নাসার চন্দ্রযানে ৫ বোতল হট সস! নিছক খিদে মেটাতে নয়, কারণ জানলে চমকে উঠবেন
আর্তেমিস ২-র ভিতরে রয়েছে নানা আকর্ষণীয় খাদ্যবস্তু।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টে ৫৪ মিনিট নাগাদ আর্তেমিস-২’র সফল উৎক্ষেপণ করেছে নাসা। আমেরিকার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘দানবীয়’ কমলা-সাদা মহাকাশযানটি চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেয়। এটিই নাসার প্রথম মানববাহী চন্দ্রযান। এর ভিতরে রয়েছেন আমেরিকার তিন জন এবং কানাডার এক জন নভশ্চর। তাঁরা হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন।
আরও পড়ুন:
আর এই সফরে চন্দ্রযানের ভিতরে রয়েছে নানা আকর্ষণীয় খাদ্যবস্তু। সব মিলিয়ে ১৮৯ রকমের খাদ্যসামগ্রী রয়েছে সেখানে। এর মধ্যে ৫৮টি টর্টিলা, ৪৩ কাপ কফি এবং পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন হট সস। তবে হট সস স্রেফ খাদ্যকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য নয়। নেপথ্যে অন্য কারণ। হট সস ছাড়াও বারবিকিউ বিফ ব্রিস্কেট, ম্যাকারনি অ্যান্ড চিজ এবং আমচুরের সালাদের মতো আইটেম রয়েছে আর্তেমিসের নভশ্চরদের জন্য।
মহাকাশে ভারহীন শরীরের প্রথম দশঘণ্টার মধ্যে ৬ ঘণ্টাতেই মানবশরীরের আন্তঃকোষীয় তরল, রক্ত ইত্যাদি উপরের দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। যার প্রথম চিহ্ন দেখা যায় মুখে। গাল ফুলে যায়। অনুভূতিটা যেন সর্দিকাশির মতোই। তবে তা কোনও ভাইরাসঘটিত নয়, ফলে সংক্রমণও নেই। এবং সেরে ওঠারও কোনও ব্যাপার নেই। কারণ বিষয়টা জৈবিক নয়, তা মহাকর্ষীয়।
আরও পড়ুন:
আসলে মাইক্রো গ্র্যাভিটিতে থাকলে স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি কমে যায়। মনে রাখতে হবে কোনও বস্তুর স্বাদ নিতে কেবল জিভই সাহায্য করে না। সাহায্য করে নাকও! 'ঘ্রাণেন অর্ধ ভোজনম' কথাটা মনে পড়তে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপেল খাওয়ার সময় যদি নাকটা বন্ধ রাখা যায়, তাহলে জিভ মিষ্টত্বের স্বাদ পাবে। কিন্তু আপেলের নিজস্ব স্বাদের অনুভূতি যেন গায়েব হয়ে যাবে!
মহাকাশে গেলে এই সমস্যাটাই হয়। খাদ্যবস্তুর অ্যারোমা তথা সুগন্ধ নাকে প্রবেশ করতে পারে না। কেননা নাকের ছিদ্র স্ফীত ও অনেকাংশেই রুদ্ধ থাকে (সর্দির উপসর্গ রয়েছে বলে)। ফলে খাবার যেন 'পিচবোর্ড' বলে মনে হয়। এতেই ঘটে যেতে পারে অনর্থ। খাবার ইচ্ছে চলে যেতে পারে। যা আরও বিপদ ডাকবে। কিন্তু হট সসের মতো মশলাদার খাবার থাকলে খাবারকে সুস্বাদু করে তোলা সম্ভব।
এই অভিযানটি যদি সফল হয়, তাহলে আগামী দিনে নাসা আর্তেমিস-৩’র পরিকল্পনা করবে। তখন সেটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে। এদিকে এত দীর্ঘ সময় পরে চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠাচ্ছে নাসা, অথচ সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তেমন কোনও উৎসাহ নেই! মনে করা হচ্ছে, অর্থনৈতিক সংকট, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাকে তাঁরা মহাকাশ অভিযানের থেকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।