মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা বিজয়ের! তামিলনাড়ুর হবু মুখ্যমন্ত্রীর রাজনীতিতে হাতেখড়ির নেপথ্যে বড় টুইস্ট
কাল যিনি তামিলনাড়ুর মসনদে বসতে চলেছেন, সেই থলপতি বিজয় কেন মা-বাবার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন?
নির্বাচনের প্রাক্কালে সেন্সরের গেরোয় তাঁর সিনেমা নিষিদ্ধ হওয়া থেকে ব্যক্তিগতজীবনের ‘বিয়ে-পরকীয়া’ কেচ্ছার পালে হাওয়া তুলে দ্রাবিড়ভূমের সুপারস্টারকে দমানোর কম চেষ্টা হয়নি! তবুও শাসকদল ডিএমকে’র মুখে ঝামা ঘঁষে পয়লা রাজনৈতিক ইনিংসেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন থলপতি। ১১৫টি আসন জিতে তামিলভূমের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দোরগোড়ায় তিনি।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
কারণ ব্যক্তিগতভাবে বিজয় বেশ প্রচারবিমুখ। আর এই জায়গাটিই অনেকটা সামলে দিয়েছেন তার বাবা। কীরকম? গত একদশকে বিজয়ের সিনেমায় একাধিকবার তামিলভূমের সামাজিক ইস্যু, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ছবি ফুটে উঠেছে। সরাসরি রাজনীতিতে নাম না লিখিয়েও সেকারণেই তাঁকে বারবার সরকারের বিরাগভাজন হতে হচ্ছিল। হাজার কটাক্ষ-সমালোচনার পরেও 'টুঁ' শব্দটি করেননি। আর এরপরই মাঠে নামেন তাঁর মা-বাবা।
২০২০ সালে বিজয়ের অনুমতি ছাড়াই বাবা চন্দ্রশেখর এবং মা শোভা ছেলের নামে 'বিজয় মাক্কাল আইয়াক্কাম' নামে একটি রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশন করেন। এরপরই নড়েনড়ে বসেন থলপতি। কারণ ভক্তদের কাছে তিনি বহু থেকেই 'থলপতি'হয়ে উঠেছিলেন। থলপতির নাম করে তামিলের বিভিন্ন প্রান্তে ফ্যান ক্লাবগুলোই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক কাজ করছিল। তাই বিজয়ের রাজনৈতিক কেরিয়ারের ভিত্তিপ্রস্তর যে আগেই হয়েছিল, তা বলাই বাহুল্য।
চব্বিশের লোকসভা ভোটের সময়ে নিজস্ব দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম’-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে তামিলভূমের অন্যান্য দলগুলিকে ছাব্বিশের নির্বাচনী ময়দানে দেখে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিজয়। গত ২ বছরে তামিলনাড়ুর প্রতিটি ছোট শহরের কার্যালয়ে, প্রতিটি জনকল্যাণমূলক শিবিরে ঘুরেছেন অভিনেতা। সেখান থেকেই নেতা 'থলপতি'র উত্থান। আর এবারের ভোটে ইতিহাস লেখা।
‘জন নায়াগন’-এর ভবিষ্যদ্বাণীই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল ৪মে। গোড়া থেকেই ডিএমকে, এডিএমকে এবং অন্যান্য দলগুলিকে কড়া প্রতিযোগিতার মুখে ফেলেছিলেন টিভিকে সুপ্রিমো। প্রথমবার ভোটযুদ্ধে ‘অভিষেক’ করা কোনও সেলিব্রিটির দল ওপেনিং ইনিংসেই সরকার গড়তে পেরেছে, এমন উদাহরণ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু বিরল নয়, নেই বললেই চলে। (ছবি- সংগৃহীত)