তিন তালাক থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ, ‘দীর্ঘতম’ কেরিয়ারে প্রধানমন্ত্রী মোদির ১০ মাস্টারস্ট্রোক
নির্বাচিত হয়ে একটানা সবচেয়ে বেশি সময়ের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির এখন মোদির দখলে।
মোদি জমানার সবচেয়ে চর্চিত সিদ্ধান্ত সম্ভবত নোটবন্দি। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর সন্ধেয় মোদির ঘোষণা, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল। কালো টাকা চিহ্নিত করতেই এই সিদ্ধান্ত। বাতিল হওয়া নোট জমা এবং অন্য নোট নেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কগুলিতে ভিড় জমান আমজনতা। প্রাণ হারান প্রায় ১০০ মানুষ। পরবর্তীকালে মোদির এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে এই সিদ্ধান্তে ডিজিটাল লেনদেন বেড়েছে দেশজুড়ে।
আরও পড়ুন:
নোটবন্দির একবছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে অভিন্ন কর কাঠামো চালু করেন মোদি। নানা ধরণের কর তুলে দিয়ে মোদি শুরু করেন জিএসটি। প্রধানমন্ত্রীর যুক্তি ছিল, দেশজুড়ে নানা কর থাকার দরুণ অহেতুক জটিলতা রয়েছে। জিএসটির ফলে সেই সমস্যার সমাধান হবে। প্রথমে ৬টি নির্দিষ্ট হারে সমস্ত পণ্যের উপর কর বসানো হয়েছিল। গতবছর জিএসটির কাঠামো সংশোধন হয়। মূলত দু'টি স্ল্যাব রয়েছে বর্তমান কর কাঠামোয়।
প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ৩৭০ ধারা বিলোপ হয় ২০১৯ সালে। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারেই ছিল, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ করা হবে। ২০১৪ সালের এই প্রতিশ্রুতি পাঁচ বছর পরে পূরণ করে মোদি সরকার। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয় জম্মু-কাশ্মীর। দেশজুড়ে এই সিদ্ধান্তের তুমুল বিরোধিতা শুরু হয়। দীর্ঘদিন উপত্যকায় বন্ধ ছিল ইন্টারনেট। কিন্তু কাশ্মীর এখনও পূর্ণ রাজ্যের স্বীকৃতি পায়নি। প্রবল জনরোষ রয়েছে লাদাখেও।
২০১৯ সালেই মোদি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন আনে। সেখানে বলা হয়, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা ৬টি ধর্মাবলম্বীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলা, অসম-সহ দেশের নানা প্রান্তে শুরু হয় বিক্ষোভ। দেশের সংবিধানে লিখিত ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ লঙ্ঘন হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। সুপ্রিম কোর্টে এই নিয়ে মামলা চলার মধ্যেই দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে সিএএ।
আরও পড়ুন:
২০২০ সালে করোনা অতিমারীর কবলে পড়ে বিশ্ব। মাত্র কয়েকঘন্টার নোটিসে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ লকডাউনের ঘোষণা করেন মোদি। এই ঘোষণার পর লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরে ফেরার চেষ্টা করেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার একসঙ্গে এত মানুষ স্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। লকডাউনের জেরে দেশের অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগে। কর্মহীন হন বহু মানুষ। তবে করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউন যথেষ্ট সফল।
মোদি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দেশজুড়ে কার্যকর হয় জাতীয় শিক্ষানীতি। এই নীতির প্রতিবাদে তামিলনাড়ু-সহ দক্ষিণের একাধিক রাজ্য প্রতিবাদে শামিল হয়। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় এই নীতির বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হয়। শিক্ষানীতির নামে কেন্দ্র হিন্দি আগ্রাসন চালাচ্ছে, কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধের চেষ্টা চলছে-এমন নানা অভিযোগে সরব হন দক্ষিণের রাজনীতিকরা। শিক্ষাকে মহার্ঘ করে তোলার অভিযোগ আনে পড়ুয়াদের একাধিক সংগঠন। সাময়িকভাবে প্রতিবাদ করেছে বাংলাও।
মোদি জমানার অন্যতম মাস্টারস্ট্রোক তিন তালাক বাতিল। তিনবার 'তালাক' বলে বিবাহবিচ্ছেদকে অবৈধ ঘোষণা করে কেন্দ্র। অভিযুক্তদের জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার এবং তিন বছরের কারাদণ্ড-এই মর্মে আইন পাশ হয়। মুসলিম মহিলাদের উপর অন্যায় বন্ধ করতে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ-এমনটাই মনে করে কেন্দ্র সরকার। মোদি জমানায় পাশ হয় ওয়াকফ আইনও।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচনী বন্ড, কৃষি আইনের মতো বেশ কিছু ঘোষণা করেছেন মোদি। তবে পরে কেন্দ্র সরকারকে প্রবল সমালোচনা সহ্য করতে হয়। একটা সময় পরে এই দু'টি ঘোষণা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। পাশাপাশি মেক ইন ইন্ডিয়ার ঘোষণাও করেছেন মোদি। প্রতিরক্ষা, শিল্প-সহ নানা ক্ষেত্রে দেশকে আত্মনির্ভর করার লক্ষ্যে শুরু হয় এই প্রকল্প। বহু বিদেশি বিনিয়োগও এসেছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।