রেজিস্ট্রির পরই চরমে অশান্তি, ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েও ইউ-টার্ন! ইনফ্লুয়েন্সর জুটির প্রেম যেন সিনেমা
‘আমি গর্বিত, কারণ অ্যাঞ্জেল আমার স্ত্রী’, বললেন বং মিডিয়া উজ্জ্বল।
কোচবিহারের একটি গ্রামের বাসিন্দা উজ্জ্বল বর্মন। হস্টেলে থেকে পড়াশোনা। ইংরাজিতে স্নাতক পাশের পর ডিএলএড-ও করেছেন তিনি। সেই সময়ই পাশাপাশি ইউটিউবের জন্য ভিডিও করা শুরু করেন উজ্জ্বল। তবে তা যে পেশা হয়ে যাবে তা ভাবতেও পারেননি। ২০১৭ সালে তাঁর সাবস্ক্রাইবার পেরিয়েছিল ১০ হাজার। সেই সময়ই একদিন রাস্তায় হঠাৎ নজরে পড়েন প্রিয়া। প্রথম দেখাতেই তাঁকে মন দিয়ে ফেলেন উজ্জ্বল। তবে প্রিয়া কিন্তু তখনই উজ্জ্বলের ডাকে সাড়া দেননি।
আরও পড়ুন:
এরপর বন্ধুর মারফত নম্বর বিনিময় হয়। প্রিয়ার সঙ্গে দিন তিনেক ফোনে কথা বলার পর একদিন দেখা করেন দু'জন। ঘটনাচক্রে তাঁদের কথা বলতে দেখে ফেলেন প্রিয়ার দাদা। ব্যস, বাড়ি ফিরতেই তুঙ্গে ওঠে অশান্তি। প্রেমিকার কান্না হজম করতে পারেননি উজ্জ্বল। সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন প্রিয়াকে বিয়ে করার। বাবা-মাকে সবটা জানান তিনি।
এরপর উজ্জ্বলের পরিবারের তরফে প্রিয়ার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়। দু'পক্ষের সম্মতি থাকায় চুটিয়ে প্রেম শুরু করে যুগল। একসঙ্গে ভিডিও তৈরি করে রাতারাতি সাফল্যের শীর্ষে উঠে যান উজ্জ্বল। এরপরই তার মনে হতে থাকে, তিনি হয়তো প্রিয়ার থেকেও ভালো কাউকে পেতে পারেন। তবে টানাপোড়েন সত্ত্বেও অ্যাঞ্জেলকেই বেছে নেন উজ্জ্বল। সেরে ফেলেন রেজিস্ট্রি।
তবে রেজিস্ট্রির পর যে সবটা সুন্দর গতিতে সম্পর্ক এগিয়েছে, তা একেবারেই নয়। দূরত্ব এতটাই বেড়েছিল যে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন দু'জন। তবে ভালোবাসা ভুলে যাওয়া কী এত সহজ! অ্যাঞ্জেলের ভালোবাসার টান উপেক্ষা করতে পারেননি উজ্জ্বল। এরপর একপ্রস্ত কান্নাকাটি। তড়িঘড়ি সামাজিক বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন যুগল। কয়েকমাসের মধ্যেই তাঁরা বাধা পড়েন সাত পাকে।
আরও পড়ুন:
এখন তাঁরা সুখী দম্পতি। একটি পডকাস্টে খোলামেলা আড্ডায় উজ্জ্বল বলেন, "একজন পুরুষের সফলতার পিছনে একজন নারী সত্যিই থাকে। আমার জীবনে সে অ্যাঞ্জেল। বাবা-মাকে তো সবটা বলা যায় না। কিন্তু সব বিপদে যেভাবে ও আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রয়োজনে সোনা বন্দক দিয়েছে। তবে আমার থেকে সামান্য একটা তিন ক্যামেরার ফোনও (আইফোন প্রো মডেল) নিতে চায় না। সেকেন্ড হ্য়ান্ড ফোন ব্যবহার করে। আমি গর্বিত ও আমার স্ত্রী।"