মুকুল থেকে আকিব, সব বাধা পেরিয়ে গ্রামের আলপথ থেকে আইপিএল রাঙিয়েছেন যাঁরা
আইপিএলে মাঠে নামছেন এমন সব তরুণ, যাঁদের শিকড় গ্রামে।
আরও পড়ুন:
দারিদ্র, অনিশ্চয়তা আর লড়াই – এই তিন শব্দের মিশেলেই মধ্যপ্রদেশের তরুণ পেসার মঙ্গেশ যাদবের জীবনকথা। সেই সংগ্রামের গল্পই নতুন মোড় নিয়েছে। আরসিবি তাঁকে ৫.২০ কোটি টাকায় দলে নিয়েছে। বোরগাঁও গ্রামের এক ভাড়াবাড়িতে বেড়ে ওঠা মঙ্গেশের জীবন ছিল সীমিত আয়ের মধ্যে টিকে থাকার লড়াই। তাঁর বাবা রাম আওধ যাদব পেশায় ট্রাকচালক। ভোর ৩টেয় উঠে দিনভর ঝুঁকিপূর্ণ পথে গাড়ি চালিয়ে সংসার চালাতেন।
কাশ্মীরের বারামুল্লার শিরি গ্রামের ছেলে আকিব নবি। যিনি 'নর্থ কাশ্মীর এক্সপ্রেস' নামে পরিচিত। তাঁর সাফল্য যেন এক সিনেমার গল্প। তাঁর বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ডাক্তার হোক। কিন্তু টেলিভিশনে ডেল স্টেনের আগুনঝরা বোলিং দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ফাস্ট বোলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। এবারের আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালস ৮.৪ কোটি টাকায় কিনেছে জম্মু-কাশ্মীরের পেসারকে। এরপর নবির গ্রামে শুরু হয় উৎসব।
আরও পড়ুন:
রাজস্থানের ঝুনঝুনু থেকে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। মুকুল চৌধুরী। দেশের ক্রিকেটভক্তরা এতক্ষণে নাম জেনে গিয়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ২৭ বলে ৫৪ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। ছোটবেলায় আর্থিক সংকটের সঙ্গে যুঝতে যুঝতে আইপিএলের মঞ্চ পর্যন্ত এসেছেন। তাঁকে ২.৬০ কোটি টাকায় কিনে নেয় লখনউ সুপার জায়ান্টস।
এবারের আইপিএলে স্বপ্নের অভিষেক হয়েছে তাঁর। দিনমজুরের সন্তান ব্রিজেশ শর্মা সোনালি সফরের শুরু হয়েছে। গতিতে-সুইংয়ে মুগ্ধ করে দিক গোটা ক্রিকেটবিশ্বকে। এখন কেউ তাঁকে বলছে ‘উধমপুর এক্সপ্রেস’, কেউ-বা ‘উধমপুরের শের’। এরকম নামডাক আরও হবে ব্রিজেশের। আইপিএলের নিলামে রাজস্থান রয়্যালস ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে কেনায় দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর পড়ে। সিএসকে'র বিরুদ্ধে সুযোগ পেয়ে তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ৩ ওভারে ১৭ রানে ১ উইকেট।
গত আট বছর ধরে খেলার সুবাদে তিনি কেকেআরের পরিবারের সদস্য হয়ে উঠেছেন। নিজেকে প্রমাণ করে এখন তিনি নাইটদের সহ-অধিনায়ক। স্বপ্নের সফরটা নেহাতই সহজ ছিল না রিঙ্কুর। কাঁটায় মোড়া পথ পেরিয়েই সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন। উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে জন্ম তাঁর। একটা সময় সংসার চালাতে ঝাড়ুদারের কাজও করেছেন তিনি। কিন্তু এতেও তাঁর ২২ গজে খেলার স্বপ্নকে ধামাচাপা দেওয়া যায়নি।