গুজরাটের ৬ ‘নামগোত্রহীন’ দলের অনুদান ১৭০০ কোটি! কংগ্রেস-সহ পাঁচ জাতীয় দলের চেয়েও বেশি
কারা পেল এত অনুদান, কোথায় গেল এত টাকা? পুরোদস্তুর দুর্নীতির গন্ধ।
বিবিসি হিন্দির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে গুজরাটের ৬টি নামগোত্রহীন অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল চাঁদা বাবদ পেয়েছে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা। এই দলগুলি হল সত্যবাদী রক্ষক পার্টি, আম জনমত পার্টি, গরিব কল্যাণ পার্টি, স্বাধীনতা অভিব্যক্তি পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল জনতা দল এবং নিউ ইন্ডিয়া ইউনাইটেড পার্টি।
আরও পড়ুন:
এই ছয় দলের পাঁচটির সদর দপ্তর আহমেদাবাদে। একটির সদর দপ্তর গুজরাটেরই আনন্দের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাঁদা পেয়েছে আম জনমত পার্টি। প্রায় ৬২০ কোটি টাকা। সত্যবাদী রক্ষত পার্টির ঝুলিতে গিয়েছে ৩৩০ কোটি টাকা। চমকপ্রদ বিষয় হল এই দলগুলির সেভাবে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিও চোখে পড়ে না। লোকসভা নির্বাচন তো বটেই গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচনেও সেভাবে সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি দলগুলির।
চমকপ্রদ বিষয় হল, এই ছ'টি দলের প্রাপ্ত মোট রাজনৈতিক চাঁদার পরিমাণ বিজেপি ছাড়া দেশের বাকি পাঁচটি জাতীয় দলের সম্মিলিত অনুদানের সমান। ওই বছর কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, সিপিএম এবং এনপিপির প্রাপ্ত সম্মিলিত চাঁদার চেয়েও বেশি। এই দলগুলি সম্মিলিতভাবে ওই বছর চাঁদা পেয়েছিল ১ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা।
২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে যেখানে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ২৮১ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল, সেখানে নামগোত্রহীন আম জনমত পার্টিই পায় ৬২০ কোটি। অথচ একবছর পরে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস গোটা দেশে ৩২৮টি আসনে লড়ে। এই দলগুলি লড়ে মাত্র ১৫ আসনে। এই দলগুলির দাবি, তাঁদের বেশিরভাগ অর্থব্যয় হচ্ছে সমাজসেবামূলক কাজে। রাজনৈতিক কাজে নয়।
আরও পড়ুন:
এই দলগুলি এত অনুদান পেল কেন? এমনিতে রাজনৈতিক দলের চাঁদার মধ্যে বেআইনি কিছু নেই। আয়কর আইন মেনে চাঁদা নিতে পারে যে কোনও রাজনৈতিক দলই। কিন্তু এই ধরনের নামগোত্রহীন দলের চাঁদা পাওয়া-টা সন্দেহের উদ্রেক করেই। অনেক সময় দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা আয়কর বাঁচাতে এই দলগুলির অ্যাকাউন্টে মোটা টাকা জমা করে দেয়। পরে ওই দলগুলি নামমাত্র সার্ভিস চার্জ নিয়ে সেই টাকা ফেরত দেয়।