ঠাটিয়ে চড় থেকে ব্যাট ছুড়ে মারা, যেসব আগুনে বিতর্কে ধুন্ধুমার হয়েছে আইপিএল
আইপিএলে মাঠের লড়াই অনেক সময় সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, হাতাহাতি কিংবা তীব্র বচসায়।
ফিরে যাওয়া যাক ১৮ বছর আগের ‘স্ল্যাপগেট’ বিতর্কে। ২০০৮-এ মোহালিতে মুম্বই বনাম পাঞ্জাব ম্যাচে। ৬৬ রানে হেরে যায় মুম্বই। ম্যাচ শেষে মাঠ থেকে বেরনোর সময়েই বিপত্তি ঘটে। হেরে যাওয়ার রাগ সামলাতে না পেরে পাঞ্জাবের শ্রীসন্থকে চড় মারেন সেই ম্যাচে মুম্বইয়ের অধিনায়ক হরভজন। এই ঘটনার ফলে সেই মরশুমের আইপিএল থেকে নির্বাসিত হন তিনি। বিসিসিআইও পাঁচটি ম্যাচের জন্য তাঁকে নির্বাসনে পাঠায়।
আরও পড়ুন:
২০১২ সালে শাহরুখ খানের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম কাণ্ডও কম আলোচিত নয়। ম্যাচ শেষে বলিউডের বাদশা মাঠে ঢুকেছিলেন। তখন মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে এবং তাঁর দলের সঙ্গে থাকা শিশুদের বাধা দেন। এরপর নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বচসার জেরে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কলকাতা নাইট রাইডার্স মালিকের এমন আচরণ নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়েছিল।
আইপিএলের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বনাম আরসিবি ম্যাচে। মিচেল স্টার্ক বল করতে এগোতেই কাইরন পোলার্ড হঠাৎ ক্রিজ ছেড়ে সরে যান। তবু স্টার্ক বল করেন। এতে ক্ষুব্ধ পোলার্ড স্টার্কের দিকে ব্যাট ছুড়ে মারেন। মাঠে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে ক্যারিবিয়ান তারকাকে ম্যাচ ফি-র ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়।
আইপিএলের অন্যতম চর্চিত দ্বৈরথ বিরাট কোহলি ও গৌতম গম্ভীরের মধ্যে। এই বিতর্কের শুরু ২০১৩ সালে। সেই সময় মাঠের মধ্যে তীব্র বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন দু’জন। পরিস্থিতি এতটাই বিগড়ে যায়, অন্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। এর ১০ বছর পর, ২০২৩ সালে আরসিবি ও লখনউ সুপার জায়ান্টস ম্যাচের পর সেই পুরনো উত্তেজনা আবারও সামনে আসে। বিরাটের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন এলএসজি মেন্টর গম্ভীর।
আরও পড়ুন:
তিনি ক্যাপ্টেন কুল। বরফের মতো ঠান্ডা তাঁর মাথা। সেই এমএস ধোনিই ২০১৯ আইপিএলে মেজাজ হারিয়েছিলেন। সিএসকে বনাম রাজস্থান ম্যাচের শেষ ওভারে বেন স্টোকসের ফুলটস স্যান্টনারকে করা হলে আম্পায়ার 'নো-বল' ডাকেন। পরে স্কোয়ার-লেগ আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। এরপর ডাগআউট ছেড়ে মাঠে নেমে আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্কে জড়ান তিনি। ম্যাচ ফি-র ৫০ শতাংশ জরিমানার হয় ধোনির। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে বড় ভুল বলে স্বীকার করেন।
এবার আসা যাক, আইপিএল ইতিহাসে প্রথমবার মানকাডিংয়ের ঘটনার কথায়। ২০১৯ আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব অধিনায়ক রবিচন্দ্রন অশ্বিন বল করার আগেই ক্রিজ ছাড়ায় জস বাটলারকে রান আউট করেন। সেই সময় নন স্ট্রাইকার এন্ডে ছিলেন ইংরেজ ব্যাটার। নিয়ম অনুযায়ী বৈধ হলেও এই ‘মানকাডিং’ বিতর্কে রূপ নেয়। অনেকে এটিকে খেলার স্পিরিটবিরোধী বলেন, আবার অনেকে নিয়মসম্মত সিদ্ধান্ত হিসাবেই সমর্থন করেন।
গত আইপিএলে একাধিকবার নোটবুক সেলিব্রেশন করে শাস্তির কবলে পড়েন দিগ্বেশ রাঠি। ভারতীয় বোর্ডের নজরদারিতেও কিছুতেই কমানো যায়নি না এমন উদযাপন। কাল্পনিক চিঠি লেখার মতো এই সেলিব্রেশনের ক্ষেত্রে যেন পথদ্রষ্টা তিনিই। অভিষেক শর্মা, নমন ধীর, শ্রেয়স আইয়ার, প্রিয়াংশ আর্যদের আউট করে এমন উল্লাস করেছিলেন এলএসজি স্পিনার।
নবীন উল হক এবং বিরাট কোহলি, দুই ক্রিকেটারের নাম গুগল সার্চ ইঞ্জিনে টাইপ করলেই বেরিয়ে আসে আইপিএলের তিক্ত ঘটনার খবর। আরসিবি বনাম লখনউ ম্যাচে কোহলি-নবীনের মধ্যে ঝামেলা সপ্তমে চড়ে। আসরে নামেন এলএসজি মেন্টর গৌতম গম্ভীর। ঘটনার জল গড়ায় বহুদূর। মাঠেই তরুণ আফগান বোলারকে জুতো দেখানোর অভিযোগ ওঠে বিরাটের বিরুদ্ধে। যার প্রতিবাদ করতে গিয়েই বচসায় জড়িয়ে পড়েন নবীন।
২০১৫ সালে আরসিবি ম্যাচে মুখে টেপ লাগিয়ে খেলেছিলেন কাইরন পোলার্ড। ক্রিস গেইলের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছিলেন। আম্পায়ররা তাঁকে খেলে চালিয়ে যেতে বলেন। আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অলরাউন্ডার ডাগআউট থেকে হলুদ টেপ এনে মুখে লাগিয়ে নেন। যদিও শেষ ওভারে তা খুলে ফেলেন।মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ এবং বিনীত কুলকার্নির এই ঘটনা পছন্দ হয়নি। পরে তাঁর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।
কাইল জেমিসন মারাত্মক ইয়র্কারে আউট করেন ফর্মে থাকা ১৫ বছরের বিস্ময় প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীকে। বৈভবের ব্যাট ও পায়ের মাঝে এতটাই ফাঁক ছিল যে, ব্যাট নামানোর আগেই উইকেট ছিটকে দেয়। তারপর শুরু হয় দিল্লির বোলারের 'বন্য' উল্লাস। বৈভবের সামনে এসে অকারণে চিৎকার করতে থাকেন। মুখের কাছে এসে হাততালি দেন। ঘটনার পর কিউয়ি পেসারের একটি ডিমেরিট পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছে।