২৬ আষাঢ়  ১৪২৭  শনিবার ১১ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

দূরত্ব বজায় রেখেও হবে না হালখাতা? পয়লা বৈশাখের আগে মনখারাপ গৃহবন্দি বাঙালির

Published by: Sayani Sen |    Posted: April 13, 2020 8:08 pm|    Updated: April 13, 2020 8:13 pm

An Images

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ‌্যায়: কথায় বলে, হাতে পাঁজি মঙ্গলবার। কিন্তু করোনার কল্যাণে এ বছর বুঝি সে প্রবাদ খাতায় কলমেই রয়ে যাবে। কোনদিন যাত্রা শুভ, কোন লগ্নে কুমড়ো ভক্ষণ নিষিদ্ধ, এসব জানার জন্য চটজলদি মুশকিল আসানের দেখা পাওয়াই মুশকিল হবে নতুন বাংলা বছরে। লকডাউনের দৌলতে বাঙালির দিনযাপনের চিরসঙ্গী সেই পঞ্জিকার প্রবেশও কার্যত বন্ধ হতে চলেছে বাড়ির কুলুঙ্গিতে। পয়লা বৈশাখের হালখাতার সঙ্গে পঞ্জিকার পিঠোপিঠি সম্পর্ক। এ বছর হালখাতার পাঠ তো উঠেই যেতে বসেছে। আর গুদাম ভরতি ছাপা পঞ্জিকা থাকলেও আমগেরস্তের হাতে তা তুলে দেওয়ার জন্য কোনও পরিবেশক পাওয়া যাচ্ছে না। লকডাউনের পালা না ফুরোলে পরিবেশকও মিলবে না বলে ধরে নিয়েছেন প্রকাশকরা।

ফলে ঘরে ঘরে সমস্যা। বিয়ে-পৈতে-অন্নপ্রাশনের দিন ঠিক করতে হলে পঞ্জিকা ‘মাস্ট’। সেটি হাতের গোড়ায় মজুত না থাকলে সামাজিক উৎসবের কোনও ছকই যে কষা যাচ্ছে না। “এখন না হয় সব বন্ধ। কিন্তু লকডাউন তো একদিন শেষ হবে। করোনাও থাকবে না। বছরখানেক বাদেও যদি কারও বিয়ের দিন ঠিক করতে হয়, পঞ্জিকা ছাড়া চলবে কী করে?”- খেদ এক প্রকাশকের। যা অবস্থা তাতে পয়লা বৈশাখ তো নয়ই, কবে ছাপা পাঁজি হাতে আসবে তার কোনও হদিশ নেই। ধর্মাচরণের এই পৌরাণিক প্রক্রিয়ায় বড় ছেদ টানবে ‘সোশ্যাল গ্যাদারিং’-ও। ভিড় এড়াতে সেসবেও মানা।

Panjika

[আরও পড়ুন:‘সন্ত্রাসের চেয়েও ভয়াবহ করোনা ভাইরাস’, বলছেন বাংলায় আটকে পড়া কাশ্মীরি ব্যবসায়ীরা]

গুপ্ত প্রেসের কর্ণধার অরিজিৎ রায়চৌধুরি জানাচ্ছেন, সরস্বতী পুজোর সময় থেকে তাঁদের পাঁজি ছাপা শুরু হয়। বাঁধাই সেরে সবটা শেষ করতে সময় লাগে সাকুল্যে এক মাস। প্রথম লটে বই প্রকাশ হয় চৈত্রের শেষ থেকে বৈশাখের শুরুতে। আবার চাহিদা বাড়ে বিয়ের মরশুম আর দুর্গাপুজোর সময়। জানাচ্ছেন, “গোটা দেশ থেকে আমাদের পরিবেশক আসেন। দেশের বাইরেও চাহিদা থাকে। কিন্তু বিলি শুরুর মুখেই লকডাউন ঘোষণা হল। অর্ডার নিয়ে কিছুই পাঠাতে পারছি না। পাঁজি না পৌঁছলে এবার তো হালখাতাই হবে না।” বিশুদ্ধসিদ্ধান্ত মতের পঞ্জিকা ছাপা-বাঁধাইও শেষ। প্রকাশক সুপর্ণ লাহিড়ী জানাচ্ছেন, তাঁদেরও একই অবস্থা। বলছেন, “বই তৈরি। কিন্তু পরিবেশক আসতে পারছেন না বলে কিছুই পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়।” তবে তাঁরা পিডিএফ ফর্মের পাঁজি বানিয়ে ফেলেছেন। দু-তিনটি খবরের কাগজ ছাপা হচ্ছে। সেই কাগজের অফিসে পিডিএফ তাঁরা পাঠিয়ে দেবেন। সুপর্ণবাবুর কথায়, “কাগজের পাঠকরা অন্তত কাগজে আমাদের দিনপঞ্জি দেখে নিতে পারবেন।”

যদিও মার্চের শুরুতেই বাজারে চলে এসেছে পূর্ণচন্দ্র শীলের পঞ্জিকা। অন্যতম দুই প্রকাশক সুরজিৎ শীল ও মিঠু শীল জানাচ্ছেন, তাঁদের এক লক্ষ কপি ইতিমধ্যে গোটা রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে বিভিন্ন দোকানে। তবে লকডাউন উঠলেই সেসব হাতে পাবেন পাঠকরা। বেণীমাধব শীল হাফ পঞ্জিকা বের করে। সেগুলিও আগে ছেপে বাজারে চলে এসেছে। কিন্তু পাড়ার যেসব দোকানে তা পৌঁছেছে, সেসব বন্ধ। ফলে সমস্যা রয়ে গিয়েছে সেই তিমিরেই। ডিরেক্টরি ছাড়া হাত-পাঁজি বা পাঁচালি মানুষ কেনেন ট্রেনে-বাসে যাতায়াতের পথে। ছোট ছোট পাড়ার কিছু বইয়ের দোকান আর দশকর্মা ভাণ্ডারও এর প্রধান প্রাপ্তিস্থান। কিন্তু গণপরিবহণ একেবারে স্তব্ধ থাকায় পরিবেশকরা কোনও জায়গা থেকেই প্রকাশকের কাছে পৌঁছতে পারছেন না। ফলে পঞ্জিকা প্রাপ্তির গোটা প্রক্রিয়াটাই বন্ধ।

Halkhata

[আরও পড়ুন: টানা লকডাউনে বাড়ছে খাদ্য সংকট, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগী পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন]

ডিরেক্টরি কেনেন বাঙালি কিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। আর পুজো ও বিয়ের কারণে কেনেন পুরোহিতরা। এ ছাড়া বিভিন্ন বনেদি বাড়িতেও সেসব রাখা হয়। সাকুল্যে প্রত্যেক প্রকাশকই প্রথম লটে ২০-৩০ হাজার বই ছাপান। দ্বিতীয় লটের বই ছাপানো হয় দুর্গাপুজোর মুখে। সব মিলিয়ে সারা বছর প্রায় লাখখানেক বই ছাপায় প্রতিটি প্রকাশনা সংস্থা। এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান ছাড়া অন্য কোনও দোকানই খোলা যাবে না। ফলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিয়ে এসে পুজো না সারতে পারলে অলংকার  বা কাপড়ের দোকানে হালখাতাও থেমে থাকবে। চাল-ডাল বা মুদির দোকান যদিও সেসব সমস্যায় পড়বে না বলে মনে করছেন কেউ কেউ। যুক্তি, যেসব দোকান খোলা থাকবে, ছোট করে পুজো সেরে নি­তে পারবে তারা।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement