Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
মেরু ভাল্লুক

বিশ্ব উষ্ণায়নের অভিশাপ, নিজের ছানাকেই খেয়ে বেঁচে রয়েছে মেরুভল্লুকরা!

খাদ্য সংকটের জেরে বদলাচ্ছে খাদ্যাভ্যাস, বলছে গবেষণা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০, ১৭:৪০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০, ১৭:৪০

options
link
বিশ্ব উষ্ণায়নের অভিশাপ, নিজের ছানাকেই খেয়ে বেঁচে রয়েছে মেরুভল্লুকরা! zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: খিদের জ্বালায় নিজের সন্তানকে ভক্ষণ করছে, এমন নিদর্শন রয়েছেই প্রাণিজগতে। প্রকৃতির নিয়মেই এমনটা ঘটে চলেছে। এবার সেই তালিকায় সংযোজিত হল নয়া নাম – মেরু ভাল্লুক। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিশাপের মুখে যোগ্যতমের উদবর্তন রীতিতে নিজেদের সন্তানই খাদ্য হয়ে উঠছে মেরু ভাল্লুকদের কাছে। সম্প্রতি মস্কোর একদল গবেষক এই তথ্যই তুলে ধরেছেন। যা দেখে ওদের আয়ু নিয়ে নতুন করে চিন্তিত পশুপ্রেমীরা।

polar-bear1

Advertisement

বিশ্ব উষ্ণায়নের ধারা অব্যাহত। নতুন দশকের প্রথম থেকে পৃথিবীর তাপামাত্রা বেড়েই চলেছে। সকলকে বিস্মিত করে দুই মেরুপ্রদেশের চাঁই চাঁই বরফ গলছে। আন্টার্কটিকায় বরফের বুক চিরে বয়ে চলেছে নদী। উষ্ণায়নের দাপট থামানো যাচ্ছে না কিছুতেই। অঙ্ক কষে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, সেই দিন আর বেশি দূরে নেই, যখন মেরুপ্রদেশের বরফ গলে সমুদ্রের জলতল বেড়ে উপচে উঠবে, ভাসিয়ে দেবে বহু শহরকে। পরিবেশ বদলের এই নিরন্তর প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে পালটে যাচ্ছে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা। অভিযোজনের লক্ষ্যে অভ্যেসগুলো বদলে নিতে হচ্ছে মেরু ভাল্লুক, পেঙ্গুইনদের।

[আরও পড়ুন: মিলল দ্বিতীয় চাঁদের হদিশ, পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে ‘মিনি মুন’]

কী সেই বদল? তা সরেজমিনে দেখতে গিয়েই বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এল চমকপ্রদ বিষয়। দেখা গেল, বেঁচে থাকার তাগিদে মেরু ভাল্লুকের দল নিজেদের সন্তানদেরই গ্রহণ করছে খাদ্য হিসেবে। মস্কোর এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেরু ভাল্লুক বিশেষজ্ঞ ইলিয়া মর্দভিনস্তেভ জানাচ্ছেন, “মেরু ভাল্লুকরা যে মাংসাশী, তা দীর্ঘকাল আগে প্রমাণিত। কিন্তু এখন যা হচ্ছে, তা বিরল বলেই মনে হচ্ছে। স্বজাতিকে ভক্ষণের প্রবণতা বাড়ছে ওদের মধ্যে। এ বিষয়ে আরও বিশদে গবেষণা প্রয়োজন।” কিন্তু কেন এই প্রবণতা, সেই উত্তরও খুঁজে বের করেছেন গবেষকরা। তাঁদের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে মেরু প্রদেশে। সাধারণত বরফজলের নিচে থাকা সিল শিকার করে খেয়ে এরা অভ্যস্ত। কিন্তু বরফ গলে যাওয়ায় সিলেরাও সমুদ্রের দিকে চলে যাচ্ছে। ফলে খাদ্য সরবরাহ কমছে। পূর্ণবয়স্ক মেরু ভাল্লুকরা স্ত্রী এবং শাবকদের আক্রমণ করে তাদেরই মাংস ছিঁড়ে খাচ্ছে। আরও চমকপ্রদ তথ্য, কখনও শিকার মেরে বরফের তলদেশে জমা করে রাখছে, ভবিষ্যতের খাদ্যের সঞ্চয় হিসেবে।

[আরও পড়ুন: অক্সিজেন ছাড়াই জীবনধারণ! প্রাণী জগত নিয়ে ধারণা বদলে দিতে চলেছে নব আবিষ্কৃত পরজীবী]

এ তো গেল প্রকৃতিগত কারণ। কিন্তু মেরু ভাল্লুকদের খাদ্যাভ্যাস বদলের জন্য মানুষের দায়ও কিছু কম নয়। আর্কটিক অঞ্চল বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার। সেই সম্পদ উত্তোলনে অভিযান আরও জোরদার হয়েছে বৃহৎ ব্যবসায়ীর মহলের তরফে। ফলে সেই জায়গাগুলি থেকে উৎখাত হতে হচ্ছে সিল বা মেরু ভাল্লুকদের। সেটাও খাদ্য সংকটের একটা কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মেরু ভাল্লুকদের স্বভাব বদলের এসব নয়া তথ্যে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের কপালে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.