১ কার্তিক  ১৪২৬  শনিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

১ কার্তিক  ১৪২৬  শনিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:  বাঙালির সেরা উৎসবকে সামনে রেখে বাংলায় বিজ্ঞাপন। অথচ তার আগা থেকে গোড়া – সবটাই অবোধ্য। দুর্গাপুজোর আবহে এমনই এক বড়সড় গন্ডগোল ঘটিয়ে আমবাঙালির কাছে নিন্দিত নামী রং প্রস্তুতকারক সংস্থা নেরোল্যাক। রং আর পরিবেশ বান্ধব বার্তা দিয়ে বাঙালির মন জয় করতে গিয়ে নেরোল্যাক কর্তারা একেবারে হাসির খোরাক বনে গেলেন!

[আরও পড়ুন: মহিলা পরিচালিত পুজোগুলি নিয়ে এবার ‘বাংলার দুগ্গা’ ফোরাম, ঘোষণা চন্দ্রিমার]

আসুন, এবার চোখ রাখি নেরোল্যাকের পুজোর বিজ্ঞাপনে। এক জনপ্রিয় বাংলা দৈনিকে প্রকাশিত এই রং সংস্থার পুজোর বিজ্ঞাপনের লেখা – এই পুজো প্লাস্টিক দান করুন, নতুন বঙ্গ গড়ুন। পাঠক, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বাক্যগঠন শেখা যে কোনও শিশুর কাছেও এই ত্রুটি হাস্যকর। এ তো গেল বিজ্ঞাপনী বাক্য গঠনে গোড়ায় গলদ। এবার নজর দিন ছবিতে। দেখা যাচ্ছে, একটি বেঞ্চ, তার একটি দিক প্লাস্টিকে ঢাকা। শেষপ্রান্তে বোতলের মুখ। যিনি পড়তে জানেন না, তার কাছে এ ছবি কোনও অর্থই বহন করে না। শুধু কি তার কাছে? এ ছবি থেকে কোনও গূঢ়ার্থ বোধহয় উদ্ধার করতে পারবেন না তাবড় শিল্পী কিংবা সূক্ষ্ম শিল্পবোধসম্পন্ন কোনও মানুষই।
গলদের তালিকা আরও লম্বা। আসুন বিজ্ঞাপনের বাঁ দিকে উপরের কোণায়। মা দুর্গার একটি ছবি। চোখ পড়তেই ত্রুটি খুঁজে পেলেন নিশ্চয়ই? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। দশভুজা দেবীকে অনায়াসে বাংলা সংস্কৃতি থেকে শত যোজন দূরে থাকা বিজ্ঞাপনী কর্তারা বানিয়ে দিয়েছেন অষ্টভুজা! 
আসলে এসব সমস্যার সূত্রপাত বহু আগে।এই ভুল বাক্যগঠন, বানান, সর্বোপরি জনগণের পক্ষে সম্পূর্ণ অবোধ্য, বহুমূল্য একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথা না থাকতেই পারে। কারণ, তাঁরা সম্ভবত বাংলার দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞাপন বানাননি। এমনকী অ-আ-ক-খ টুকু শিখে নেওয়ার পরিশ্রমও করেননি। খুব দায়সারাভাবে যে কাজটি করা হয়েছে, তা তো জায়গায় জায়গায় স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপনী কাজের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ব্যক্তিদের একাংশের মত, এধরনের সর্বভারতীয় সংস্থা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ভাষায় বিজ্ঞাপনটি প্রথমে তৈরি করে। তারপর বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় তা অনুবাদ করার জন্য কোনও ভাষা বিশেষজ্ঞ নয়, সাহায্য নেন যন্ত্রের। তার উপর যে তাঁদের বিশাল ভরসা। তো সেই যন্ত্র যা বলে দিচ্ছে, সেটিই প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে। ভাষার সঙ্গে এমন চূড়ান্ত একটা ষড়যন্ত্র চলছে! চলছেই।

[আরও পড়ুন: কলকাতার যুবতীর টুইটার অ্যাকাউন্টে পাক হ্যাকারদের হানা, বিতর্কিত মেসেজ প্রধানমন্ত্রীকে]

ভারত বহুভাষার দেশ। উত্তরের বর্ণ, শব্দ দক্ষিণ বোঝে না। পূর্বাঞ্চলের বাক্য বোধগম্য হয় না পশ্চিমের। তবু সেই পূব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণকে জোর করে এক করতে চাইছেন আজকের রাষ্ট্রনেতারা। ১৩০ কোটির জন্য বেঁধে দিতে চাইছেন একটিই ভাষা – হিন্দি। বাংলা কিংবা অন্য কাজে ভাষিক রাজনীতির চালেই কি এই কৌশল? নেরোল্যাকের সাম্প্রতিকতম বিজ্ঞাপনটি এই প্রশ্ন যেন ঢুকিয়ে দিল আমবাঙালির মজ্জায়। এই সংকল্প গ্রহণেও বোধহয় উদ্দীপ্ত করল – মাতৃভাষার এমন অবমাননায় যারাই দায়ী, তারাই বয়কটযোগ্য।

 

 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং