লাদাখে ঢুকেছিল চিন! কোন রহস্য লুকিয়ে নারাভানের স্মৃতিকথায়, কেন প্রকাশের অনুমতি দিচ্ছে না মোদি সরকার?
৩৫টি বই প্রকাশের অনুমতি, আটকে শুধু নারাভানের আত্মজীবনী, কেন এই বইটিই হাতিয়ার রাহুল গান্ধীর?
সেই অপ্রকাশিত গ্রন্থই এখন হাতিয়ার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি প্রাক্তন সেনাপ্রধানের সেই অপ্রকাশিত গ্রন্থ থেকে কিছুটা উদ্ধৃতি তুলে পড়ার চেষ্টা করছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। বিরোধী দলনেতা বলেন, “জেনারেল নারাভানে বলছেন, কৈলাশ রেঞ্জে চিনা সেনা ভারতের অবস্থানের ১০০ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল…।” এর পর আর কিছু বলতে দেওয়া হয়নি রাহুলকে।
আরও পড়ুন:
বিরোধী দলনেতা এতদূর বলার পরই চড়া সুরে প্রতিবাদ শুরু করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। শাসক শিবির থেকে শুরু হয় চিৎকার। পালটা দেয় বিরোধী বেঞ্চও। রাজনাথ দাবি করেন, সংসদে এমন কোনও গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা যায় না যেটা প্রকাশিতই হয়নি। উঠে দাঁড়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমনকী, স্পিকারও রাহুলকে বলার অনুমতি দেননি।
মজার কথা হল, এরপর থেকেই মোদি সরকারকে আক্রমণের ক্ষেত্রে রাহুলের মূল হাতিয়ার হয়ে গিয়েছে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বই ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি।’ রোজ সংসদে ওই বইটি হাতে নিয়ে যান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেলেই তাঁর হাতে বইটি উপহার হিসাবে ধরিয়ে দিতে চান তিনি। সঙ্গে মুখে স্লোগান, 'যা ঠিক মনে হয় করুন।' এই পরিস্থিতিতে অস্বস্তি এড়াতে আর লোকসভামুখো হননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।
আরও পড়ুন:
কিন্তু কী এমন আছে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের ওই বইতে যা কিনা অস্বস্তি বাড়াতে পারে কেন্দ্র সরকারের। আর কেনই বা বইটি এতদিনেও প্রকাশের অনুমতি দিচ্ছে না প্রতিরক্ষামন্ত্রক? জানা গিয়েছে, আপাতত সেনার আতশকাচের তলায় রয়েছে প্রাক্তন প্রধানের ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’। সবুজ সংকেত না দেওয়া পর্যন্ত সেটি প্রকাশ্যে আনতে বারণ করা হয়েছে প্রকাশককে।
প্রাক্তন সেনাপ্রধান তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ২০২০ সালের ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে আগ্রাসন চালাচ্ছিল চিনের সেনা। কৈলাস রেঞ্জে চিনা সেনা ভারতীয় পজিশন থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে চলে এসেছিল। নারাভানে লিখছেন, ‘সেসময় রাজনাথ সিং আমাকে বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছেন। এটা সেনার সিদ্ধান্ত। যা ঠিক মনে হয় তাই করুন। আমার হাতে একটা গরম আলু তুলে দেওয়া হয়েছিল।’
বস্তুত নারাভানে ইঙ্গিত করেছেন, তাঁকে কঠিন দোটানায় ফেলে দিয়েছিল সরকার। প্রশাসনিক স্তরে যে সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে নেওয়া উচিত ছিল, সেটাই সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় সেনাপ্রধানের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ওই ঘটনার পর ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকা এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায় ভারত ও চিনের সেনা। তাতে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়। আহত হন বহু সেনা জওয়ান। যদিও চিনের তরফে সরকারিভাবে কোনও হতাহতের খবর জানানো হয়নি।
কেন এতদিন ধরে বইটি প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না? কেনই বা সংসদে ওই বইয়ের উদ্ধৃতি পড়ার সুযোগ দেওয়া হল না? এই প্রশ্নগুলি রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলছে সরকারকে। মজার কথা হল, যতদিন ধরে নারাভানের ওই স্মৃতিকথা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে আটকে সেই সময় একই ধরনের ৩৫টি বই প্রকাশের অনুমতি দিয়েছে সরকার। আটকে শুধু ওই আত্মজীবনীটিই। রাহুল গান্ধী বলছেন, এতেই স্পষ্ট যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আপস করতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে...