ার সত্ত্বেও মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই এমন ঘোষণা ঘিরে বিস্ময় জাগাই স্বাভাবিক!
আরও পড়ুন:
তবে সেই সঙ্গেই অনুরাগীদের আশ্বস্তও করেছেন গায়ক। জানিয়েছেন, 'ঈশ্বর আমার প্রতি সত্যিই সদয় ছিলেন। আমি ভালো সঙ্গীতের একজন ভক্ত এবং ভবিষ্যতে একজন ছোট শিল্পী হিসেবে নিজে আরও শিখব ও আরও কাজ করব। আপনাদের সকলের সমর্থনের জন্য আবারও ধন্যবাদ। আমার কিছু অসমাপ্ত কাজ বাকি আছে, সেগুলো শেষ করব। তাই এই বছর আপনারা কিছু নতুন গান পেতে পারেন। এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে আমি গান তৈরি...
এই কথা জেনে অবশ্য ক্ষণিকের স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু আদপে অরিজিৎকে এতদিন প্লেব্যাক গায়ক হিসেবেই মূলত দেখা গিয়েছে। তাই সেই ভূমিকা থেকে তাঁর একেবারে সরে যাওয়ায় হৃদয়ে পাষাণভার অনুভব করছেন অনুরাগীরা। প্রেম, বিরহ, বিচ্ছেদ, ক্ষোভের নানা মুহূর্ত থমকে রয়েছে অরিজিতের গানে। নিঃসন্দেহে সেই সব গান ও শ্রোতার ব্যক্তিগত মনোজগৎ একাকার হয়ে রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এমন বিষণ্ণতা আসতেই পারে। আজকের জেন জি থেকে প্রৌঢ়ত্ব পেরিয়ে বার্ধ্যক্যে পা...
আরও পড়ুন:
তবে অরিজিৎ সিংয়ের কেরিয়ারের সবচেয়ে বিতর্ক সলমন খানের সঙ্গে মতানৈক্য। ২০১৪ সালের স্টার গিল্ড অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া গোলমালের রেশ গড়ায় বহুদূর। তবে পরবর্তী সময়ে তা স্থায়ী হয়নি। মাঝে শান্তিনিকেতনে তাঁর দেহরক্ষীদের আচরণ নিয়েও বিতর্ক ঘনিয়েছে। কিন্তু সেই সব বিতর্ক অতীত হতেও সময় নেয়নি। সকলের হৃদয়ের রাজা হয়েই বিচরণ করেছেন অরিজিৎ।
জিয়াগঞ্জের রাস্তায় নিজেই স্কুটি চালিয়ে বেরিয়ে পড়েন অরিজিৎ। তাঁর কোনও ভ্রূক্ষেপই থাকে না এসব বিষয়ে। এই সহজতাই তাঁর 'ব্র্যান্ড ভ্যালু'। তবে এরই পাশাপাশি এই সহজতার কারণেই তিনি স্পষ্টবক্তাও। আর তা থেকেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সকলেরই মনে রয়েছে আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে আচমকাই 'রং দে তু মোহে গেরুয়া' গানটি গেয়ে উঠেছিলেন অরিজিৎ। যার মধ্যে রাজনৈতিক রং খুঁজে পেয়েছিলেন অনেকেই। তবে বিতর্ক স্থায়ী হয়নি। মিলিয়ে গিয়েছে। থেকে...
তবে এছাড়াও অপেক্ষা থাকবে পরবর্তী ছবিতে তাঁর গাওয়া গান শোনার। আপাতত জানা গিয়েছে সলমনের 'গালওয়ান' ছবিতে শোনা যাবে অরিজিতের কণ্ঠ। পাশাপাশি গুঞ্জন রয়েছে 'কিং' ছবিতে এড শিরানের গাওয়া 'স্যাফায়ার' গানটির একটি ভারতীয় সংস্করণে নাকি রয়েছে অরিজিতের কণ্ঠ। আপাতত সেই সব হিসেবের কড়ি আগলে অরিজিতের নতুন গান-জীবনের অপেক্ষায় সকলে।