‘সহপাঠী’ অভিষেকের ‘ঘনিষ্ঠতা’তেই তোলাবাজি! কীভাবে ক্ষমতা বৃদ্ধি অভিযুক্ত আপ্তসহায়ক সুমিতের?
সম্প্রতি জেলবন্দি প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার অভিযোগের ভিত্তিতে শালবনি থানার পুলিশের স্ক্যানারে সুমিত রায়।
অভিষেক শহরের নামজাদা স্কুলের প্রাক্তনী। সেখানেই পড়াশোনা করতেন সুমিত। সূত্রের খবর, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত একই স্কুলে পড়তেন দু'জনে। এরপর অভিষেক পাড়ি দেন দিল্লিতে। সেখানেই শেষ করেন উচ্চশিক্ষা। সুমিতের পরিবারের লোকজনের অবশ্য আর্থিক সঙ্গতি তেমন নেই। তাই রাজধানীতে পাড়ি দিতে পারেননি। পরিবর্তে কলকাতাতেই পড়াশোনা শেষ করেন। তবে সুমিত নাকি এমবিএ করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
পড়াশোনা শেষ করার পর অভিষেক সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। সেই সময় নাকি সুমিতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অভিষেক। আপ্তসহায়ক হওয়ার প্রস্তাব দেন। সুমিত এককথায় রাজি হননি। সময় চেয়ে নেন। শেষমেশ অভিষেকের প্রস্তাবে সায় দেন। ২০১৩ সাল থেকে আপ্তসহায়ক হিসাবে কাজ শুরু করেন। তবে ছোটবেলার 'সহপাঠী' হলেও আপ্তসহায়কের সঙ্গে নাকি অভিষেকের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল না। অভিষেক ছিলেন 'বস'। 'স্যর' বলেই ডাকতে হত।
ঘনিষ্ঠ মহল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সুমিত ছিলেন অত্যন্ত অনুগত। অভিষেকের সমস্ত কথা শুনে চলতেন। সময় মেপে কাজ করতেন না। আর করবেনই বা কীভাবে, একদা শাসক শিবিরের 'সেকেন্ড ইন কম্যান্ড' অভিষেকের আপ্তসহায়ক বলে কথা! তাই দিনরাত কাজ করতেন। অভিষেক কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, কে তাঁর সাক্ষাৎ পাবেন - সে সবই দেখভালের দায়িত্ব ছিল সুমিতের। আর সে কারণেই নাকি বেশ কদর ছিল তাঁর।
সে-ই প্রভাব কাজে লাগিয়েই ক্রমশ ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন সুমিতও। ইস্ট ক্যানাল রোডের বাসিন্দা সুমিতের সম্পত্তির পরিমাণও বাড়তে থাকে তড়িৎ গতিতে। জমি দুর্নীতি থেকে বিধানসভা ভোটের টিকিট বিক্রি। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে উঠেছে একের পর এক অভিযোগ। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় একবার 'লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস' সংস্থা সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের মুখোমুখিও হতে হয় সুমিতকে।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি জেলবন্দি প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে শালবনি থানার পুলিশ। অভিষেকের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে সুমিতের শেষবার মোবাইল টাওয়ার লোকেশন পাওয়া যায়। ট্র্যাক করে সেখানে পৌঁছয় শালবনি থানার পুলিশ। মাঝরাতে প্রথমে কালীঘাট থানায় পৌছয় শালবনি পুলিশ। ভোর তিনটেয় অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছন পুলিশকর্মীরা। তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে অভিষেকের গোটা বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
যদিও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না সুমিতের। ইস্ট ক্যানাল রোডের বাড়িতে তাঁকে পাওয়া যায়নি। হুগলির শ্রীরামপুরে শ্বশুরবাড়িতে নেই সুমিত। সাংবাদিকদের হানায় রীতিমতো রণমূর্তি ধারণ করেন তাঁর শাশুড়ি। জানা গিয়েছে, সুমিতের স্ত্রীর পানশালারও নাকি ঝাঁপ বন্ধ। সুমিতের খোঁজে জোর তল্লাশি জারি রয়েছে। নিজে অন্তরালে থাকলেও কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সুমিত। আগাম জামিনের আবেদন খারিজ। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে মেদিনীপুর আদালত।