সদস্যপদের ফি ২০ লক্ষ, প্রবেশাধিকার ছিল না সাধারণ ভারতীয়দের! কেন বিতর্কে দিল্লির জিমখানা ক্লাব?
হোয়াইট হাউসের চেয়েও বড়, সদস্য হতে অপেক্ষা ৩৭ বছর, কেন ওই অভিজাত ক্লাবে নজর কেন্দ্রের।
আরও পড়ুন:
দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ওই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত ইংরেজ আমলে। ১৯১৩ সালে চালু হয় ইমপেরিয়াল জিমখানা ক্লাব। ১৯১১ সালে কলকাতা থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরানোর পর নতুন রাজধানীতে ব্রিটিশ কর্তাদের আমোদ-প্রমোদের জন্য এই ক্লাব প্রতিষ্ঠিত। ক্লাবটিতে ইংরেজ সরকারের উচ্চপদস্থ সরকারি এবং সেনা আধিকারিকেরা গোপন বৈঠক, খেলাধুলো, খানাপিনা করতেন। ক্লাবটি অন্দরের অভিজাত্য, চাকচিক্যের জন্য বিখ্যাত। বিভিন্ন খেলাধুলো, সুইমিং পুলের ব্যবস্থা রয়েছে।
স্বাধীনতার সময় ক্লাবটির নাম থেকে ইমপেরিয়াল শব্দটি সরানো হয়। তবে মোটের উপর এর আভিজাত্য বা চাকচিক্যে কোনও বদল আনা হয়নি। ইংরেজদের মতোই সমাজের একেবারে উচুস্তরের মানুষই এই ক্লাবের সদস্য হতে পারেন। ক্লাবের সদস্যপদের ৪০ শতাংশ আমলাদের জন্য সংরক্ষিত। ৪০ শতাংশ সংরক্ষিত সেনা আধিকারিকদের জন্য। বাকি ২০ শতাংশ সমাজের ‘ভিআইপি’দের জন্য রাখা। অনেকে বলেন দিল্লির রাজনীতি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হয় জিমখানা থেকেই।
আরও পড়ুন:
জিমখানা ক্লাবের সদস্যপদ বেশ মহার্ঘ্য। ক্লাবের সদস্য হতে অন্তত ৫-২০ লক্ষ টাকা লাগে। সেনা কর্তাদের জন্য বিশেষ ছাড় রয়েছে। তবে রাজনীতিবিদ-শিল্পপতিদের জন্য কোনও ছাড় নেই। ২০ লক্ষ টাকা থাকলেই যে জিমখানা ক্লাবের সদস্য হওয়া যায়, তেমনটা নয়। সামাজিক প্রতিষ্ঠা একটা বড় প্রশ্ন। ওই ক্লাবের সদস্য বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভির অভিযোগ, রাহুল গান্ধী সদস্য বলেই ক্লাবটি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
জিমখানা ক্লাবের সদস্য হওয়া রীতিমতো কঠিন কাজ। আবেদন করলেই সদস্য হওয়া যায় না। অপেক্ষমানদের তালিকা ৩৭ বছরের দীর্ঘ। কেবল প্রভাবশালী মানুষ, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তা এবং বিত্তশালীরাই জায়গা পেতে পারেন সেই ক্লাবে। ওই ক্লাবের সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয় না। পুরনো কোনও সদস্য মারা গেলে বা কেউ সদস্যপদ ছাড়লে তবেই নতুন কেউ জায়গা পান। গড়ে বছরে ৬০-৯০ জন নতুন সদস্য হন।