বিচ্ছিন্নতার উনবিংশ শতাব্দী। বিগত দেড়শো বছরে শিল্প বিপ্লবের ছোঁয়ায় পাওয়ার হাউস হয়ে উঠেছে আমেরিকা, রাশিয়া, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্সের মতো দেশগুলি। দুর্বলের উপর সবলের আগ্রাসন চলছে অহরহ। ফলত খুচরো যুদ্ধ ছিলই। এর মধ্যেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) অভিশাপ অস্থির করে দিয়েছিল গোটা পৃথিবীকে। এই বৈশ্বিক সংঘাত, অমানবিক বেদনার ইতিহাস ডিঙিয়ে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) ফুটবলের প্রথম আসর বসাতে কালঘাম ছুটেছিল নিয়ামক সংস্থা ফিফার। কেবল রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে দ্বন্দ্বই কি ছিল কারণ?
সমস্যা ছিল বিবিধ। এখানে বলে রাখা ভালো, ফিফা গঠিত হয় ১৯০৪ সালে। প্রথম থেকেই ফুটবল নিয়ামক সংস্থাটি ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর আয়োজনে তৎপর হয়েছিল। অনেক বার চেষ্টা করেও বিশ্বের সমস্ত প্রান্তের দেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আসর বসাতে পারেনি তারা। প্রথম কারণ— ‘শত্রু’র সঙ্গে ফুটবল খেলতেও রাজি হচ্ছিল না দেশগুলি। এছাড়াও বিরাট মাপের টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বপ্ন দেখলেও ততখানি আর্থিক শক্তি ছিল না সদ্য় গঠিত ফিফার। আজকের বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নিয়ামক সংস্থা তখন ছিল বাস্তবিক ‘গরিব’। গল্প এখানেই শেষ হচ্ছে না।
সব বাঁধা ডিঙিয়ে ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আসর বসেছিল তৎকালীন আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম শক্তি উরুগুয়েতে। কিন্তু আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে ইউরোপের অনেক দেশই লাতিন আমেরিকায় যেতে রাজি ছিল না। মনে রাখতে হবে, সেকালে সমুদ্রপথে, জাহাজে চেপে যাত্রা করতে হত। সহজ ছিল না মাসাধিক কাল ধরে কালাপানির দুলুনি। এই কারণেই প্রথম বিশ্বকাপে যে ১৩টি দেশ অংশ নেয়, তার মধ্যে ৭টি দেশই ছিল আমেরিকা মহাদেশের। ইউরোপ থেকে অংশ নিয়েছিল ৭টি দেশ।
আরও পড়ুন:
গত দুই অলিম্পিকে সোনা জেতা উরুগুয়ে ছিল প্রথম বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ান দল। যদিও ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি বড়াই হয় তাদের।
প্রতিযোগিতা শুরুর দু’মাস আগে যোগদানের ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়েছিল ইউরোপের চার দেশ। বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া এবং যুগোস্লোভিয়া একটি জাহাজে করে উরুগুয়ের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিল। আটলান্টিক পেরিয়ে লাতিন আমেরিকায় পৌঁছতে অনেকটাই সময় লেগেছিল তাদের। যার জেরে বিশ্বকাপ পূর্ববর্তী অনুশীলন করতে পারেননি ওই চার দেশের ফুটবলাররা।
গত দুই অলিম্পিকে সোনা জেতা উরুগুয়ে ছিল প্রথম বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ান দল। যদিও ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি বড়াই হয়। আজকে যেমন মেসির খেলা দেখতে আমেরিকায় পোঁছে গিয়েছেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী, একশ বছর আগে প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতেও উরুগুয়েতে ভিড় জমিয়েছিলেন অসংখ্য আর্জেন্টিনার সমর্থক। সেই ম্যাচে প্রথমে গোল করেও হাফ টাইমে ২-১ ফলে পিছিয়ে পড়েছিল উরুগুয়ে। যদিও চাপের মধ্য়েই ৪-২ গোলে জিতে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় তারাই।
উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ চলেছিল ১৩ জুলাই থেকে ৩০ জুলাই অবধি। ১৮টি ম্যাচ খেলা হয়েছিল তিনটি মাঠে। মোট গোল হয়েছিল ৭০টি। একাই ৮টি গোল দিয়ে বিশ্বরেকর্ড করেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার গিয়ের্মো স্তাবিলে। একটি ম্যাচে হ্যাট্রিক করেন তিনি। সেটাই ছিল বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাট্রিক। সবচেয়ে বড় কথা, হাজার বাঁধা ডিঙিয়েও নির্বিঘ্নে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পেরেছিল ফিফা। গ্যালারিতে বসে ৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫০০ দর্শক প্রথমবার চাক্ষুষ করেছিল ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’, ওরফে বিশ্বকাপ ফুটবল।
সর্বশেষ খবর
-
মমতার আমলে আইন মেনে ভাঙা হয়নি পুরুলিয়া পুরবোর্ড! প্রশাসক পদ খারিজ করল হাই কোর্ট
-
ডু অর ডাই! ব্যর্থতার পরিসংখ্যান ভুলে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া রোনাল্ডো
-
সকালেই মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা, সন্ধ্যায় লখনউয়ের ‘জতুগৃহে’ ঝলসে মৃত্যু কলকাতার যুবতীর
-
বিশ্বকাপের গ্যালারিতে সাহসী পোশাকে প্রাক্তন মেয়র, ট্রোল হতেই বললেন, ‘এগুলো খুলতে পারব না’
-
‘শ্রদ্ধার্ঘ্য’ ভাতা নিয়ে অভিষেকের দুর্নীতি! ফের থানায় অভিযোগ দায়ের ববির
