সুকুমার সরকার, ঢাকা: দীর্ঘ জলঘোলার অবসান। বুধবার শাকিব-আল-হাসানদের সুখবর দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জানিয়ে দেওয়া হল, ক্রিকেটারদের সমস্ত দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত বোর্ড। এদিন দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান।
এদিন গণভবনে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি এবং বিসিবির পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয়ও হাজির ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিসিবি সভাপতির কাছে জানতে চান, দেশের ক্রিকেটারদের জন্য তাঁর দরজা সবসময় খোলা, তারপরও কেন না জানিয়ে ক্রিকেটাররা আন্দোলনের পথে গেলেন? নাজমুল হাসানের উত্তর, “এর আগেও আমি বলেছি ওদের দাবিগুলি মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু ওদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগই করতে পারছি না। ওরা আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করলে সমস্যার সমাধান কীভাবে হবে!”
বিসিবির কর্মকর্তারা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য অপেক্ষা করে আছেন বলেও জানা গিয়েছে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরি জানান, ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আলোচনার দরজা সবসময়ই খোলা। এদিনই বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা ছিল ক্রিকেটারদের। কিন্তু ক্রিকেটাররা বৈঠকে হাজির হননি বলেই জানা গিয়েছে।
[আরও পড়ুন: অনন্য সম্মান, নোবেলজয়ী অভিজিৎকে আজীবন সদস্যপদ দিল মোহনবাগান]
প্রসঙ্গত, ১৩ দফা দাবি পূরণের জন্য বিসিবির বিরুদ্ধে দিন কয়েক আগেই আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন শাকিবরা। ফলে আগামী মাসে শাকিবদের ভারত সফর নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। যদিও বোর্ড জানিয়েছিল, নির্ধারিত সূচি মেনেই ভারতের মাটিতে হবে সিরিজ। ক্রিকেটারদের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দেখা হবে, কারা যোগ দিচ্ছেন না। তাঁদের কী হবে, সেনিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এবার দেখার দাবিপূরণের পর শাকিবরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ান কি না।
১৩ দফা দাবিতে কী কী রয়েছে:
১. কোয়াবের বর্তমান কমিটিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
২. প্রিমিয়ার লিগ আগের মতো করতে হবে। নিজেদের ডিল করতে দিতে হবে।
৩. এবছর না হোক, পরের বছর থেকে আগের মতো বিপিএল হতে হবে, স্থানীয় ক্রিকেটারদের দাম বাড়াতে হবে।
৪. প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ফি বাড়াতে হবে, বেতন বাড়াতে হবে, ১২ মাস কোচ ফিজিও দিতে হবে, প্রতি বিভাগে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. রেমিউনারেশন বাড়াতে হবে। ভাল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা ও তাঁদের বেতন বাড়াতে হবে।
৭. দেশি সব স্টাফদের বেতন বাড়াতে হবে, কোচ থেকে গ্রাউন্ডসম্যান, আম্পায়ার সবার বেতন বাড়াতে হবে।
[আরও পড়ুন: পারফরম্যান্সই শেষ কথা, বোর্ড প্রেসিডেন্ট হয়েই কোহলি-শাস্ত্রীর প্রশংসা সৌরভের]
৮. ঘরোয়া ওয়ানডে লিগ বাড়াতে হবে, বিপিএলের আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টি লিগ করতে হবে।
৯. ঘরোয়া ক্যালেন্ডার আগে থেকেই ঠিক করতে হবে।
১০. সব লিগে ক্রিকেটারদের পাওনা টাকা সময়ের মধ্যে দিতে হবে।
১১. ফ্রাঞ্চাইজি লিগ দুইয়ের বেশি খেলা যাবে না- এমন নিয়ম তুলে দিতে হবে। সুযোগ থাকলে সবাই খেলবে।
১২. বিসিবির যে রেভিনিউ জেনারেট হচ্ছে তার একটা অংশ ক্রিকেটারদের দিতে হবে।
১৩. বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটের জন্যও একইরকম নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
সর্বশেষ খবর
-
‘চুরি করলে আত্মসর্মপণ করুন, পালিয়ে যাবেন না’, উত্তরবঙ্গে ‘তোলাবাজ’দের বার্তা শুভেন্দুর
-
বঙ্গে বসতে শিল্প! মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকে পর বিপুল বিনিয়োগের ইঙ্গিত শমীকের
-
যে চুল বাঁধে, সে অ্যাকশনের মারপ্যাঁচও জানে, ববি-অনিলের সঙ্গে যোগ্যসঙ্গত ‘আলফা’ আলিয়ার
-
থাইল্যান্ড ভ্রমণে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি ভারতীয় দূতাবাসের, প্ল্যান করার আগে জানুন খুঁটিনাটি
-
হাজার বছরের ধর্মচর্চা, আর্জেন্টিনার জার্সি নীল-সাদার নেপথ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস!