বাবা সেনাপ্রধান-প্রেসিডেন্ট, মা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমানের সম্পত্তি কত?
তারেকের চেয়ে অনেক ধনী তাঁর স্ত্রী। স্রেফ ইউনুস জমানাতেই ৪৪টি মামলা থেকে নিস্তার পেয়েছেন বাংলাদেশের ‘ডার্ক প্রিন্স’।
আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিও পুরোপুরি পরিবার কেন্দ্রিক। সবচেয়ে চর্চিত দুটি রাজনৈতিক পরিবার হল শেখ মুজিবের পরিবার ও জিয়া পরিবার। বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক। এবার তিনিও বসতে চলেছেন কুরসিতে। চমকপ্রদভাবে এ হেন পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তারেকের সম্পত্তির পরিমাণ আহামরি কিছু নয়।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন জিয়াউর রহমান। একাত্তরে মুজিব যখন জেলে, সেই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের জনতাকে স্বাধীনতার ভাষ্য দিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর সেনাপ্রধান হয়েছিলেন জিয়া। এরপর ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হন। তখন অবশ্য সেনাশাসক ছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ১৯৮১ সালের ৩০ মে আততায়ী হামলায় প্রাণ হারান জিয়াউর রহমান।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেন তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ সালে প্রথমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ওই বছরের মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকেন। দ্বিতীয় দফায় ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির পর কয়েক সপ্তাহ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তৃতীয় দফায় ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া।
আরও পড়ুন:
২০০৬ সালে বাংলাদেশে পালাবদল হয়। ক্ষমতা হারায় বিএনপি। শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ ক্ষমতায় আসতেই তারেকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হওয়া শুরু করে। অশান্ত বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয় তারেককে। ১৮ মাস জেল খাটেন তিনি। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে হাসিনা সরকার তাঁকে মুক্তি দেয়। ২০০৭ সালের পর থেকে তারেকের বিরুদ্ধে ৮৪টি মামলা হয়েছে। দুর্নীতি, আর্থিক তছরুপ, বেআইনি সম্পত্তি এবং গ্রেনেড হামলায় আদালতে দোষীসাব্যস্তও হন তারেক। এরপরই দেশ...
এরপর ১৭ বছর কাটিয়েছেন বিলেতে। মাঝের এই বছরগুলিতে তাঁর মা খালেদা জিয়া এবং বিএনপির অন্যান্য কর্মকর্তারা যক্ষের ধনের মতো আগলে রেখেছেন তাঁর দল বিএনপিকে। এর মধ্যে তারেক দীর্ঘদিন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। ইউনুস জমানায় এসে সব মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে বিএনপির চেয়ারম্যান পদে বসেছেন।
এবারের নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বদন্দ্বিতা করেন খালেদাপুত্র। বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭। ভোটের আগে নিজের সম্পত্তির যে খতিয়ান তিনি হলফনামা আকারে দিয়েছেন, সেটা চমকপ্রদ। ওই হলফনামা অনুসারে তিনি মাত্র ১ কোটি ৯৭ লক্ষ বাংলাদেশি টাকার মালিক। এর মধ্যে রয়েছে হাতে থাকা নগদ, ব্যাঙ্কে জমানো টাকা, শেয়ার, সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু, আসবাবপত্র।