পাকিস্তান: ৩৩৮/৪ (ফাখার-১১৪, আজহার-৫৯, হাফিজ-৫৭*)
ভারত:
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কে ফাখার জামান! কে বাবর আজম! চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সৌজন্যেই এইসব নতুন নতুন পাক ক্রিকেটারের নাম জানতে পেরেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তাই চলতি টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ‘আন্ডারডগ’ তকমাই জুটেছিল পাকিস্তানের কপালে। ভাল ফল করেও বদলায়নি ছবিটা। ফাইনালে পৌঁছনোয় অতর্কিতেই ‘অঘটন’ শব্দটি জুড়ে দেওয়া হয় তাদের সঙ্গে। কিন্তু অঘটন বারবার ঘটে না, বড় ম্যাচে পারফরম্যান্সই কথা বলে। রবিবাসরীয় ওভালে এটাই বুঝিয়ে দিল পাক ব্যাটিং-অর্ডার।
[চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭ ফাইনাল LIVE: ভারতের সামনে টার্গেট ৩৩৯ রানের]
প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পৌঁছেছে পাকিস্তান। লড়াই গতবারের চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, গত ৪ জুনই গ্রুপ পর্যায়ে বিরাটবাহিনীর কাছে পর্যুদস্ত হয়েছিল এই দলটি। কে বলবে, ফাইনালে খেলছে একই দল। ৪ জুন ও ১৮ জুনের পাকিস্তান দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। কোচ মিকি আর্থার বলছিলেন, “সেই ম্যাচ অতীত। নতুন করে সেজে উঠেছি আমরা।” কিংবদন্তি পাক ক্রিকেটার ইমরান খানও বলছিলেন, ঘুরে দাঁড়ানো পাকিস্তান অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। বাইশ গজের পোড় খাওয়া প্রাক্তনরা খুব একটা ভুল বলেননি।

কেনিংটন ওভালে জ্বলে উঠলেন পাক ওপেনাররা। মাত্র চার নম্বর ওয়ানডে ম্যাচ। তার উপর আবার ভারত-পাক হাইভোল্টেজ ম্যাচের চাপ। তাতেও মাথা ঠান্ডা করে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করলেন ফাখার জামান। চতু্র্থ ওভারে আট রানের মাথায় আউট হয়ে গিয়েও নো বল হওয়ায় লাইফলাইন পেয়ে যান। আর সেই সুযোগ পুরোদমে কাজে লাগান তিনি। ১২টি চার ও তিন ছয় হাঁকিয়ে ১১৪ রানের অসামান্য ইনিংস খেলে ফিরলেন। উলটো দিকে, ৫৯ রান করে যোগ্য সঙ্গ দিলেন আজহার আলিও।

কিন্তু প্রশ্ন হল, অনভিজ্ঞ পাক টপ-অর্ডার ভাঙতে এমন করুণ হাল কেন হল ভারতীয় বোলারদের? বুমরাহ, অশ্বিন, জাদেজারা যখন ক্লিক করছেন না, তখন বিরাট কেন স্ট্র্যাটেজি বদলালেন না? কেন যুবরাজ সিংকে দিয়ে একটাও ওভার করানো হল না। কেন ৩৮ ওভারের পর আনা হল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া কেদার যাদবকে? শুধু তাই নয়, এদিন অতিরিক্ত ২৫ রান দিয়ে পাকিস্তানকে বড় স্কোর করতে অনেকখানি সুবিধা করে দিলেন ভারতীয় পেসার ও স্পিনাররাই। হার্দিক পাণ্ডিয়ার বোলিংয়ের কথা যত কম বলা যায়, তত ভাল। অফস্টাম্পের বাইরেই বল করে গেলেন তিনি। বলার মধ্যে কেবল ভুবনেশ্বর কুমার। দু’টি মেডেন-সহ ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন তিনি।
ওভালে পাকিস্তানের অতীত রেকর্ড ভাল নয়। আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের থেকে অনেক পিছিয়ে সরফরাজরা। ফাইনাল শুরুর আগে ইত্যাদি, প্রভৃতি নানা পরিসংখ্যান ঘেঁটে বের করা হয়েছে। আর তাতেই ভিত্তি করে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ থেকে খোদ আইসিসি, ফাইনালের লড়াইয়ে সকলেই বিরাটবাহিনীকে ফেভরিট ধরেছিল। কিন্তু অতীত রেকর্ড দিয়ে নয়, ক্রিকেটে সাফল্য আসে সেদিনের পারফরম্যান্স দিয়ে। এদিন সেটাই প্রমাণ করলেন ফাখাররা। ধারে ও ভারে এগিয়ে থাকা টিম ইন্ডিয়াকে বেশ চাপে ফেলে দিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা। এমন মারকাটারি যুদ্ধের পর ফল যাই হোক না কেন, তাঁদের সঙ্গে অন্তত ‘অঘটন’ শব্দটি আর যে যুক্ত হবে না, এটা নিশ্চিত।
সর্বশেষ খবর
-
বিপদের দিনে গয়নাই পরম বন্ধু, মধ্যবিত্তের সংকট মোচনে রেকর্ড গড়ল স্বর্ণঋণ
-
শূন্যের গেরো কাটলেও জনবিচ্ছিন্নতা থেকে বেরতে পারেনি দল, আত্মসমালোচনা সিপিএমের
-
পানীয় জল থেকে প্লাস্টিক সরাবে তেঁতুলের বীজ! তাক লাগানো আবিষ্কার ভারতীয় পড়ুয়াদের
-
‘আমি নেতা নই…’, ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ নিয়ে বোমা ফাটালেন দিলজিৎ!
-
মার্কিন তারকা লাল কার্ড দেখতেই ১০ কোটির ফ্রি পিৎজা পেলেন সমর্থকরা! কেন এমন সিদ্ধান্ত সংস্থার?