২৮ আশ্বিন  ১৪২৬  বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

কোয়েল মুখোপাধ্যায়: রোগ ধরা পড়তেই ডোজ পড়েছিল ওষুধের। সঙ্গে সঙ্গে কাজও হয়েছিল তাই। সে যাত্রায় মহাবিপদ এড়ানো গিয়েছিল কোনওক্রমে। এখন অবস্থা একটু ‘বেটার’! তবে তা ভেবে নিশ্চিন্ত হয়ে, ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দিলেই কিন্তু চিত্তির!

সোমবার, বিশ্ব ওজোন স্তর সংরক্ষণ দিবসে ঠিক (ওয়ার্ল্ড ওজোন ডে) এই হুঁশিয়ারিটাই দিলেন বিজ্ঞানীরা। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দিনটি পালিত হচ্ছে পূর্ণ মহিমায়। এ বছরের থিম ‘সুস্থতার পথে’। কিন্তু তারও বহু আগে থেকে এ নিয়ে সচেতন হয়েছে বিশ্ব। আরও স্পষ্ট করে বললে, আশির দশকে। একে উষ্ণায়ন, তায় দূষণ- এই সব কিছুই থাবা বসিয়েছিল বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, পৃথিবীর উত্তর এবং দক্ষিণ মেরু, দু’জায়গাতেই ক্রমশ পাতলা হয়ে আসছিল ওজোন স্তর। তৈরি হয়েছিল বড়সড় ছিদ্র। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখেছিলেন বিজ্ঞানীরা। তার কারণ, ওজোন গ্যাস সূর্যের অতি-ক্ষতিকারক আলট্রাভায়োলেট রশ্মিকে শুষে নেয়। আটকে দেয় কসমিক রশ্মিকেও। এবার এই দুই রশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্যানসার, ফুসফুস এবং ইমিউন সিস্টেমের রোগ-সহ আরও নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে গোটা বিশ্বে ফি বছর বহু মানুষের মৃত্যু হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, ইতিমধ্যে শুধু ভারতেই মৃতের সংখ্যা আড়াই লক্ষেরও বেশি। আর সেই গ্যাসের স্তরেই কি না দেখা গিয়েছে ফাটল! আর এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছিল দুনিয়া। রোগমুক্তির উপায় খুঁজতে বসেছিল একযোগে। চলেছিল নানাবিধ গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা। শেষমেষ জানা যায়, প্রকৃত ভিলেন হল ক্লোরিন, যার উৎপত্তি ‘ক্লোরোফ্লুরোকার্বন’ (সিএফসি) থেকে। রেফ্রিজারেটর এবং এয়ার কন্ডিশনার থেকে নির্গত গ্যাস, হেয়ার স্প্রে, রুম ফ্রেশনার, কিছু কিছু কসমেটিকস প্রভৃতি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী থেকে ক্লোরোফ্লুরোকার্বন নির্গত হয়। এমনকী টায়ার এবং প্লাস্টিক পোড়ালেও এটি বেরোয়। এরপরই সিএফসি’কে নিষিদ্ধ করতে ১৯৮৭ সালের ২৬ আগস্ট একযোগে স্বাক্ষরিত হয় মন্ট্রিয়ল চুক্তি। করা হয় আরও কিছু পদক্ষেপও। এ সবের ফলে যে কিছুটা হলেও কাজ হয়েছে, তারই প্রমাণ মিলেছে রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্টে। জানা গিয়েছে, ২০০০ সালের পর থেকে দশকপিছু অন্তত ১ থেকে ৩ শতাংশ হারে উন্নতি হচ্ছে ওজোন স্তরের।

[ আরও পড়ুন: ইসরোকে সাহায্য করতে উদ্যোগ, ল্যান্ডার বিক্রমের ছবি তুলবে নাসার অরবিটার! ]

কিন্তু তা বলে আত্মসন্তুষ্টিতে ভোগার কোনও জায়গা নেই বলেই সতর্ক করছেন ইন্ডিয়ান মেটিরিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের (আইএমডি) ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “একটা বিপদ হয়েছিল। সেটা আমরা কাটিয়ে উঠেছি। তাই বলে এবার হাত গুটিয়ে বসে থাকব, তা তো হয় না। পরিবেশকে বাঁচাতে মানুষ সারাবছরই গাছ লাগায়। যদি হঠাৎ একদিন কেউ ভাবতে শুরু করে, পরিবেশ খুব সুন্দর হয়ে গিয়েছে, এবার একটু গাছ কাটা উচিত, তা তো ঠিক নয়!” সঞ্জীববাবুর কথায়, “সিএফসির ব্যবহারে রাশ টানতেই হবে। আজকাল রেফ্রিজারেটরগুলোয় আর সিএফসি ব্যবহার হয় না। বদলে ব্যবহার হয় অন্য একটি কম্পাউন্ড, যা ওজোন স্তরের জন্য ক্ষতিকারক নয়। সেই জন্যই এইটুকু উন্নতি হয়েছে, যা আমাদের ধরে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, দু’ধরনের ওজোন হয়। গুড এবং ব্যাড। ভাল ওজোন তৈরি হয় বায়ুমণ্ডলের স্ট্র‌্যাটোস্ফিয়ারে, স্বাভাবিক পদ্ধতিতে। তা যত বাড়বে, তত ভাল। আর মন্দটা হয় ট্রপোস্ফিয়ারে, গাড়িঘোড়া থেকে নির্গত দূষিত গ্যাসের জন্য। কাজেই দূষণ কমাতে হবে। পাশাপাশি সিএফসির উপর যে ‘ব্যান’ রয়েছে, সেটাও ধরে রাখতে হবে। কাজ হয়েছে বলে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার কোনও মানে নেই। অনেকটা পথ এখনও চলা বাকি।”

[ আরও পড়ুন: ‘নদী বাঁচাতে আসুন আপনারাই’, সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জলমানবের ]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং