কেরিয়ারের মধ্যগগনে থেকেও কর্মবিরতি, কোন অপরাধবোধে এত বড় সিদ্ধান্ত বিক্রান্তের?
সন্তানের জন্মের পর কর্মজগৎ থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন অভিনেতা বিক্রান্ত মাসে। পরিণীতার পডকাস্টে এসে কারণ ব্যাখা করলেন ‘সবরমতী এক্সপ্রেস’খ্যাত অভিনেতা।
আচমকা বলিউড ছাড়ার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন সেই কারণ অবশ্য নিজেই ব্যখা করেছেন অভিনেতা। একরত্তি পুত্রসন্তানের জন্যই ক্ষণিকের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিক্রান্ত। সন্তান পালনের দায়িত্ব শুধু মায়ের নয়, বাবারও সমান দায়িত্ব বলে মনে করেন বিক্রান্ত। তাই আদর্শ বাবা হয়ে উঠতেই ভক্তদের ও সিনেপ্রেমীদের মন ভেঙেছেন বিক্রান্ত।
আরও পড়ুন:
মা হওয়ার পর পরিণীতি চোপড়ার শো ‘মম টকস’নামক একটি পডকাস্ট শুরু করেছেন। সেখানেই স্বস্ত্রীক এসে বিক্রান্ত বলেন, সন্তানের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা নিয়ে এত আলোচনা হবে প্রথমে তা বুঝতে পারেননি। তবে বিক্রান্ত নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে পুরো সময়টা কাটাতে চেয়েছিলেন ‘টুয়েলভ্থ ফেল’ খ্যাত এই অভিনেতা।
সন্তানের জন্মের পর কেরিয়ারে ডুবে থাকাটা তাঁর কাছে অপরাধ বলে মনে হয়েছে। সদ্য বাবা হওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেননি বিক্রান্ত। সেই অপরাধবোধ থেকেই এবার কর্মজগত থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনেতা বিক্রান্ত মাসে। স্ত্রী শীতলও তাঁর কথায় সহমত পোষণ করে জানান, বিক্রান্তের মধ্যে সত্যিই অপরাধবোধ কাজ করত।
পরিণীতির শোয়ে খানিকটা আবেগে ভেসে বিক্রান্ত বলেন, "কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা নিজেদের আবেগ, মানসিকস্থিতি ও শারীরিক অবস্থান নিয়ে সত্যি কতটা ভাবনাচিন্তা করি? প্রথমবার যখন বাবা হলাম আমার মন সবসময় বাড়িতেই পরে থাকত। সেই সময় নিজেকে একবারও প্রশ্ন করিনি কেন করছি বা কী জন্য করছি। মনেপ্রাণে শুধু একটাই প্রার্থনা করতাম যত দ্রুত সম্ভব হাতের কাজ শেষ করে পরিবারের কাছে ফিরব। ওই সময়টা যেন এক অদ্ভুত শূন্যতা আমাকে...
আরও পড়ুন:
প্রথমবার ছোট্ট সোনার আধোআধো ভাবে 'বাবা' বলার যে চেষ্টা সেটা শুনে মনের ভিতর যে আনন্দের ঢেউ উঠেছিল সেই সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন বিক্রান্ত। আবেগে ভেসে অভিনেতা বলেন, "সেই মুহূর্তেই বুঝেছিলাম আমার বাড়ি ফেরা উচিত। সন্তানের জন্মের দু'মাস পর আমি বাবা হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে বলেছিলাম এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমি যা চেয়েছিলাম তার থেকেও বেশি পেয়েছি।"
পিতৃত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, "নতুন মায়েরা যেমন সন্তানসুখ উপভোগ করে বাবারাও সেটা চান। কিন্তু, পেশার তাগিদে অনেকেই পরিবার ছেড়ে থাকতে হয়। আমাদের সমাজের একটা বদ্ধপরিকর ধারণা আছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাঁরাই অর্থ উপার্জনের মেশিন। পুরুষ কখনও ঘরে থাকতে পারবে না। আমি আধঘণ্টা অন্তর ফোন করে সন্তানের খোঁজ নিই।"