রক্তচাপ মাপার ভুলে চিকিৎসায় ভুল! বাড়িতে পরীক্ষার সময় এই বিষয়গুলি এড়িয়ে চলুন
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এখন সারা বিশ্বে অত্যন্ত সাধারণ এক স্বাস্থ্যসমস্যা। যা দীর্ঘদিন কোনও লক্ষণ ছাড়াই নীরবে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায় হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা কিডনি অসুখের ঝুঁকি। তাই নিয়মিত এবং সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেকেই বাড়িতে প্রেশার মাপার সময় অজান্তে এমন কিছু ভুল করেন, যাতে ফল আসে ভুল। আর এতে চিকিৎসা এগোয় ভুল পথে।
অনেকেই রক্তচাপ মাপার আগে যথেষ্ট সময় বিশ্রাম নেন না, যা বড় একটি ভুল। শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ বা ক্যাফেইন গ্রহণ রক্তচাপকে সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই মাপার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট চুপচাপ বসে থাকা প্রয়োজন। এই সময় কথা বলা বা নড়াচড়া না করাই ভালো। এতে শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং রিডিং-ও অনেক বেশি নির্ভুল হয়।
আরও পড়ুন:
হাতের সঠিক অবস্থান বজায় না রাখাও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। অনেক সময় হাত নিচে ঝুলে থাকে বা খুব উঁচুতে থাকে, যা রক্তচাপের রিডিংকে প্রভাবিত করে। সঠিকভাবে মাপার জন্য হাতকে বুকের সমানে রাখতে হবে। পাশাপাশি হাত যেন কোনও টেবিলের উপর আরাম করে রাখা থাকে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। এতে রক্তচাপের মাপ অনেক বেশি সঠিক হয়।
রক্তচাপ মাপার সময় নির্বাচনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাওয়ার পরপরই বা ব্যায়ামের ঠিক পরেই মাপলে রিডিং সঠিক নাও হতে পারে। শরীর তখন সক্রিয় অবস্থায় থাকে, ফলে চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দেখা যায়। তাই অন্তত ৩০ মিনিট বিরতি দিয়ে মাপা উচিত। প্রতিদিন একই সময়ে মাপার অভ্যাস করলে পরিবর্তনগুলো বোঝাও সহজ হয় এবং ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
আরও পড়ুন:
অনেকেই জানেন না যে ইউরিন চেপে রাখলে, তা রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রস্রাবের চাপ থাকলে শরীরে অস্বস্তি তৈরি হয়, যা সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়ায়। তাই রক্তচাপ মাপার আগে ইউরিন ত্যাগ করে তবেই রক্তচাপ মাপুন। এটি একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা উপেক্ষা করলে রিডিং ভুল হতে পারে এবং প্রকৃত অবস্থার সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।
চিকিৎসকের চেম্বারে গেলে অনেকের রক্তচাপ বেড়ে যায়, যাকে 'হোয়াইট কোট সিনড্রোম' বলা হয়। এটি মূলত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে হয়। ফলে সেখানকার রিডিং প্রকৃত অবস্থার তুলনায় বেশি দেখা যেতে পারে। এই সমস্যা এড়াতে বাড়িতে নিয়মিত রক্তচাপ মাপা একটি ভালো অভ্যাস। এতে স্বাভাবিক পরিবেশে নেওয়া রিডিং বেশি নির্ভরযোগ্য হয়।
সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপা শুধু একটি অভ্যাস নয়, এটি সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ছোট ছোট ভুল এড়িয়ে চললে রিডিং অনেক বেশি নির্ভুল হয় এবং চিকিৎসাও কার্যকর হয়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং সচেতনতা- এই তিনটি বিষয় মেনে চললে হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এতে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে।