‘মায়ের হাতের রান্না জোটেনি’, বাড়ি থেকে ‘পালিয়ে’ বিরাট সাম্রাজ্য, আদানির চোখে জল আনা গল্প জানেন?
সম্প্রতি জালিয়াতি-ঘুষের মামলায় মার্কিন আদালতে বড়সড় স্বস্তি পেয়েছেন ভারতীয় ধনকুবের।
সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কিছু বিতর্কে জড়িয়েছেন আদানি। একাধিক অভিযোগ দায়ের হয় তাঁর বিরুদ্ধে। প্রথমেই ছিল হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ মামলা। ২০২৪ সালের শুরুতে মার্কিন শর্টসেলার সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ দাবি করে, নিজেদের ফায়দার জন্য নানাভাবে ভারতের বাজার প্রভাবিত করছে আদানিরা। বাজারকে প্রভাবিত করা এবং অ্যাকাউন্টে কারচুপি করার অভিযোগ ওঠে। মোদি জমানায় আদানি গোষ্ঠীর উত্থানে বড়সড় দুর্নীতি রয়েছে বলে দাবি করে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন:
ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই হু হু করতে পড়তে থাকে আদানিদের শেয়ারের দাম। হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টেই বলা ছিল, এর জেরে আদানি গোষ্ঠীর ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই পূর্বাভাস মিলেও যায়। বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের তালিকায় অনেকখানি পিছিয়ে পড়েন। ভারতের ধনীতম ব্যক্তির সিংহাসনও তাঁর হাতছাড়া হয়। তবে এই মামলা খারিজ করে সেবি জানিয়েছে, আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কারচুপির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালেই নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন জেলা আদালতে আদানিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, গৌতমের মালিকানাধীন ‘আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড’ (এজিএল) বাজারের চেয়ে বেশি দামে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির বরাত পেতে অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের (যার মধ্যে মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন) ঘুষ দিয়েছিল। ঘুষের অঙ্ক ২৬.৫ কোটি ডলার (২০২৯ কোটি টাকা)। শুধু তাই নয়, মার্কিন বিনিয়োগকারীদেরও মিথ্যা প্রত্যাশার অভিযোগ উঠেছিল আদানির বিরুদ্ধে।
কিন্তু সেই অভিযোগও খারিজ হয়েছে সোমবার। মার্কিন বিচার দপ্তর জানিয়ে দেয়, আন্তর্জাতিক এই ইস্যু মার্কিন আদালতে যুক্তি-সহ প্রমাণ করা বেশ কঠিন। আপাতত এই ইস্যুতে মামলা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া অর্থহীন। তারপর যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সোমবার ব্রুকলিন জেলা আদালতের বিচারক নিকোলাস গারাউফিস জানান, মামলা খারিজ হয়েছে। আদানিদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়েছে। অর্থাৎ অভিযুক্ত হিসাবেও আর থাকবে না ভারতীয় ধনকুবেরের নাম।
আরও পড়ুন:
মার্কিন আদালতে বিরাট স্বস্তি পাওয়ার পরেই আদানি জানিয়েছিলেন, বিচারব্যবস্থা এবং সত্যের উপর থেকে কখনও আস্থা হারাননি। এই রায়ের পরই তিনি একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজের জীবনের সংগ্রামের কাহিনি তুলে ধরেন। বলেন, "মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম। মুম্বইতে চলে আসি। তখন আমার কিচ্ছুটি নেই। মায়ের হাতের খাবার, বাবার নিরাপদ আশ্রয়-কিচ্ছু না। কোন পথে এগোব, সেটাও জানতাম না।"
জীবনের কাহিনি বলতে গিয়ে আদানি জানান, তাঁর সম্বল ছিল কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা। প্রত্যেকদিন নতুন কিছু শিখতে চাইতেন। সেখান থেকে আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তাঁর কথায়, "দেশের প্রত্যেক কোণে যখন দেখি বহু তরুণ বাড়ি ছেড়ে আমাদের নানা প্রজেক্টে অংশ নিচ্ছে, তাদের দেখে আমার নিজের যাত্রা মনে পড়ে। আজ যারা বাড়ি থেকে বহু দূরে কাজ করছে, আসলে তারা ভারতের ভবিষ্যৎ গড়ছে।"
হিন্ডেনবার্গ বিতর্কগুলি আসলে আদানির নীতিকে পরীক্ষা করেছে বলেই মনে করেন ভারতীয় ধনকুবের। তাঁর কথায়, এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই আসল চরিত্র প্রস্ফুটিত হয়। অধিকার ফলানোর থেকেও বেশি প্রয়োজন বিশ্বাস অর্জন করা, এই বার্তাই দিয়েছেন মার্কিন আদালত থেকে 'মুক্তি' পাওয়ার পর। আগামী দিনের জন্য তাঁর বার্তা, ভারতকে আরও শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভর হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।