জলের বোতল ৫০০ টাকা, অগ্নিমূল্য খাবার, বিশ্বকাপ দেখতে এসে দামের ঠেলায় অভুক্ত দর্শকরা!
খাবারের দাম দেখে চক্ষু চড়কগাছ দর্শকদের।
ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ দেখতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন রাটগার্স অ্যাথলেটিকসের সাংবাদিক ব্রায়ান ফনসেকা। তিনি স্টেডিয়ামের একটি কনসেশন স্ট্যান্ডের মেনুর ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সেই ছবিতে দেখা যায়, সবচেয়ে সস্তা পানীয় ‘আমেরিকান বিয়ার’-এর দাম ১৬ ডলার (ভারতীয় মূল্যে ১,৫১৩ টাকা)। হার্ড সেল্টজার ও ক্যান ককটেলের দাম ১৯ ডলার (ভারতীয় মূল্যে ১,৭৯৭ টাকা)।
আরও পড়ুন:
এক বোতল জলের দাম কত জানেন? কোনও স্টেডিয়ামে ৫ ডলার। কোনও স্টেডিয়ামে ৯ ডলার। অর্থাৎ ৪৭৫-৮৫৫ টাকা। স্পোর্টস ড্রিংকের জন্য গুনতে হচ্ছে ৭ ডলার (৬৬২ টাকা)। খাবারের মধ্যে ৬ ডলারের (৫৬৭ টাকা) ক্ল্যাম স্ট্রিপস সবচেয়ে সস্তা হলেও হট ডগ, প্রেটজেল, ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের দাম আরও বেশি। চারটি চিকেন টেন্ডার, ফ্রাই ও কোকাকোলা-সহ কম্বো মিল কিনতে খসবে ১৯ ডলার অর্থাৎ প্রায় ১৮০০ টাকা।
অর্থাৎ মুখরোচক খাবারে হাত দিতে গেলে ছেঁকা লাগছে। যা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সমর্থকেরা। একজন লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে কেন বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে! সাধারণ খাবারের মূল্য অত্যধিক। টাকা থাকলেও আপনাকে যেন বোকা ভেবে সবকিছুর উপর অতিরিক্ত দাম চাপিয়ে দেওয়া হয়।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘এক বোতল জলের জন্য ৫.২৫ ডলার! অথচ বাড়ি থেকে জলের বোতল নিয়ে ঢুকতেও দেয় না।’
আরও পড়ুন:
শুধু সমর্থকরাই নন, সাংবাদিকদেরও গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের বিল। ইএসপিএন আফ্রিকার সাংবাদিক এড ডোভ ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ কভার করতে গিয়েছিলেন। সেখানে দৈনন্দিন খাবারের জন্য ৫০ ডলারেরও বেশি খরচ করেন। অর্থাৎ তাঁর গচ্ছা যায় প্রায় ৫ হাজার টাকা। তিনি একটি চিকেন ফ্রান্সেসে মিল, ট্যাববুলেহ সালাদ, একটি ক্রসাঁ (মাখনে তৈরি এক ধরনের পেস্ট্রি) ও এক বোতল জল কেনেন মোট ৫২.৯৮ ডলারে। ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।
ডোভ বলেন, “আমার খুবই খিদে পেয়েছিল। কেনার আগে দাম জিজ্ঞেস করিনি। পরে এত বেশি দাম দেখে অবাক হই। কিন্তু লাইনে আবার দাঁড়িয়ে খাবার ফেরত দেওয়ার সাহস পাইনি।” তাঁর সহকর্মী ওসাসু ওবাইউয়ানা বলেন, “দিনদুপুরে তো বটেই, এ যে দেখছি রাতদুপুরেও ডাকাতি।” তিনি আরও বলেন, “এই বিশ্বকাপে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যে সাংবাদিক খাবার কিনবেন, তাঁকে পকেট গড়ের মাঠ হবে।”