বিশ্বকাপে রেফারিং বিতর্ক! ‘ভার’-এর থেকেও উন্নত ক্রিকেটের ডিআরএস? কী বলছে বিজ্ঞান
‘ভার’-এর আসল সমস্যা কোথায়?
ফুটবলে প্রতিটি মুহূর্তে নজরদারি চলে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে যাঁরা দায়িত্বে থাকেন, তাঁরা নির্দেশ পাঠাতে পারেন মাঠের রেফারিকে। সেই অনুযায়ী রেফারি ঠিক করেন তিনি প্রযুক্তির সাহায্য নেবেন কি না। অর্থাৎ এটা পুরোপুরি রেফারির হাতে। ফুটবলাররা বড়জোর আবেদন করতে পারেন। কিন্তু তাঁদের আবেদনে সাড়া দেওয়া রেফারির ইচ্ছা। এমনকী বেশি আবেদনে শাস্তিও হতে পারে।
আরও পড়ুন:
ক্রিকেটে বিষয়টি অন্য। এখানে ক্রিকেটার দাবি করতে পারেন তিনি রিভিউ নেবেন কি না। দলের অধিনায়ক রিভিউ দাবি করলে আম্পায়ার রিভিউ নিতে বাধ্য। এলবিডব্লু বা ক্যাচিংয়ের ক্ষেত্রে বল ট্র্যাকিং, আলট্রা এজের মতো উন্নতি প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়। আবার এটাও ঠিক আম্পায়ার নিজে সিদ্ধান্ত নেন না। চতুর্থ রেফারি সিদ্ধান্ত নিয়ে জানান। সেটাই মেনে নেন মাঠের আম্পায়ার।
এখানে আরও একটা বিষয় আছে। ধরা যাক, কোনও বল ব্যাটে লেগে তালুবন্দি হয়েছে। ডিআরএস-এ সেটা আম্পায়ারকে জানানো হল। কিংবা এলবিডব্লু-তে বল ট্র্যাকিংয়ে তা যথার্থভাবে উইকেটে লাগছে। তিনি আউট দিতে বাধ্য। কিন্তু ফুটবলে সিদ্ধান্ত রেফারির হাতেই। হয়তো কারও মনে হচ্ছে ফাউল বা হ্যান্ড বল। রেফারির মনে হল, তা নয়। তিনি নিজের পছন্দমত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
যেমন, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ট্যাকেলের পর মিশর গোল করে। রেফারির মনে হয়েছে, ওটা ফাউল। তাই গোলবাতিল। আবার অনেকের মনে হতেই পারে, তা ফাউল নয়। আবার স্পেনের ফুটবলার রড্রির হাতে বল লাগলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। কারণ তা স্পেনেরই আরেক প্লেয়ারের মাথায় লেগে গতিপথ বদলে রড্রির হাতে লেগেছে। এক্ষেত্রে 'ভার' নাক গলায়নি। আবার অফসাইডে যেভাবে কম ব্যবধানেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তাতে অনেকে অখুশি।
আরও পড়ুন:
ক্রিকেটেও কি ভুল হয় না? অবশ্যই হয়। যেমন, 'আম্পায়ার্স কল' এলবিডব্লুতে যেমন বলের 'ইমপ্যাক্ট' দেখা হয়। সেক্ষেত্রে ডিআরএস নেওয়ার আগে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। অর্থাৎ, কারও মনে হতে পারে ন্যায্য আউট। আম্পায়ারের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের ভল ভুগতে হল। একইভাবে বিতর্কিত ক্যাচের ক্ষেত্রেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
ফুটবলের 'ভার'-এ সমস্যা আরও জটিল। তা হল ধারাবাহিকতার অভাব। 'ভার' নিয়ে বিতর্কের মূল কারণ এটাই। ইংল্যান্ডের কোয়ানসা ও আমেরিকার বালোগান, দু'জনেই লাল কার্ড দেখেছেন। কিন্তু বালোগানের কার্ড প্রত্যাহার করা হয়। আবার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মিশরের গোল ফাউলের জন্য বাতিল হয়েছে। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নরওয়ের গোলের সময় 'ভার' দেখা হয়নি। ইংরেজদের অভিযোগ, গোলের আগে কেনকে ফাউল করা হয়েছিল।
ক্রিকেটের মতো ফুটবলে আনা হয়েছে 'স্নিকো'। বলের মধ্যে এমন প্রযুক্তি আছে, যাতে কোনও স্পর্শ হলে বার্তা যাবে। অর্থাৎ হাতে লেগেছে কি না, তা জানা যাবে। ক্রিকেটেও দেখা হয় বল হাতে বা ব্যাটে লেগেছে কি না। তবে বিতর্ক থাকছেই। নরওয়ের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের গোলের আগে বল নাকি স্পাই-ক্যামে লেগেছিল। যদি 'স্নিকো'তে ধরা পড়েনি। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া টেস্টে ভারতের যশস্বী জয়সওয়ালের স্নিকোয় স্পর্শ না করলেও আম্পায়ার আউট দেন।
আগে মাঠের রেফারি বা আম্পায়ারের হাতেই সিদ্ধান্ত ছিল। এই 'রিভিউ' ব্যবস্থা প্রথম ক্রিকেটেই আসে। ২০০৮ সালে পরীক্ষামূলক ভাবে ডিআরএস শুরু হয়। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে বহুবার ভুল আউট দিয়েছেন স্টিভ বাকনার। হয়তো আজকের দিনে তা হত না। 'ভার' এসেছে পরে। আজ মারাদোনার 'হ্যান্ড অফ গড' হত না। কিন্তু বহু সিদ্ধান্তই হয়তো বদলাত না। কারণ তা থাকছে রেফারির হাতে।