মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত কৃষ্ণনগর-আমঘাটা রুটে শুরু ট্রেন চলাচল
আপ-ডাউন মিলিয়ে চলবে তিনজোড়া ট্রেন।
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ২১:৩৭
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ২১:৩৭
১৭
প্রতীক্ষার অবসান! দেড় দশক পর কৃষ্ণনগর আমঘাটা রুটে শুরু ট্রেন চলাচল। শনিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল। উপস্থিত ছিলেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার থেকে রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকারা। এই রুটে ফের ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।
২৭
২০১০ সালে শান্তিপুর থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত ন্যারোগেজ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তৎকালীন রেলমন্ত্রী তথা বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পথে ব্রডগেজ রেলপথের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা আটকে থাকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১৫ বছর। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। শেষে বহু বাধা-বিপত্তি ও জমিজটের সমস্যা কাটিয়ে কৃষ্ণনগর থেকে নবদ্বীপ ঘাট পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার পথের কাজ শুরু হয়। অবশেষে শনিবার থেকে এই রুটে শুরু হল ট্রেন চলাচল।
৪৭
প্রথম পর্যায়ে কৃষ্ণনগর থেকে আমঘাটা পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ায় শনিবার থেকে এই অংশে যাত্রীবাহী ইএমইউ ট্রেন চলাচল শুরু হল। আপ-ডাউন মিলিয়ে মোট তিনজোড়া ট্রেন এই রুটে চলবে। কৃষ্ণনগর-আমঘাটা পথে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
৫৭
কৃষ্ণনগর থেকে সকাল ৬.৪৫, দুপুর ১.৩০, রাত ৯.১৫ ও আমঘাটা থেকে সকাল ৭.০৮, দুপুর ১.৫৩, রাত ৯.৩৮ মিনিটে ছাড়বে ট্রেনগুলি। এই রুটে ট্রেন চালু হওয়ায় নদিয়ায় রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হল বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।
তবে এই রুটে ট্রেন চালুর কৃতিত্ব কার তা নিয়ে শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি। বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার তৃণমূলের দিকে জমি অধিগ্রহণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই কথা জানিয়ে বিজেপি বিরোধিতায় সরব হয়েছে তৃণমূল।
৭৭
এদিকে নবদ্বীপ পর্যন্ত লাইন টেনে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। ভাগীরথী নদীর উপর প্রায় ১০৬ কোটি টাকা খরচ করে সেতু তৈরি করা হয়েছে। তবে এখানেও জমিজট সমস্যা হয়ে দাঁড়িছে।
ভেঙে দু’টুকরো হবে ভারত! মাটির গভীরে আলোড়ন, বাড়ছে আশঙ্কা
ভারতীয় টেকটনিক প্লেটে ফাটল!
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ১৬:৩১
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ১৬:৩১
১৮
ভেঙে দু'টুকরো হয়ে যেতে পারে ভারত। এমন আশঙ্কাই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। আসলে হিমালয়ের গভীরে ভূগর্ভে ভারতীয় টেকটনিক প্লেট ভেঙে যাচ্ছে। আর সেই কারণেই বড়সড় বিপর্যয় নেমে আসতে চলেছে। এমনই দাবি গবেষকদের।
২৮
চিনের ওসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে ভারতীয় টেকটনিক প্লেটের উত্তরাংশ নিয়ে গবেষণার সময়ই তাঁরা বিস্মিত হয়ে যান। দেখা যায় ভারতীয় টেকটনিক প্লেট ইউরেশিয়ান প্লেটের নিচে ঢুকে যাচ্ছে ক্রমশ। কেবল ঢুকেই যাচ্ছে না, তা আক্ষরিক অর্থেই ছিঁড়ে যাচ্ছে। ফলে এক বড়সড় ভৌগোলিক পরিবর্তনের মুখে দেশ।
তিব্বতের নিচে ১০০ কিলোমিটার গভীর অংশে দুই অংশে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে ভূখণ্ড। নতুন তথ্য এমন দিকই তুলে ধরছে।
৪৮
চিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ লিন লিউয়ের নেতৃত্বে এক গবেষক দল দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা চালাচ্ছে দক্ষিণ তিব্বতে। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে ভারতীয় টেকটনিক প্লেট ‘ডিলেমিনেশন’ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে চলছে। দেখা যাচ্ছে গভীর নিম্নাংশটি অগভীর ঊর্ধ্বাংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। যদিও বহু অংশ অবিকৃত অবস্থাতেও রয়েছে।
৫৮
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ফাটল বরাবর দুই ভাগে ভেঙে যেতে পারে দেশ! এর প্রভাব পড়বে হিমালয়ের উপরও। মনে রাখতে হবে হিমালয়ের জন্মও ভারতীয় ও ইউরেশিয়ার প্লেটের ধাক্কাধাক্কিতেই হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, তিব্বতের ভূগর্ভস্থ জলে হিলিয়াম-৩ গ্যাসের সন্ধানও মিলেছে। যা ভূ-অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
৭৮
গবেষকরা বলছেন, তাঁদের আশা, গবেষণা আরও এগোলে তাঁরা এই সংক্রান্ত আরও বড় ছবি পাওয়া যাবে। তখনই বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
৮৮
টেকটনিক প্লেটের চলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়। সেদিকে লক্ষ রেখে ভারতের ভবিষ্যৎ-সহ পৃথিবীর আগামিকাল সম্পর্কে আরও তথ্য তাই সংগ্রহ করতে চাইছেন গবেষকরা।
২২ গজে টানটান উত্তেজনা, রুদ্ধশ্বাস লড়াই মানেই এখন টি-টোয়েন্টি। আর এই টি-টোয়েন্টির যুগে টেস্ট ম্যাচ কার্যত মৃতপ্রায়। কিন্তু শুক্রবারের ইডেন প্রমাণ করে দিল, এ শহর ক্রিকেটকে কতখানি ভালোবাসে।
২৮
এদিন সকাল থেকেই সিরিজের প্রথম ম্য়াচ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। শুভমান গিলরা মাঠে নামার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই ভরে গেল ইডেনের গ্যালারি। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যাটা আরও বাড়তেই থাকল।
২০১৯ সালে শেষবার টেস্ট আয়োজিত হয়েছিল ক্রিকেটের নন্দনকাননে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম গোলাপি বলের টেস্ট। সে সময় বিসিসিআইয়ের মসনদে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ছ'বছর পরও আবারও ক্রিকেট প্রশাসনে 'দাদা'। সিএবি প্রেসিডেন্ট তিনি। এত বছর পর তিনিও ভরা ইডেনে উপভোগ করলেন পাঁচদিনের ক্রিকেট। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ও।
৪৮
ভরা গ্যালারিকে নিরাশও করেননি ভারতীয় তারকারা। দুর্দান্ত ছন্দে টিম ইন্ডিয়াকে দেখার সুযোগ পেলেন সমর্থকরা। জশপ্রীত বুমরাহ তুলে নেন পাঁচটি উইকেট। ২০০৮ সালের পর কোনও টেস্টের প্রথম দিনেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়লেন তিনি। ১৭ বছর আগে আহমেদাবাদে এই নজির গড়েছিলেন ডেল স্টেন। এদিকে মহম্মদ সিরাজও ঝুলিতে ভরেন জোড়া উইকেট। যার কৃতিত্ব অবশ্য বুমরাহকেই দিচ্ছেন 'ডিএসপি'।
৫৮
নিজের দুরন্ত পারফরম্যান্সের সিক্রেট ফাঁস করেএদিন সিরাজ জানান, “উইকেটের একটা প্রান্তে ব্যাট করা সহজ হলেও অন্য প্রান্তে বাউন্সের বৈচিত্র থাকায় রান করা ততটাও সহজ নয়। জস্সি ভাই আমায় বলল, স্টাম্প লক্ষ্য করে বল করতে। তাহলেই উইকেট নেওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। বলের লাইন ঠিক থাকলে এলবিডব্লিউ, বোল্ড বা ক্যাচও উঠতে পারে। আমি সেটাই করেছি।”
এদিন বুমরাহ, কুলদীপ, সিরাজদের দাপটে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৫৯ রানে। মার্করামের ৩১ রান ছাড়া কেউই ক্রিজে টিকতে পারেননি। জবাবে দিনের শেষে ভারতের রান ১ উইকেটে ৩৭।
৭৮
তবে প্রথম দিন বিতর্কও পিছু ছাড়ল না ২২ গজকে। শুক্র-সকালে সাই সুদর্শনের জায়গায় তিনে ওয়াশিংটন সুন্দরের নাম দেখে অবাক বনে গিয়েছিলেন প্রাক্তনরা। নেটভুবনেও চলে জোর চর্চা। আবার বোলিংয়ের সময় প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার উদ্দেশে বুমরাহর 'বামন' মন্তব্য নিয়েও দানা বাঁধে বিতর্ক।
৮৮
তবে ক্রিকেট সমর্থকরা যে ভারতীয় দলের সাফল্যে বিভোর, তা স্পষ্ট করে দিল এদিনের ইডেন। পুরুষ হোক বা মহিলা, সীমিত ফরম্যাট হোক কিংবা টেস্ট- সবক্ষেত্রেই সেরা টিম ইন্ডিয়া। সেই সাফল্যের হাত ধরেই যেন ফিরল ক্রিকেটের কৌলিন্য।