গায়ের রং কালো বলে জোটেনি কাজ, বর্ণবিদ্বেষের শিকার বলি নায়িকারাও! তালিকায় কারা?
আজও যেন বি-টাউনের শিকড়ে গেঁথে রয়েছে বর্ণবিদ্বেষ। একাধিক তারকা বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আবার ঘুরেও দাঁড়িয়েছেন। প্রতিবাদ করেছেন।
বহুবার বর্ণবৈষম্যের শিকার হন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। মাত্র ১৩ বছর বয়সে আমেরিকায় পড়াশোনা করতে যান। সেখানেই প্রথমবার বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের শিকার হন। গায়ের রং কালো হওয়ায় 'ব্রাউনি' বলে ডাকা হত তাঁকে। শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। স্কুলের ক্যাফেটেরিয়াতেও যেতেন না। সাক্ষাৎকারে জানান, সকলের নজর এড়াতে স্কুলে শৌচালয়ে বসে খাবার খেতেন। মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন যে তিনি পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে ভারতে ফিরে আসেন।
আরও পড়ুন:
হলিউডে কাজ করার সময় নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরেও বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন তিনি। বিমানকর্মীরা তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেই দাবি অভিনেত্রীর। তিনি যে সত্যিই প্রথম শ্রেণির যাত্রী, তার প্রমাণও নাকি দিতে হয়। প্রিয়াঙ্কা স্বীকারও করেন যে অল্প বয়সে গায়ের রং ফর্সা করার জন্য বিশেষ ক্রিমও ব্যবহার করেন। কেরিয়ারের একেবারে শুরুতে ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনও করেন। যদিও তা নিয়ে পরে অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর বিদেশের মাটিতে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন। নিজেই একাধিকবার সাক্ষাৎকারে সেকথা জানিয়েছেন। ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপন নিয়েও বিতর্কে জড়ান। সময়টা ২০১৭ সাল। অভিনেতা অভয় দেওল ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের বিরোধিতায় সরব হন। এষা দেওলের ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের ছবি শেয়ার করে পালটা আক্রমণ করেন। অভয় দেওল অবশ্য ভুল স্বীকার করে নেন। পরবর্তীকালে সোনমও তাঁর টুইট (বর্তমানে X পোস্ট) মুছে দেন।
আরও পড়ুন:
২০১৮ সালে জর্জিয়া থেকে ফেরার পথে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন রিচা চাড্ডা। বিমানবন্দরে এক আধিকারিক তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেই অভিযোগ। সোশাল মিডিয়ায় তা নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন অভিনেত্রী। আর তারপর থেকেই ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনেরও তীব্র সমালোচনা করেন। ২০২০ সালে 'ফেয়ার' শব্দটি সরিয়ে নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান অভিনেত্রী।
এরপর ২০১৮ সালে একইরকম অভিজ্ঞতার শিকার হন। সিডনি থেকে মেলবোর্ন যাওয়ার পথে অষ্ট্রেলিয়ার বিমানসংস্থার কর্মীর বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ তোলেন শিল্পা। শুধুমাত্র তাঁর গায়ের রঙের জন্য অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করা হয়। সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভপ্রকাশ করেন। জানান, "ত্বকের রঙের ভিত্তিতে কারও সঙ্গে এমন আচরণ কখনই বরদাস্ত করা যায় না।"
দাপুটে বাঙালি অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যও একসময় বর্ণবিদ্বেষের শিকার হন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিজ্ঞাপনের জন্য তাঁকে চূড়ান্ত করা হয়। স্রেফ গায়ের রঙের জন্য তাঁকে বিজ্ঞাপন থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাও শুটিংয়ের মাত্র তিনদিন আগে। প্রযোজনা সংস্থা থেকে তাঁকে নাকি সরাসরি বলা হয়, তাঁর গায়ের রং কালো বলে এই সিদ্ধান্ত। দিব্যেন্দু আক্ষেপ করে বলেছেন, আজও বি-টাউনে গায়ের রঙের ভিত্তিতে পক্ষপাতিত্ব করা হয়।