টিপ-শাড়ি অতীত! পোশাক বদলেই শিবির বদলের বার্তা মমতার ‘রেপ্লিকা’ সায়নীর
২০২১ সালে তৃণমূলে যোগদানের পর উল্কার গতিতে উত্থান হয় সায়নীর।
বঙ্গ রাজনীতিতে বর্তমানে পরিচিত ও চর্চিত নাম সায়নী ঘোষ। যদিও একটা সময়ে অভিনয় গুণেই মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি ঘোষিতভাবেই বামপন্থী ছিলেন। একাধিক ইস্যুতে তৎকালীন মমতা সরকারের বিরুদ্ধে সরবও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২১ সালে আচমকাই বদলে যায় ছবিটা। ২০১৫ সালের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সেই সময় বিতর্কে জড়ান সায়নী। সেই সময় এক্স হ্যান্ডেলে তাঁর পাশে দাঁড়ান মমতা। এরপর ২০২১ সালে হঠাৎই তৃণমূলে যোগ...
আরও পড়ুন:
প্রথম থেকেই দলনেত্রীর পছন্দের তালিকায় ছিলেন তরুণ তুর্কি সায়নী। দলে যোগ দিয়েই বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট পান তিনি। ঝোড়ো প্রচার করলেও জিততে পারেননি তিনি। তবে কাজের প্রতি নিষ্ঠার পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ পান সায়নী। তাঁর আগে যে দায়িত্ব সামলাতেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
অত্যন্ত দ্রুত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন সায়নী। তৃণমূলের একজন মুখ হয়ে যান। একাধিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। একুশে জয় না মিললেও ২০২৪-এ ফের সায়নীর উপর ভরসা রাখেন দলনেত্রী। যাদবপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী করা হয় তাঁকে। জয়ীও হন। এরপরই কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেপ্লিকা হয়ে ওঠেন সায়নী। পরনে সাদা শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি, ঠিক যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ছাব্বিশে রাজ্যে পালাবদলের পরই তৃণমূলে শুরু হয়েছে ভাঙন পর্ব। বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে হাতে গোনা কয়েকজনই রয়েছেন মমতার পক্ষে। দলনেত্রী দুর্দিনে সেই প্রিয়জনদের তালিকাতেই রেখেছিলেন সায়নীকেও। নতুন কমিটিতে যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে তাঁকে। কিন্তু সূত্রের খবর, তিনিও বিরোধী শিবিরে। সেরে ফেলেছেন সই। যদিও এনিয়ে মুখে কুলুপ এটেঁছেন সায়নী। তবে তাঁর হাবভাব বলে দিচ্ছে অনেককথাই।
আরও পড়ুন:
রাজনীতিকে ধ্যান-জ্ঞান করার পর পোশাকে বদল এনেছিলেন সায়নী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। অধিকাংশ সময় দেখা যাচ্ছিল শাড়িতেই। মাঝে মধ্যে পরতেন লং কুর্তি। তবে বৃহস্পতিবার একেবারে পুরনো মেজাজে দেখা গেল তাঁকে। পরনে জিনস, টপ, ছোট করে কাটা চুল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পোশাক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়েই অবস্থান পরিবর্তনে সিলমোহর দিলেন নেত্রী।