যোগাভ্যাসেই চাবুক ফিগার মালাইকা থেকে শিল্পার, জেন জি-কে টেক্কা অমিতাভ-মিলিন্দের
আগামী ২১ জুন ১২ তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। সেজে উঠেছে খাস কলকাতার রেড রোড। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুদিনের বঙ্গ সফরে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। একনজরে দেখে নেওয়া যাক বলিউডের কোন সেলেবদের কাছে যোগদিবসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
শিল্পা শেট্টি ও বিপাশা বসুর মতো অভিনেত্রীরা শরীরচর্চার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। কিন্তু, সাতের দশকের শেষভাগেই কিংবদন্তি অভিনেত্রী রেখা শরীরকে ফিট রাখার টোটকা হিসেবে যোগ ব্যায়ামকে প্রাধান্য দেন। গুরু রমা বান্সের তত্ত্বাবধানে যোগাভ্যাস শুরু করেন। তাঁর অভূতপূর্ব শারীরিক পরিবর্তন একসময় হয়ে উঠেছিল সিনেপাড়ার অন্যতম চর্চিত টপিক। যোগাসানের জন্যই বোধহয় ৭১ বছরেও চিরযৌবন রেখা। অনায়াসেই বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রীদের টেক্কা দিতে পারেন।
আরও পড়ুন:
প্রাণশক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং আনন্দে ভরপুর ৫২ বছরের মালাইকা অরোরা। যোগব্যায়ামের প্রতি নিবেদিত প্রাণ বললে বোধহয় ভুল বলা হবে না। নিয়মিত নিজের যোগচর্চার মুহূর্ত ও বিভিন্ন আসনের উপকারিতা সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেন। শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, কার্ডিও, পিলাটেস ও অন্যান্য শারীরিক অনুশীলনও করেন। মানসিক ভারসাম্য ও প্রশান্তির জন্য তিনি যোগ ও ধ্যানের ওপরই ভরসা রাখেন বলিউডের মুন্নি। ফিটনেস নিয়ে যে মালাইকা অত্যন্ত সচেতন তা বলাই বাহুল্য।
২০০৮ সালে 'তাশান' ছবির জন্য করিনার 'জিরো ফিগার'-এর কাহিনি আজও লোকমুখে ফেরে। নির্মেদ শরীর গড়তে যোগাসনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেই আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন। যা দেখে চোখ কপালে উঠেছিল সকলের। বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সে তিনি আকস্মিক ওজন কমানোর পরিবর্তে সামগ্রিক সুস্থতার ওপর জোর দেন। পিলাটেস এবং হার্ট-রেটভিত্তিক স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের সমন্বয়ে তিনি কর্মজীবন ও মাতৃত্বের মধ্যে সফল ভারসাম্য বজায় রেখেছেন।
৬০ বছর বয়সেও মিলিন্দ সোমান প্রকৃত অর্থে ফিটনেস আইকন। সুপারমডেল, মিউজিক ভিডিও তারকা এবং চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা থেকে তিনি আজ একজন আল্ট্রা-এন্ডিউরেন্স অ্যাথলিট এবং যোগব্যায়ামের একনিষ্ঠ প্রচারক হয়ে উঠেছেন। বয়স সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস অর্জন করা সম্ভব। তিনি ‘ডেইভি’ নামে নিজের একটি যোগসামগ্রীর ব্র্যান্ডও চালু করেছেন যেখানে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উপকরণ দিয়ে তৈরি যোগ ম্যাট পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
৮১ বছর বয়সেও অমিতাভ বচ্চন তাঁর কর্মজীবনে চূড়ান্ত ব্যস্ত। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে 'ফুল অন এনার্জি' নিয়ে কাজ করার নেপথ্যে রয়েছে ফিটনেস আর নিয়মশৃঙ্খলা। ১৯৮৩ সালের ‘কুলি’ ছবিতে তিনি নিখুঁত পদ্মাসন ও শীর্ষাসন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। এখনও যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, তিনি নিয়মিত প্রাণায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং যোগাভ্যাসের জন্য সময় বের করেন।