ট্র্যাভিস হেড নামটা শুনলেই রীতিমতো আঁতকে ওঠেন ভারতীয় সমর্থকরা!
২০২৩-র বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন ফাইনাল হোক কিংবা আহমেদাবাদে ওয়ান ডে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ভারতের থেকে দুটো বিশ্বজয়ের তাজ কেড়ে নেওয়ার এক এবং একমাত্র কারণ হেড। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার নিয়ে ভারতীয়দের আতঙ্ক এখনও কাটেনি।
আরও পড়ুন:
তবে একটা কথা শুনলে ভারতীয় সমর্থকরা বেজায় খুশি হবেন। অভিষেক শর্মার ব্যাটিং তাণ্ডবের নেপথ্যে স্বয়ং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। খুনে ব্যাটিংয়ের পাঠ যে হেডের থেকেই শেখা ভারতীয় তারকার। ক্রিকেটের উত্তরাধিকার শুধু রান, রেকর্ড কিংবা ট্রফিতে লেখা থাকে না। কখনও কখনও তা লেখা থাকে ব্যাটিং স্টাইলে। প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার সাহসে।
অভিষেক যখন ব্যাটিং করতে নামেন, আসমুদ্র-হিমাচল শুধু রানের প্রত্যাশা নিয়ে থাকে না। অপেক্ষায় থাকে ব্যাটিং টর্নেডোর দেখার। অথচ শুনলে অবাক হতে হয় শুরুর দিকে নাকি অভিষেকের ব্যাটিং-স্টাইল একেবারে আলাদা ছিল। যে ব্যাটিং ঘরানা মারমার-কাটকাট গোত্রের ছিল না। ছিল ধৈর্যের। ক্রিজে গিয়ে আগে সময় কাটানোর। ঠিক যেন সনাতনী ঘরানা। অভিষেকের ঘনিষ্ঠমহলে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ভারতীয় তারকা ওপেনার একটা সময় একশোর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেট নিয়ে ব্যাটিং করতেন। কিন্তু আইপিএলে হেডকে দেখার পর নিজের ব্যাটিং ঘরানা সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন।
ক্রিজে দাঁড়িয়ে মাঝে মধ্যে অবাক হয়ে দেখতেন, কীভাবে বিশ্বসেরা বোলারদের বিরুদ্ধে খুনে মেজাজে ব্যাটিং করতেন হেড। কীরকম সাবলীলভাবে দু’শো-আড়াইশো স্ট্রাইক রেট নিয়ে ব্যাটিং করতেন। সেটা দেখে একপ্রকার মুগ্ধ হয়ে যান অভিষেক। ঠিক করেন, নিজের ব্যাটিং ঘরানা বদলাবেন। ব্যাটিং করবেন একেবারে হেড-স্টাইলে। সেটা করতে গিয়ে দেখলেন সাফল্য আসছে। ব্যস, আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। একের পর এক সাফল্য। বিপক্ষ টিমের কাছে ত্রাস হয়ে ওঠা। সবকিছুই এসেছে সেটা অনুসরণ করেই।
‘হাই রিস্ক’ গেম খেলতে গিয়ে অনেকবার শুরুতে আউটও হয়েছেন। কিন্তু নিজের খেলার ধরন কখনও বদলের কথা ভাবেননি। এই তো দিন কয়েক আগেও পাঞ্জাবে আন্তঃজেলা টুর্নামেন্ট কাটোচ শিল্ডে ৯১ বলে ২৩৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন। তবে শুধু টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট নয়, অভিষেকের লক্ষ্য হল দেশের সব ফরম্যাটে খেলা। ভারতীয় তারকা ওপেনারের জীবনে যুবরাজ সিংয়ের অবদান কতটা, সেটা সবার জানা। অনূর্ধ্ব উনিশ পর্যায়ের পর থেকেই যুবরাজের কাছে ট্রেনিং শুরু করেন অভিষেক। বর্তমানে পাঞ্জাবে সেই যুবরাজের কাছে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। শোনা গেল, যুবরাজ একটা এখনও অভিষেককে বারবার বলেন। নিজের শক্তিতে আরও বেশি করে ফোকাস করতে। আর কখনও নিজের উপর থেকে বিশ্বাস না হারাতে।
আইপিএলে সাফল্য পেয়েছেন। দেশের হয়ে প্রচুর রান করেছেন। অভিষেকের জীবনে স্বপ্নের রাত হল দেশের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা। যে কথা মনে পড়লে এখনও আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তিনি। একে তো ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। তার উপর বিশ্বকাপ জেতা। সেই রাতের কথা জীবনে কখনও ভুলতে পারবেন না। কিন্তু বিশ্বকাপের শুরুটা ব্যক্তিগতভাবে ভালো ছিল না তাঁর। রান পাচ্ছিলেন না। তবে ওই যে গুরুমন্ত্র। সেটা সবসময় সঙ্গে ছিল অভিষেকের-নিজের উপর আস্থা হারানো চলবে না। সঙ্গে আরও একটা জিনিস করেছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন।
যা আজও একই রকমভাবে মেনে চলেন অভিষেক।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জাতীয় পতাকায় ১৭ বার বদল, স্বাধীনতা দিবসের আগে জেনে নিন সেই ইতিহাস
-
‘নির্মল ঘোষ হলে মমতা কেন নয়?’ অভয়া কাণ্ডের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা
-
লালকেল্লায় আমন্ত্রণ পেলেও বাধা ছিল অর্থ, সুন্দরবনের সেলিমাকে বিমানে দিল্লি পাঠালেন বিধায়ক
-
দিল্লি আসছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, মার্কিন ডলারের আধিপত্য খতম!
-
পিছিয়ে পড়ে কোনওক্রমে রক্ষা, কলকাতা লিগে ইস্টবেঙ্গলকে আটকে দিল ভবানীপুর