পেলে-মারাদোনার স্বপ্নপূরণের মঞ্চ, সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টেডিয়াম, একনজরে বিশ্বকাপের ১৬ রণভূমি
মার্কিন মুলুকে বিশ্বকাপ খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির রয়েছে কিংবদন্তি পেলে এবং মারাদোনা দু’জনেরই।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলা হবে মেক্সিকোর এস্তাদিয়ো আজতেকায়। রাজধানী মেক্সিকোর এই স্টেডিয়ামে প্রায় ৮৭,৫০০ দর্শক খেলা দেখতে পারেন। মেগা টুর্নামেন্ট উপলক্ষে এই স্টেডিয়ামের ছাদে ব্যবহার করা হবে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক দেশের পতাকা। এই স্টেডিয়ামেই বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিল পেলের ব্রাজিল (১৯৭০) এবং মারাদোনার আর্জেন্টিনা (১৯৮৬)। চ্যাম্পিয়ন হয় দুই দলই। এছাড়াও মেক্সিকোর এস্তাদিয়ো বিবিভিএ এবং এস্তাদিয়ো অ্যাকরনে খেলা হবে ম্যাচ।
আরও পড়ুন:
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্টেডিয়ামে এবারের বিশ্বকাপের বেশ কিছু ম্যাচ খেলা হবে। মার্কিন মুলুকে লস অ্যাঞ্জেলসের বুকে তৈরি হয়েছে ৭০২৫০ আসন বিশিষ্ট সোফাই স্টেডিয়াম। সবমিলিয়ে ৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে এই স্টেডিয়াম গড়ে তুলতে। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্কটা ৫২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই এই স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছে।
মার্কিন মুলুকে ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামেও রয়েছে চমকে দেওয়া পরিকাঠামো। দর্শকাসনের বিচারে আসন্ন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম এটি। ৮০ হাজার মানুষ খেলা দেখতে পারেন এখানে। প্রয়োজন পড়লে মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে গোটা স্টেডিয়াম ঢেকে দেওয়া যেতে পারে। সঙ্গে রয়েছে ১৬০ ফুটের দৈত্যাকার বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল-সহ মোট ৯টি ম্যাচ খেলা হবে এই স্টেডিয়ামে।
আটলান্টার মার্সেডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামেও রয়েছে মাঠ ঢাকার অনবদ্য প্রযুক্তি। আটটি প্যানেলের একসঙ্গে সচল হয়ে মাঠ ঢাকা এবং খোলার কাজ করে। দূর থেকে সেটা একেবারে ফুল ফোটার মতো দেখতে পারে। গোটা প্রক্রিয়াটি মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায়। স্টেডিয়ামের প্রত্যেক আসন থেকে দেখা যায় এমন একটি এলইডি বোর্ড রয়েছে স্টেডিয়ামের ছাদে।
আরও পড়ুন:
মেক্সিকোর এস্তাদিয়ো বিবিভিএ ঠিক ভারতের ধরমশালা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মতো। মাঠে বসে ফুটবলের পাশাপাশি পাহাড়ের সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। আগাগোড়া ইস্পাতে মোড়া এই স্টেডিয়ামটি জল পরিশোধন করতেও সক্ষম। বৃষ্টির জল শোধন করে স্থানীয় জলাশয়গুলিতে পাঠানো হয়। পাহাড়ের কোলে ভারী ইস্পাত দিয়ে তৈরি স্টেডিয়ামটি পরিচিত 'স্টিল জায়ান্ট' নামে। এখানে আসনসংখ্যা প্রায় ৫৩,৫০০।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে খেলা হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। যুবভারতীর মতোই এই মাঠকেও ঘরের মাঠ হিসাবে ব্যবহার করে দু'টি দল- নিউ ইয়র্ক জায়ান্টস এবং নিউ ইয়র্ক জেটস। নিউ জার্সির এই স্টেডিয়ামটিতে ঘরের মাঠে যখন যে দল খেলতে নামে, সেই দলের রঙের আলোকসজ্জা দেখা যায়। মাঠ থেকে মাত্র ১৪ মিটার দূরত্ব বসতে পারেন দর্শকরা।
এছাড়াও কানাডার বিসি প্লেস এবং বিএমও ফিল্ড স্টেডিয়াম, মেক্সিকোর এস্তাদিয়ো অ্যাকরন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনআরজি স্টেডিয়াম, লিঙ্কন ফিনানশিয়াল ফিল্ড, জিলেট স্টেডিয়াম, অ্যারোহেড স্টেডিয়াম, লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়াম, হার্ড রক স্টেডিয়াম এবং লিভাই'স স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলা হবে। তবে এই স্টেডিয়ামে টিকিটের অগ্নিমূল্য নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক।