১৪ সন্তানের বাবা, সুখ পান বহুগামিতায়! হ্যারি কেনকে জাদুটোনা করা ঘানার ওঝার পরিচয় জানেন?
তাঁর কাছে নাকি প্রতিদিন ২৫ জন মহিলা সম্পর্ক ও দাম্পত্যজনিত সমস্যা নিয়ে আসেন। তাঁদের উপর জাদুটোনা ‘জুজু’ প্রয়োগ করেন।
এই পরিস্থিতিতে ভাইরাল তাঁর মন্তব্য। ম্যাচের আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, “আমি হ্যারি কেনকে মন্ত্র দিয়ে বেঁধে রেখেছিলাম। অতীতে আমি কী করেছি, সেটা সবাই দেখেছে। তাই ওকে কীভাবে থামাতে হবে, তা জানি। আমি চাই না ও গুরুতর চোট পাক। আমি শুধু চাই, ঘানার বিপক্ষে ও যেন নিজের সেরা খেলাটা খেলতে না পারে। আমার কাজ ঘানাকে সাহায্য করা।”
আরও পড়ুন:
এখানেই শেষ নয়। পরে কোয়াকু বলেন, “এবার ওকে মুক্ত করে দিচ্ছি। যাতে পরের ম্যাচে গোল করতে পারে। হ্যারি, আমার ওপর রাগ কোরো না। একদিন তোমার সঙ্গে দেখা করতে যাব। আমরা ভাই। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তবে এমনটা করতেই হত। তোমাকে মুক্ত করে দিয়েছি। আর আমি কোফি কোফি ও দেশের পূর্বসূরিদের ধন্যবাদ জানাই। আমি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আধ্যাত্মবাদী মানুষ।”
কোয়াকু বনসাম নামের অর্থ ‘বুধবারের শয়তান’। তাঁর দাবি, ঘানার প্রত্যন্ত এক গ্রামের ‘কোফি অ্যান্ড কোফি’ আশ্রম থেকে তিনি অলৌকিক শক্তি লাভ করেছেন। সেই শক্তির জোরেই নাকি তিনি ঝাড়ফুঁক করে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের ক্ষতি করতে পারেন। নিজেই জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে তাঁর ঝাড়ফুঁকের ফলেই নাকি হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “চার মাস আগেই বলেছিলাম, রোনাল্ডোর উপর জাদুটোনা করব। ওদের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেব। অন্তত ঘানার বিপক্ষে ও যেন ভালো খেলতে না পারে, সেটাই চেয়েছিলাম। তাই ওকে চোটের কারণে মাঠের বাইরে রাখার দিকেই নজর দিয়েছিলাম।” তবে তাঁর এসব দাবির পক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাঁর বক্তব্যকে নিছক ব্যক্তিগত দাবি হিসাবেই দেখা ভালো।
আরও পড়ুন:
জানা যায়, ঘানার রাজধানী আক্রায় তিনটি উপাসনালয় পরিচালনা করেন কোয়াকু। তিনি নিজেকে ‘দ্য গ্রেট অথেন্টিক ম্যান’ বলে পরিচয় দেন। এমনকী তিনি নিউ ইয়র্ক, আমস্টারডাম, বার্লিন, ইটালি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় কর্মক্ষেত্রে ভ্রমণ করেছেন। তাঁর ওয়েবসাইটে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত তাঁকে নিয়ে দু’টি প্রতিবেদনও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্তরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন।
নিজের ওয়েবসাইটে কোয়াকু জানিয়েছেন, গত দুই দশক ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছেন। দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের মধ্যে আধ্যাত্মিক শক্তিও বাড়িয়েছেন। তাঁর ‘ক্যারিশমা’ এখানেই শেষ নয়। এর পাশাপাশি নিজেকে একজন ভেষজ চিকিৎসক বলেও পরিচয় দেন কোয়াকু। তাঁর কথায়, ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান ভেষজ চিকিৎসার মাধ্যমে দুরূহ শারীরিক ব্যাধি তো বটেই, মানসিক নানা সমস্যাও দূর করেছেন তিনি।
১৯৭৩ সালে আগস্টের ২০ তারিখ ঘানায় জন্ম কোয়াকুর। নামের উল্লেখযোগ্যতা বাড়ানোর জন্যই নামের শেষ শব্দে ‘শয়তান’ রেখেছেন নিজেই। আফ্রিকার আকান নামক প্রজাতির মানুষের সংস্পর্শে তাঁর বেড়ে ওঠা। এই প্রজাতির মানুষের মধ্যে তন্ত্রসাধনার প্রচলন রয়েছে। কাকা পাপা কুমা কোফি অতসিওয়ার কাছে মানুষ হন। তৎকালীন সময়ে ওঝা হিসাবে পাপার বেশ নামডাক ছিল।
কাকার সঙ্গে থাকার সময় থেকেই আধ্যাত্মিক বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে থাকেন। সেখানকার স্থানীয় গির্জায় বিভিন্ন কাজ করতেন। তখনই তাঁর সঙ্গে অদ্ভুত কাণ্ড ঘটে। তাঁর বয়স তখন ১৯। গির্জায় যাওয়ার পথে তাঁর উপর বিদ্যুতের ঝলক এসে পড়ে। অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফেরার পর বুঝতে পারেন, স্থানীয় আত্মিক সত্তা কোফি ওডু ভর করেছে তাঁকে।
কোফি ওডু সামুদ্রিক দেবতা। এরপর কোয়াকুর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। তবে এর বাইরেও তাঁর জীবন বেশ বর্ণময়। ইটালির নামী সংস্থার পোশাক পরেন। এমনকী বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে তাঁর। শুনলে অবাক হবেন, নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ছ’বছর আগে ঘানার নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন অফিনসো নর্থ নির্বাচনী এলাকা থেকে। হাজারেরও বেশি ভোটও দিয়েছিলেন কোয়াকুকে।
একাধিক বিয়ে করেছেন। কোনওটাই সফল নয়। কারণ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। জানিয়েছেন, এক সম্পর্কে নয়, বহুগামিতায় প্রকৃত সুখ খুঁজে পান। ঘানার বাইরেও কোয়াকুর প্রেমিকার লিস্টি লম্বা। বিদেশভ্রমণে তাঁদের সঙ্গে দেখাও করেন। সবমিলিয়ে ১৪ সন্তানের বাবা তিনি। এর মধ্যে কেউ কলেজের গণ্ডিও পার করেছেন। তাঁর কাছে নাকি প্রতিদিন ২৫ জন মহিলা সম্পর্ক ও দাম্পত্যজনিত সমস্যা নিয়ে আসেন। তাঁদের উপর জাদুটোনা ‘জুজু’ প্রয়োগ করেন।