‘হায়দার’-এর অভিনেতা থেকে লস্কর জঙ্গি! সাকিব বিলাল শেখের করুণ পরিণতির কথা জানেন?
দক্ষ অভিনেতা হিসেবে কিশোর বয়সেই নজর কাড়া ছেলেটা কীভাবে তলিয়ে গেল চোরাবালিতে!
আরও পড়ুন:
ছবিতে একটি দৃশ্য ছিল অমর সিং কলেজের। চারপাশে নাবালকদের ভিড়, হঠাৎই প্রবল বিস্ফোরণে চারপাশ কেঁপে উঠবে। দেখা যাবে সকলেই মারা গিয়েছে, কেবল সাকিব অভিনীত চরিত্রটি একাই বেঁচে গিয়েছে। তার অভিব্যক্তি আলাদা করে নজর কেড়েছিল সকলের। আসলে অভিনয়ে বরাবরই সে বেশ দক্ষ ছিল। অল্প বয়স থেকেই অভিনয় প্রতিভার স্ফূরণ ঘটেছিল তার মধ্যে।
স্কুলে কোনও নাটক হলে অভিনেতা হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিল সাকিব। পরে সে নাটক করতে শ্রীনগর বা ওড়িশাতেও গিয়েছে। এমনকী নাটক করে পুরস্কারও সে পেয়েছিল। সেই অভিনয় দক্ষতাই তাকে 'লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন'-এর জগতেও প্রবেশাধিকার দেয় নেহাতই নাবালক বয়সে। কে জানত ক্যামেরার সামনে বিস্ফোরণের সামনে অসহায় কিশোরের ভূমিকায় অভিনয় করা সাকিব একদিন নিজেই হয়ে উঠবে সন্ত্রাসের মুখ!
আরও পড়ুন:
তবে সাকিব তার গ্রামে কিন্তু ফিরত! এমনটাই জানিয়েছে সাকিবের বন্ধুরা। লস্কর-ই-তইবায় যোগ দিয়েছিল সে। মাঝে মাঝে নিজের পাড়ায় এসে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করত। তবে বাড়ির লোকের সঙ্গে সে কখনওই দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। বন্ধুদেরও সাহস হয়নি তার বাড়িতে খবর দেওয়ার! কেননা সঙ্গে সব সময়ই আগ্নেয়াস্ত্র রাখত সতেরো বছরের কিশোর।
তাঁর মামা আরও বলেছিলেন, ''আমরা সবসময়ই সাকিবের যাবতীয় প্রয়োজন ও দাবিদাওয়া পূরণ করে এসেছি। তাই বুঝতে চেয়েছিলাম— ঠিক কোন কারণে সে হাতে অস্ত্র তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু শেষমেশ এমনটা আর কখনওই ঘটেনি।'' সাকিবের মৃত্যুকে আজও মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার। ফুটফুটে দুই কিশোরকে যারা মৌলবাদের বিষ খাইয়ে অন্ধ করে দিয়েছিল, তাদের উদ্দেশে আজীবন ঘৃণা বয়ে বেড়াবেন সাকিবের আপনজনেরা।