কলহার মুখোপাধ্যায়, বিধাননগর: রাস্তার মাঝে ফ্লাইওভারের পিলারে ছোট মাপের গাছ লাগিয়ে একদিন তাক লাগিয়ে দিয়েছিল এই শহর। বিস্তীর্ণ জলাশয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা উদ্যান দেখে চমৎকৃত হননি, এমন কেউ নেই। পর্যাপ্ত বনসৃজন এবং পরিবেশের খাতিরে যে যে পদক্ষেপ করণীয়, তার কোনওটাই করতে বাকি রাখেনি কলকাতার উপকণ্ঠে গড়ে ওঠা নিউটাউন। এই উদ্যোগের ফলে সর্বভারতীয় স্তরে পুরস্কার আগেও পেয়েছে এই উপনগরী। এবার আবার পেল আরও বড় আকারে। ইন্ডিয়ান গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (IGBC)) রেটিংয়ে একশোর মধ্যে বিরাশি নম্বর পেয়ে প্ল্যাটিনাম স্থানাভুক্ত হয়েছে এই সরকারি টাউনশিপ।
এই উপশহরকে ভারতের মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য স্থানে মেলে ধরতে সর্বদা নতুন পরিকল্পনার জন্ম দিয়েছে নিউটাউন পরিচালন কর্তৃপক্ষ হিডকো। তার চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন এই স্বীকৃতিপ্রাপ্তির খবরে স্পষ্টতই আনন্দিত। তাঁর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নেতৃত্বে ইকো পার্ক-সহ এই শহরের জন্য যা যা কাজ হয়েছে এবং হচ্ছে, তা সর্বভারতীয় স্তরে স্বীকৃতি লাভ করায় আমরা উৎসাহিত।” শুক্রবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে তিনি আইজিবিসির প্ল্যাটিনাম রেটিংয়ের শংসাপত্র তুলে দিয়েছেন। মন্ত্রী এই স্বীকৃতি প্রাপ্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন।
[আরও পড়ুন: ধীরে ধীরে সবুজ ফিরছে থর মরুভূমিতে, বাস্তুতন্ত্রের জন্য ভাল লক্ষণ নয়! চিন্তায় পরিবেশবিদরা]
নিউটাউন এই পুরস্কারের যোগ্য হিসেবে নিজেকে মেলে ধরল কীভাবে? কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, সবুজায়ন, পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান বজায় রাখা, একাধিক পার্ক তৈরি-সহ রেন ওয়াটার হারভেস্টিং, রুফটপ গার্ডেনে উৎসাহিত করা, ই-প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন চলাচলে জোর, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এলইডি-সহ একাধিক ব্যবস্থা সুচারুভাবে গড়ে তোলার ফলে গোল্ড থেকে প্ল্যাটিনাম স্তরে উন্নীত হওয়া সম্ভব হয়েছে। এর পাশাপাশি থাকছে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় এবং অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণের চিন্তাভাবনাও। সাইকেল ব্যবহারের জন্য নাগরিকদের জোর দেওয়া হয়েছে। এতে নিউটাউনে দূষণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহ করে এবং সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলে শহরকে সাফসুতরো রাখার নিরন্তর প্রচেষ্টা চলে। নিকাশির জলকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে রাস্তা ধোয়া, উদ্যান পরিচর্যার মতো কাজে ব্যবহার করে অপচয় রোধ করা গিয়েছে।
শহরের মধ্যে থাকা জলাশয়গুলিকে সঠিকভাবে রেখে দেওয়া এবং দেখভাল করা হয়। এই মুহূর্তে ৩০ শতাংশ খালি জমি সবুজায়নের জন্য এবং নাগরিকদের চলাফেরার জন্য ব্যবহৃত হয়। যদি ব্যক্তিগতভাবে বা কোনও সংস্থা গ্রিন বিল্ডিং গড়ে তুলতে চায় তাহলে তাদের উৎসাহিত করতে ১০ শতাংশ কর ছাড়ের ঘোষণা রয়েছে। বৃষ্টির জল জমানোর ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করলেও কর ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নিউটাউন কর্তৃপক্ষ হিডকো।সব মিলিয়ে সঠিক পরিকল্পনার পথে হেঁটে সর্বভারতীয় পুরস্কারের তকমা আদায় করে নিয়েছে এই উপনগরী। ভারতের চারটি শহর এই তালিকাভুক্ত মাত্র।
[আরও পড়ুন: মহাপ্লাবনের আশঙ্কা! সুমেরুর ৫০ হাজার কোটি টন বরফ গলে মিশেছে সমুদ্রে]
সর্বশেষ খবর
-
হাঁটা নাকি যোগ! ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমাতে কোনটা বেশি জরুরি জানেন
-
শনি-রবি শিয়ালদহ ডিভিশনে বাতিল একাধিক লোকাল, তালিকায় কোন কোন ট্রেন?
-
টিআরপিতে বিরাট রদবদল! বেঙ্গল টপার ‘জোয়ার ভাঁটা’, সেরা দশে কোন কোন বাংলা মেগা?
-
‘নব্য তৃণমূলে’র উত্থানে ৫ জেলায় লন্ডভন্ড ঘাসফুল! কে কোন দিকে গেলেন?
-
‘কালা হিরণ’ ঘোষণা হতেই মুণ্ডচ্ছেদের হুমকি! সলমনের আইনি নোটিস ছিঁড়ে পালটা চ্যালেঞ্জ প্রযোজকের